ভাওয়াল রাজার শ্মশানঘাট

601

রাজধানী ঢাকার আশেপাশের প্রাচীন ইতিহাস স্থাপত্যগুলোর দিকে চোখে পড়ে গাজীপুর অন্যতম ঐতিহাসিক নির্দশন ভাওয়াল রাজার শ্মশানঘাট। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্ব দিকে এই শ্মশানঘাট অবস্থিত। ভাওয়ালের জমিদার জয়দেব নারায়ণের দৌহিত্র লোক নারায়ণ রায় বাংলা ১২৫০ থেকে ১২৬০ সালের মধ্যে গড়ে তোলেন এই ভাওয়াল রাজশ্মশান। তবে ঐতিহাসিকদের মতে, মূল শ্মশানের কাজে হাত দিয়েছিলেন রাজা কীর্তি নারায়ণ রায়।এটি ছিল ভাওয়াল রাজপরিবারের সদস্যদের শবদাহের স্থান। এখানে পরিবারের মৃত সদস্যদের নামে সৌধ নির্মাণ ও নামফলক স্থাপন করা হতো।

শ্মশানঘাটের আটটি মঠের মধ্যে সামনের তিনটি মঠের নির্মানশৈলী সাধারন। দেখতে প্রায় একই রকম। কিন্তু বাকি পাচটি মঠের নির্মানশৈলী চিত্তাকর্ষক। এদের মধ্যে একটি মঠ সবচেয়ে উচু। সবচেয়ে বড় মঠটি নির্মিত হয়েছে ভাওয়াল জমিদারির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণ নারায়ন রায়ের উদ্দেশ্যে। উনিশ শতকের শেষের দিকে নির্মিত এই মঠ গুলো কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে।শ্মশানঘাটের পূর্ব দিকে রয়েছে চিতা। এখানে শবদাহ করা হয়। তার পূর্ব দিক দিয়েই চিনাই নদী বয়ে যেত। এখন তার চিহ্ন মাত্রও নেই। চিলাই নদীর পাশে এবং শ্মশান পাশে বলেই এর নাম শ্মশানঘাটের মঠ।শ্মশান চত্বরে একটি শিবমন্দির রয়েছে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রত্ন ঐতিহ্যের অংশ।

যেভাবে যাবেনঃ

ঢাকা থেকে ভাওয়াল রাজার শ্মশানঘাট পর্যন্ত খুবই সহজ। ঢাকার যেকোন প্রান্ত থেকে গাজীপুরগামী বাসে করে গাজীপুর চৌরাস্তা। সেখান থাকে ভাওয়াল রাজাবাড়ি মাত্র ৩ কিলোমিটার দূর। বাসে বা অন্য যেকোন পরিবহনে করে মাত্র ১০ মিনিটের পথ ভাওয়াল রাজাবাড়ি। সেখান থেকে রিক্সা করে পৌঁছানো যায় ভাওয়াল রাজার শ্মশানঘাট।