টাঙ্গুগুয়ার হাওর| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

507

বাংলাদেশ নদী মাত্রিক দেশ। এই দেশেরে প্রতিটি জেলাতে অনেক নদী প্রবাহিত হয়েছে। মূলত বিভিন্ন নদ নদীর অববাহিকায় বাংলার প্রকৃতি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের নদ নদীর পাশাপাশি রয়েছে হাওর। এই হাওর এর প্রানপক্রিরতি বাংলের মানুষকে আনন্দ দেয়। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জ হাওর অঞ্চল। এই অঞ্চলের এর অন্যতম একটি হাওর হল টাঙ্গুগুয়ার হাওর।

টাংগুয়ার হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রুপ জলমহালগুলোর অন্যতম। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তেসুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা এবং তাহিরপুর উপজেলাস্থিত জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ মিঠা পানির এ হাওর বাংলাদেশের ২য় রামসার এলাকা। ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি হিজল-করচ শোভিত, পাখিদের কলকাকলি মুখরিত টাংগুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম। বর্তমানে মোট জলমহাল সংখ্যা ৫১টি এবং মোট আয়তন ৬,৯১২.২০ একর।

টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হিসাবে পরিগনিত হয়। অথৈ পানি, জলাবন, নীল আকাশ, পাহাড় ও চোখ জুড়ানো সবুজ এই হাওরকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ১৪০ প্রজাতির মাছ, ১২ প্রজাতির ব্যাঙ এবং ১৫০ প্রজাতির বেশি সরীসৃপের সমন্বয়ে জীববৈচিত্র্য গড়ে উঠেছে টাঙ্গুয়ার হাওর। শীতকালে এই হাওরে প্রায় ২৫০ প্রজাতির অতিথি পাখির বিচরণ ঘটে চারিদিকে। টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়গুলো দেখা যায় খুব সহজেই। মেঘালয় থেকে প্রায় ৩০টি ছোট-বড় ঝর্ণা বা ছড়া টাঙ্গুয়ার হাওরে এসে মিশেছে। এই হাওরে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে, এর আশপাশের পানি খুবই স্বচ্ছ হওয়ায় ওপর থেকে হাওরের তলা দেখা যায়। ১২০টি বিল ও ১৮০টি নিম্নাঞ্চল/ কান্দা মিলে এই হাওরের সৃষ্টি, তাই স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি ‘নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল’ নামে পরিচিত। টাঙ্গুয়ার হাওরে ছোট-বড় প্রায় ৪৬টি দ্বীপের মতো ভাসমান গ্রাম বা দ্বীপ গ্রাম আছে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে Ecologically Critical Area (ECA) হিসেবে ঘোষণা করে। আর ২০০০ সালে টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইটের (Ramsar site) তালিকায় স্থান করে নেয়।

কিভাবে যাবেন:-

টাঙ্গুয়ার হাওরে যেতে হলে প্রথমে সুনামগঞ্জ আসতে হবে। প্রতিদিন ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন ও শ্যামলী পরিবহনের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং মহাখালী থেকে ছেড়ে যায় এনা পরিবহনের বাস। এসব বাসে নন-এসিতে জনপ্রতি টিকেট কাটতে ৫৫০ টাকা লাগে আর সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে যেতে চাইলে প্রথমে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে সিলেট শহরে এসে পরে বাস/ মাইক্রো ভাড়া করে যেতে হবে সুনামগঞ্জে। সুনামগঞ্জ নেমে সুরমা নদীর ওপর নির্মিত বড় ব্রিজের কাছে লেগুনা/ সিএনজি/ বাইক করে তাহিরপুরে সহজেই যাওয়া যায়। তাহিরপুরে নৌকাঘাট থেকে সাইজ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী নৌকা ভাড়া করে বেড়িয়ে আসুন টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে। নৌকার ভাড়া পড়বে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা।

আর টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত যাপন করতে চাইলে বড় নৌকাতে থাকতে হবে। তবে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসতে পারবেন টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে।