নারায়নগজ্ঞ জেলা

690

নারায়নগজ্ঞ জেলাটি বাংলাদেশের প্রাচীন অঞ্চল গুলোর মধ্যে একটি।নারায়নজ্ঞ ঢাকা বিভাগের অন্তরগতো একটি জেলা যা বাংলাদেশের অন্য সকল জেলা গুলোর তুলনায় আয়তনের দিক থেকে সব চেয়ে ছোট। শীতলখ্যা নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে এই জেলাটি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন নদী বন্দরে জন্যও জেলাটি বিখ্যাত।বাংলাদেশের এক সময়ের রপ্তানীযোগ্য প্রধান পণ্য পাটের(সোনালী আশঁ) জন্যও নারায়নগজ্ঞকে “প্রাচ্যের ড্যান্ডি” নামে ডাকা হতো। ঢাকার মূল শহর থেকে নারায়গজ্ঞ জেলাটির দূরত্ব খুব কম হওয়ার সেখানে অতিদ্রুত নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।তাই বর্তামানে এই জেলাটি ব্যবসায়িদের নিকট খুবই জনপ্রিয়।প্রচীনকাল থেকেই জেলাটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দ্বারা শ্বাসিত হয়ে আসায় ইতিহাস ঐতিয্যের দিক থেকেও জেলাটি সবার নিকট পরিচিত।

নামকরণের ইতিহাস:-

১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বিকন লাল পান্ডে (বেনুর ঠাকুর বা লক্ষীনারায়ণ ঠাকুর নামেও পরিচিত) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট থেকে এ অঞ্চলটির মালিকানা গ্রহন করেন। তিনি প্রভু নারায়ণের সেবার ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি উইলের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে দেবোওর সম্পতি হিসাবে ঘোষণা করেন। তাই পরবর্তীতে তার নাম অনুসারেই এই জেলাটির নামকরণ করা হয়।

ইতিহাস এবং ঐতিহ্য:-

নারায়নগজ্ঞ জেলাটির ইতিহাস অনেক পুরানো। মুসলিমম আমলে ফিরোশ শাহ কতৃক এই অঞ্চলটি পরিচালিত হতো।তখন এই অঞ্চলটির নাম ছিলো সোনার গাঁ যা প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিলো। পরবর্তীতে গিয়াস উদ্দীন তুঘলক খাঁ,ফখরূদ্দিন মোবারক শাহ,শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ,মুসা খান এবং বিকন লাল পান্ডের মতো শ্বাসকরা এই অঞ্চলটির শ্বাসন করেন।কিন্তু ইংরেজ শ্বাসন আমলেই এই অঞ্চলটি তার আসল যৌলস, গুরূত্ব এবং সক্ষমতা প্রকাশ করে। ইংরেজ শ্বাসন আমলে এই অঞ্চলের একের পর এক নিচু জমি ভরাট করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।নরসিংদীর টোকবর্গী থেকে মুন্সিগজ্ঞের  মোহনা পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৫ মাইল শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগজ্ঞের ওপর দিয়ে প্রবাহিত। ইংল্যন্ডের টেমস নদীর পর পৃথিবীর দ্বিতীয় “হারবার” বেষ্টিত শান্ত নদী শীতলক্ষ্যা। এক সময় ইংলেন্ডের ঔষধ কোম্পানিগুলো ঔষধ তৈরির জন্য এই নদীর স্বচ্ছ সুশীতল পানি ব্যবহার করতো। ১৮৫০ সালে এই অঞ্চল থেকে ৩ কোটি গড় পাট বস্ত্র ইউরোপ,আমেরিকা অঞ্চলে রফতানি করে। তখন ১০০ চট বস্ত্রের মূল্য ছিলো ৭ টাকা। ইংরেজ শ্বাসন আমলেই এই অঞ্চলে ব্যবসা সুবিধার কথা মাথায় ১৮৭৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পার কদমরসূল, বন্দর এ মদনগজ্ঞ এবং পশ্চিম পাড়ের মোট ৪.৫ বর্গমাইল জায়গা নিয়ে নারায়ণগজ্ঞ পৌরসভা তৈরি করা হয়।তাছাড়া ইংরেজ শ্বাসন আমলেই এই অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ করার জন্য ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা গোড়া পওন করা হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী নারায়ণগজ্ঞে আসার পর থেকেই এই অঞ্চলের নদীর ব্যবস্থার সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যবস্থা প্রসারের জন্য নদী পথে নারায়নগজ্ঞেরা সাথে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দদর ও কলকাতা সহ বিভিন্ন নদী পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি করা হয়। ফলে ভারতবর্ষের সঙ্গে নারায়ণগজ্ঞ শিল্পি ও বন্দর নগরীর যোগাযোগ স্থাপন হয়।

তাছাড়া বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সময় এই জেলারর মানুষদের অবদান আজো সবার নিকট শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ হয়।ঢাকা থেকে নারায়ণগজ্ঞের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের বিভিন্ন সময়কার অদিকার আন্দোলন সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে এই অঞ্চলের মানুষ ভূয়সী ভুমিতা পালন করেন।

দর্শনীয় স্থান সমূহ:-

সোনাকান্দা দুর্গ

গোয়ালদি মসজিদ

বিবি মরিয়মের সমাধি

রাসেল পার্ক

সোনারগাঁও জাদুঘর

মেরি এন্ডারসন

বারদীর আশ্রম

বাংলার তাজমহল

পানাম নগর

জিন্দা পার্ক

চৌদ্দার চর

লাঙ্গলবন্দ স্নান

কদম রসুল দরগাহ

আদমজী জুটমিল

বিখ্যাত খাবার:-

রসমালাই