বেলাই বিল

849

বেলাই বিল মানেই শাপলার ছড়াছড়ি। কেবল চারিদিক তাকিয়ে থাকতে মন চাইবে। নদীর নীল আকাশের বুকে যেন রঙিন কারুকার্য। দূরের সবুজ, মায়াবী আকাশ, বিলের পানিতে সেই আকাশের ছায়া আর একটু পর পরই বাতাস যেন উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। সব মিলে এক রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। চারিদিকের নিস্তব্ধতা, পানির হাল্কা স্পন্দন আর ঝিঝি পোকার শব্দে অন্যরকম ভাললাগা জেগে ওঠে প্রাণে।

ঢাকার কাছে যেসব বিল রয়েছে, এর মধ্যে বেলাই বিল রূপ-সৌন্দর্যে অনন্য। এর কোনো কোনো স্থানে প্রায় সারা বছরই পানি থাকে। তবে বর্ষায় রূপ বেড়ে যায়। বিলটি আট বর্গমাইল এলাকায় বিস্তৃত। বাড়িয়া, ব্রাহ্মণগাঁও, বক্তারপুর ও বামচিনি মৌজা গ্রামঘেরা বেলাই বিল। ৪০০ বছর আগের ইতিহাসে বেলাই বিলে কোনো গ্রামের অস্তিত্ব ছিল না। খরস্রোতা চেলাই নদীর কারণে বিলটিও খরস্রোতা হিসেবে বিরাজমান ছিল। বলা হয়ে থাকে, ভাওয়ালের ভূস্বামী ঘটেশ্বর ঘোষ ৮০টি খাল কেটে চেলাই নদীর জল শেষ করে ফেলেন। তার পরই এটি বিলে পরিণত হয়।

বেলাই বিলে সাদা ও নীল শাপলার ছড়াছড়ি। এছাড়া আশপাশে রয়েছে চড়ুই পাখি। স্বচ্ছ টলটলে পানি! খুব বেশি চওড়া নয় চেলাই নদী, তবে খুব গভীর। আছে ডিঙি নৌকা। বিলের চারপাশে দ্বীপের মতো গ্রাম। বামচিনি মৌজা বেলাই বিলের একটি দ্বীপগ্রাম। এক মৌজায় এক বাড়ি। এখানকার মাটি লাল। তাই লাউ খুব ভালো জন্মে। রয়েছে সারি সারি তালগাছ।

যেভাবে যেতে হয়:

গুলিস্তান থেকে বাসে গাজীপুর বাসস্ট্যান্ড। সেখানে নেমে টেম্পুতে কানাইয়া বাজার। ভাড়া নিবে ১০ টাকা করে। রিকশাতেও যেতে পারেন।সেখান থেকে রিকশা বা টেম্পোতে কানাইয়া বাজার।কানাইয়া বাজারে নেমেই একটু সামনে ব্রিজ আছে। ব্রিজ পার হয়ে চেলাই নদীতে বাধা নৌকা ঠিক করে উঠে পরুন। সারা দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরতে ৪০০-৫০০ টাকা নিবে।কানাইয়া বাজার ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা। দরদাম করে উঠে পড়ুন। চাইলে নিজস্ব গাড়িতে টঙ্গী-পুবাইল হয়ে কানাইয়া যেতে সময় কম লাগবে।