ভাষাশহীদ রফিক গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর।

0
386

বাংলার সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে মানিকগঞ্জের বিশিষ্ট স্থান রয়েছে। ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রমাণ পাওয়া যায়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দৃঢ় প্রত্যয়ে যে ক’জন ভাষাসৈনিক জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের অন্যতম মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার পারিল গ্রামের (বর্তমান রফিক নগর) ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদ। মানিকগঞ্জের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ। ভাষাশহীদ রফিকের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ২০০৮ সালে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তার জন্মভূমি রফিকনগর এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে গ্রন্থাগার ও জাদুঘর। সরেজমিন সিঙ্গাইরের পারিল গ্রাম অর্থাৎ রফিকনগরে প্রতিষ্ঠিত ভাষাশহীদ রফিক গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর।

মরহুম সংসদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খানের সার্বিক সহযোগিতায় ও সে সময়ের ইউএনও আশরাফ আলীর পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৯৫ সালে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলা চত্বরে টিনের ঘরে রফিক স্মৃতি পাঠাগারের কার্যক্রম চালু করা হয়। দীর্ঘ দিনের নাজুক অবস্থা কাটিয়ে পাঠাগারে নিজস্ব তহবিলের ৩ লাখ টাকা ও সরকারি অনুদান দিয়ে ২০০৬ সালে সে সময়ের ইউএনও দেলোয়ার হোসেন উপজেলা চত্বরে পাঠাগারের একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করেন। ২০০৮ সালের ১৫ মে বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে ভাষাসৈনিক রফিক উদ্দিন আহমদের স্মৃতিকে চিরজাগ্রত রাখতে তার জন্মস্থান সিঙ্গাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের ‘পারিল’ গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রফিকনগর নামকরণ করা হয়েছে এবং সেখানে এক বিঘা জায়গার ওপরে গড়ে উঠেছে শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। উল্লেখ্য, এই এক বিঘা জায়গাটি দান করেন লে. কর্নেল (অব:) মজিবুল ইসলাম (পাশা)। জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল। বেসরকারি সংস্থা প্রশিকা শহীদ রফিক জাদুঘর স্থাপন করে ভাষাশহীদ রফিকের নিজ বাসভবনে। রফিকের বেশ কিছু দুর্লভ ছবি রয়েছে এখানে। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং প্রশিকাসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে দেয়া প্রায় ১২ হাজারের মতো বই রয়েছে এ জাদুঘরে।

কিভাবে যাবেন:-

ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জে সাধারনত সড়ক পথেই যাতায়েত করা হয়ে থাকে। ঢাকা বালিরটেক ভায়া সিংগাইর এর শুকতারা সার্ভিস বাস থেকে ঋর্ষিবাড়ি নামিয়া রিক্সা যোগে যাইতে হবে রফিক নগর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here