ভোলাগঞ্জ| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

877

ভ্রমণ পিপাসু সকলেই জানেন সিলেটকে হযরত শাহজালাল ও শাহপরান এর পূণ্যভূমি বলা হয় । প্রাকৃতিক অপরূপ লীলাভূমি এই সিলেট অঞ্চল এখানে অনেক প্রাকৃতিক দর্শনীয় জায়গা আছে যেমন হযরত শাহজালাল এবং হযরত শাহ পরানের মাজার,  বিছানাকান্দি,  রাতারগুল,  মাধবকুণ্ড,  জাফলং,  মালনীছড়া চা বাগান,  লাক্কাতুরা চা বাগান,  লালাখাল সহ আরো অনেক আকর্ষণীয় টুরিস্ট স্পট আছে । ভ্রমণের জন্য প্রসিদ্ধ এসকল স্থানের পাশাপাশি সিলেটে বহু স্থান রয়েছে যা দৃষ্টি নন্দন এবং পর্যটক প্রিয়তা অর্জন করছে। তেমনি একটি স্থান ভোলাগঞ্জ যা সিলেট শহর থেকে ৩৩ কিলো উত্তরে অবস্থিত।

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার চমৎকার একটি গ্রাম ভোলাগঞ্জ। রোপওয়ে, পাথর কেয়ারী, নদী আর পাহাড়ে মিলে এই ভোলাগঞ্জ। সিলেট শহর থেকে ভোলাগঞ্জ এর দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। ধলাই নদী বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে প্লান্টের চারপাশ ঘুরে আবার একীভূত হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের কাছে ধলাই নদী মিলিত হয়েছে পিয়াইন নদীর সাথে। একশ একর আয়তনের রোপওয়েটি তাই পরিণত হয়েছে বিশেষ আকর্ষণীয় স্থানে।

সবুজে ঘেরা শান্ত পাহাড়, তার সঙ্গে মিশেছে নীল আকাশ। শরৎ মৌসুম না, তবুও আকাশের গায়ে ছোপছোপ শ্বেতশুভ্র মেঘ। আমাদের ট্রলার এগিয়ে চলেছে প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। পরিবেশের এই সম্মোহন হাতছানির মধ্যে বোমা মেশিনের গর্জন, অবশ্য সেই গর্জন মিশে যায় রোপওয়ের সৌন্দর্যে।

চারদিকে পাথর আর পাথর, এখানে সব পাথর সাদা রঙা। পাথর তোলার প্রচুর নৌকা চোখে পড়ল, তবে দর্শনার্থী পূণ্য। নির্জন সাদা পাথরের অসাধারণ এলাকায় আমরা পা রাখি। সামনে সবুজ পাহাড়, পাশে পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া প্রচণ্ড স্রোতের স্বচ্ছ শীতল জল, আর সে জল থেকে গড়িয়ে নামা সাদা পাথর। কতটা অপরূপ, কতটা মনোমুগ্ধকর তা বলে বোঝানোর নয়। মন ভোলানো মনোমুগ্ধকর জায়গাটির নাম ‌‘ভোলাগঞ্জ’।

শুষ্ক মৌসুমে এলে দেখা যায় পাথর আহরণের দৃশ্য। প্রধানত গর্ত খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হয়। ৭/৮ ফুট নিচু গর্ত খোঁড়ার পর কোয়ারিতে পানি উঠে যায়। পানি উঠে গেলে শ্যালো মেশিন দিয়ে কোয়ারির পানি অপসারণ করে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলন করে। এর বাইরে ‘শিবের নৌকা’ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা হয়। এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের উপায় হচ্ছে-একটি খালি নৌকায় শ্যালো মেশিনের ইঞ্জিন লাগানো হয়। ইঞ্জিনের পাখা পানির নিচে ঘুরতে থাকে। পাখা অনবরত ঘুরতে ঘুরতে মাটি নরম হয়ে পাথর বেরোতে থাকে। সংশি­ষ্টরা ঝঁকির সাহায্যে পাথর নৌকায় তুলে। এ পদ্ধতিতে সহস্রাধিক শ্রমিক পাথর উত্তোলন করে থাকে। এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের দৃশ্যও খুব উপভোগ্য।

কীভাবে যাবেন :-

সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলে সিলেট কোম্পানীগঞ্জ রুটে। ১২০ টাকা জনপ্রতি ভাড়ায় কোম্পানীগঞ্জের টুকের বাজারে নামাবে। টুকের বাজার থেকেই ট্রলারে চলে যেতে পারেন সাদা পাথর। কোম্পানীগঞ্জ পৌঁছে টুকের বাজার ঘাট থেকে ট্রলারে সাদা পাথর পৌঁছাতে ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগবে। যাওয়া-আসায় নৌকা ভাড়া পড়বে ১০০০-১২০০ টাকা। এখানে নৌকা রিজার্ভ করে নিতে হয়, অন্যথায় ভুগতে হবে। তাই গ্রুপে গেলে খরচটা একটু কম পড়ে। সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জ সরাসরিও চলে যাওয়া যায়। ১০ মাইল নামক স্থান থেকে নৌকা নিলে ৫০০-৬০০ টাকা ভাড়া পড়বে। তবে এখানকার মূল সৌন্দর্য্য কেবল বর্ষাকালে মিলবে। শীতকালে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায় বলে নৌকায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন সাদা পাথর এলাকায় যেতে হবে নদীর বুক দিয়ে পায়ে হেটে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here