চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)

0
31

চায়ের রাজ্যখ্যাত সবুজ শ্যামলে ঘেরা শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) এর প্রধান কার্যালয়। বিটিআরআই বাংলাদেশ চা বোর্ডের গবেষণা উইং চা শিল্পের জন্য ব্যাপক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক গবেষণা নিযুক্ত করা হয়। এটা গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত কর্মীরা সহ ১৮২ কর্মীদের জন্য বিধান আছে। এটি প্রাথমিকভাবে চা শিল্প প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে পাকিস্তান চা গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে শ্রীমঙ্গল তার বর্তমান অবস্থানে ১৯৫৭ সালে বোর্ড দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট হিসেবে ১৯৭৩ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ইনস্টিটিউট রূপান্তরিত হয়

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকশায় মাত্র ৩ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে চা বাগানের প্রবেশ করা মাত্রই মনে হবে সত্যি এ যেন এক ভিন্ন পরিবেশ । চারপাশে কেবল সবুজের মেলা মাইলের পর মাইল কেবল সবুজ আর সবুজ , কাটিং করা চা গাছগুলো এতো শৃঙ্খলভাবে বসে আছে যেন মনে হয় বিশাল কোনো সবুজ মাঠ । মনে হবে কোনো দক্ষ শিল্প যেন মনের মাধুরী মিশিয়ে স্তরে স্তরে সবুজকে সাজিয়ে রেখেছে । চা গাছের ফাঁকে ফাঁকে একটি বিশেষ দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার ছায়া তরু , যার ডালপালা , শাখা-প্রশাখায় শুনতে পাবেন রঙবেরঙের পাখির কলকাকলি , শহরের কল- কারখানা, গাড়ির শব্দ ব্যস্ততায় কোলাহল অভ্যস্তদের কাছে এটিকে বর্ণাতীত শ্রুতিমধুর লাগবে । বাংলাদেশে মোট ৭টা টি ভ্যালী রয়েছে এর মধ্যে সিলেট বিভাগে রয়েছে ৬টি । এই ৬ ভ্যালীতে মোট চাবাগানের সংখ্যা ১৩৮ টি। শুধু শ্রীমঙ্গলে রয়েছে ৩৮ টি চাবাগান এবং শ্রীমঙ্গলের পাশবর্তী এলাকা সহ চাবাগানের সংখ্যা হচ্ছে ৬০ টি। এ জন্য শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানীও বলা হয় এতো চা বাগান আপনি যখন মাইলের পর মাইল চা বাগানের ভিতর দিয়ে চলবেন তখন আপনার মনে হবে বিশ্বের সকল সুন্দর্যরস্মী যেন আপনার সন্মুখে। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র (বিটিআরআই) বাংলাদেশের চা গবেষণা কেন্দ্রটি পড়েছে শ্রীমঙ্গলের মূল শহর থেকে মাত্র ২ কিলো দূরে। সংস্থাটিকে সংক্ষেপে সবাই বিটিআরআই বলে জানেন। শহর থেকে ১০ থেখে ১৫ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে সহজেই বিটিআরআই পৌছে যেতে পারেন। বিটিআরআই ক্যাম্পাসেই রয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন অফিস। অফিস গেটে রিকশা থেকে নামামাত্রই চোখে পড়বে হরেক রকম ফুলের সমাহারে ভরা ২টি ফুল বাগান , একটি বিটিআরআই এর অপরটি চা বোর্ডের। গেটে অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করুন , ভিতরে দেখতে পাবেন ৫০/৬০ বছরের পুরোনো চা গাছ । চা ম্যানুফকচারিংসহ টি টেস্টিং ল্যাব, গবেষণা ফ্যাক্টরিসহ বাংলাদেশর একমাত্র ভেষজ উদ্ভিদের বাগান। রমেশ রাম গৌঢ় এর ৭–রঙ্গা চা (নীলকন্ঠ চা কেবিন। বেড়ানো শেষে শরীর ক্লান্তি আসলে চলে যেতে পারেন বিটিআরআই সংলগ্ন রামনগরে চা শ্রমিক রমেশে রাম গৌড় এর আবিষ্কৃত সাত রঙ্গা চা- এর দোকান নীলকন্ঠ চা কেবিনে। রমেশ রাম গৌঢ়ের নীলকন্ঠ চা কেবিনে একই পাত্রে পাঁচরঙ্গা চা ছাড়াও আরো বেশ কয়েক রকমের চা পাওয়া যায় এক কাপ চা পান করলে দেখবেন আপনার শরীরে ক্লান্তি সরে গিয়ে অনেকটা সতেজতা ফিরে এসেছে । রমেশ রাম গৌঢ় ইতি মধ্যে তার গবেষনা চালিয়ে একই পাত্রে ৭-রঙ্গা চা আবিস্কারের কৌশল আয়ত্ব করেছেন। বিশ্বের আর কোথাও এ পযন্ত একই পাত্রে ৭-রঙ্গা চা আবিস্কারের খবর পাওয়া য়ায়নি। ইতি মধ্যে রমেশকে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকরা লক্ষাধিক টাকা মাসিক বেতনে চাকুরী করার অফার দিলেও রমেশ নিজের দেশের আবিস্কার বাহিরে নিয়ে যাবেন না বলে সকলের অফার ফিরিয়ে

কিভাবে যাবেন:-

সড়ক পথে ঢাকা হতে মৌলভীবাজারের দূরত্ব ২০৩ কিলোমিটার এবং রেলপথে ঢাকা হতে শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনের দূরত্ব ২৩১ কিলোমিটার। শ্রীমঙ্গল থেকে রিকশাও করে চা গবেষণা কেন্দ্রে পৌঁছানো যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here