শহীদ সাগর বধ্যভূমি| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

510

বাংলাদেশের এক গৌরবময় অধ্যায় হল বাংলার মহান মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ৩০ লক্ষ্য মানুষ শহীদ হয়েছিলো। বাংলার অনেক জায়গা হয়ে উঠেছিলো বধ্যভূমি। তাদের মধ্যে অন্যতম নাটোর জেলার শহীদ সাগর বধ্যভূমি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল চিনি কারখানায় সংগঠিত গণহত্যার স্মরণে এই বধ্যভুমিতে নির্মিত হয় স্মৃতিস্তম্ভ। এটি মূলত একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে, যার পানি ১৯৭১ সালের ৫ মে  জমাট বেঁধে লাল হয়েছিল শহীদদের রক্তে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ লালপুর উপজেলার গোপালপুরের ৪ কিলোমিটার উত্তরে ময়না গ্রামে খান সেনাদের এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরেরদিন পাক সেনাদের মেজর রাজা খান চুপিসারে পালানোর সময় স্থানীয় জনগণ তাকে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া ঈশ্বরদী বিমান বন্দরে যেন পাক সেনা অবতরণ করতে না পারে সেজন্য স্থানীয় মুক্তিকামী জনগণ মিলের বুলডোজারসহ অন্যান্য যানবাহনের সহায়তায় বিমান বন্দরের রানওয়ে ভেঙ্গে অকেজো করে দেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গোপালপুরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল তবুও অত্র এলাকার আখচাষীদের স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখার জন্য মিলের সকলেই যার যার দায়িত্বে ন্যস্ত ছিল।

সেদিনছিল ৫ মে, চারিদিকে থমথমে অবস্থার মধ্যেও মিলের কাজ চলছিল। সকাল ১০-০০ টার দিকে লাল শালু কাপড়ের ব্যান্ড পরা কিছু রাজাকারের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনীর একটি দল অতর্কিতে মিল ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করে এবং ময়নার যুদ্ধ এবং পাক সেনা কর্মকর্তার হত্যার মিথ্যা অভিযোগে তৎকালীন মিলের প্রশাসক জনাব লেঃ আনোয়ারুল আজিম এবং অন্যান্য কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারীদের ডেকে বর্তমান অতিথি ভবনের সামনের পুকুরের পার্শ্বে ব্রাশ ফায়ারে ৪২ জনকে  নির্মমভাবে হত্যা করে পুকুরের পাড়ে ফেলে চলে যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উল্লিখিত পুকুরটি ‘‘শহীদ সাগর ’’ হিসেবে নামকরণ হয়। যতদুর জানা যায় ‘‘ শহীদ সাগর ’’ নামকরণের পূর্বে পুকুরটি ‘গোপাল সাগর ’ নামে পরিচিত ছিল।

১৯৭৩ সালের ৫ মে শহীদ সাগর চত্বরে শহীদ লে. আনোয়ারুল আজিমের স্ত্রী বেগম শামসুন্নাহার স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন।  স্মৃতিস্তম্ভের পূর্বে রয়েছে ছিমছাম ফুল বাগান।  আর পাশেই রয়েছে একটি জাদুঘর।  ২০০০ সালের ৫ মে  জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়।  আর স্মৃতিস্তম্ভের পিছনে রয়েছে দুঃস্বহ স্মৃতিজড়িত সেই পুকুর | সিঁড়িতে যেসকল যায়গায় বুলেটের গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, সেসকল জায়গায় আজ প্রতীকি লাল রঙে শহীদের রক্তের চিহ্ন আছে।   প্রতিবছরের ৫ মে শহীদদের স্মরণে নানা আয়োজনে পালিত হয় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল গণহত্যা দিবস।

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা থেকে সরাসরি বাস কিংবা ট্রেইনে চেপে সরাসরি নাটোর জেলা শহরে পৌঁছানো যায়। ঢাকার গাবতলি,সায়দাবাদ,মহাখালি বাস টার্মিনাল গুলো থেকে বাস পাওয়া যায়।কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেইন যাত্রা শুরু হয়। নাটোর সদর থেকে বাস ও অটোরিক্সা যোগে শহীদ সাগর বধ্যভূমিতে যাওয়া যায়।