সুনামগঞ্জ জেলার টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি

572

এক বিচিত্র প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার এই বাংলাদেশ। এই দেশের রুপ ব্যচিত্র্য যে কোন মানুষকে আকর্ষণ করে। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, বন, টিলা, মাটির নিচের খনিজ সম্পদ এই দেশকে করেছে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানেই মাটির নিচে বিভিন্ন খনিজ সম্পদের সন্ধান পউয়া যায়। তাছাড়া মাটির উপরেও বিভিন্ন সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে এই বাংলাদেশে। সুনামগঞ্জ জেলার টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি তেমনি একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রতি বছর সারা বাংলাদেশে প্রছুর পরিমানে চুনা পাথরের প্রয়োজন পড়ে। সেই প্রয়োজন মিটাতে সুনামগঞ্জ জেলার টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি থেকে প্রচুর পরিমানে চুনা পাথর উত্তলন করা হয়। বড় বড় সব যন্ত্র ব্যবহার করে এই মহা যজ্ঞ সম্পন্ন করা হয়। তাছাড়া এই খনির আশপাশ অঞ্চল পাহার ব্যেস্টিত বলে প্রতি বছর প্রচুর পরিমান পর্যটক উপস্থিত হয় এখানে।

চুনাপাথরের প্রাকৃতিক ভান্ডার রয়েছে টেকেরঘাটে। বিচিত্র উপায়ে চুনাপাথর সংগ্রহের পদ্ধতি সত্যিই বিস্ময়কর। সিমেন্ট শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় এই চুনাপাথরকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে গ্রামীণ আবহে পাহাড়ী খনি অঞ্চল। একদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মধ্য থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ প্রক্রিয়ার আধুনিক আয়োজন। আর এ পারে বাংলাদেশে বিশাল বিস্তৃত হাওর। দিগন্তে মেশা সবুজ ধানের মাঠ সত্যিই প্রকৃতির সাজানো এক মনোরম আঙ্গিনা। চুনাপাথর শিল্পকে ঘিরে টেকেরঘাটে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন ধর্মী এক জীবন প্রণালী । সাধারনত প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চুনাপাথর সংগ্রহের কাজ চলে। চুনাপাথর সংগ্রহের কাজ বর্তমানে বন্ধ। টেকেরঘাটের বড়ছড়া হচ্ছে কয়লা আমদানির ব্যবসা কেন্দ্র। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বড়ছড়াতে সৃষ্টি হয়েছে এক ভিন্ন ধারার জীবন পদ্ধতি। প্রতি বছর ভারত থেকে বৈধ উপায়ে লক্ষ লক্ষ টন কয়লা আমদানি হচ্ছে এই শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে।। ভারতের পাহাড়ী এলাকায় পাহাড়ী অধিবাসীদের কয়লা আহরণ পদ্ধতি, বিচিত্র জীবন ধারা আপনার জানার জন্য চমৎকার বিষয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আপনি দেখে আসতে পারেন পাহাড়ী অধিবাসীদের ভারতীয় ভূখন্ড। পাহাড়ী বন্ধুদের জীবন ধারা আপনাকে নাড়া দেবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

জানা যায়, ১৯৪০ সালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় নির্মাণ করা হয় আসাম বাংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ করে এর চাহিদা মেটানো হতো। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভারত থেকে পাথর সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় সিমেন্ট ফ্যাক্টরিটি চালু রাখার জন্য চুনাপাথরের প্রয়োজনে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে টেকেরঘাটে ৩২৭ একর ভূমির উপর জরিপ চালিয়ে ১৯৬০ সালে চুনাপাথরের সন্ধান পায় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬ সাল থেকে খনিজ প্রকল্পটি চালু করা হয় এবং মাইনিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পাথর উত্তোলন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে প্রকল্পটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে দিন দিন স্বকীয়তা হারিয়ে ট্যাকের ঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্পের পরিত্যক্ত পাথর কোয়ারি এখন ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ‘নীলাদ্রি লেক’ হিসেবে অধিক পরিচিত।

কিভাবে যাবেন:-

বর্ষাকালে শহরের সাহেব বাড়ি নৌকা ঘাট থেকে ইঞ্জিন বোট বা স্পীড বোট যোগে সরাসরি টেকেরঘাট যাওয়া যায়। ইঞ্জিন বোটে ৫ ঘন্টায় এবং স্পীড বোটে ২ ঘন্টা সময় লাগে। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিন বোটে খরচ হয় ২,০০০/- থেকে ২,৫০০/- টাকা পক্ষান্তরে স্পীড বোডে খরচ হয় ৭,৫০০/- থেকে ৮,০০০/- টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নেই তবে সরকারী ব্যবস্থাপনায় টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের রেস্ট হাউজে অবস্থান করা যায়। গ্রীষ্মকালে শহরের সাহেব বাড়ি খেয়া ঘাট পার হয়ে অপর পাড় থেকে মোটর সাইকেল যোগে ২ ঘন্টায় টেকেরঘাট যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ভাড়া মোটর সাইকেল প্রতি ৩০০/- টাকা।