শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী মন্দির মানিকগঞ্জ।

533

মানিকগঞ্জ শহরে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মত নানা উপকরণ রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম একটি স্থাপনা হল শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী মন্দির। মানিকগঞ্জ শহরে (তৃপ্তি সিমেনা হলের পূর্বে) শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৯৫-৯৬ সালের দিকে। শ্রী শ্রী কালীমাতা শিব এবং রাধা কৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের জন্য তিন কামরা বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। উক্ত কামরাগুলোর সবচাইতে পূর্ব দিকের কামরায় শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমায়ের প্রস্তর মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী মন্দিরে প্রাত্যহিক পূজা এবং বিভিন্ন বিশেষ পালা পার্বনে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানাদি নির্বাচিত কমিটি ও স্থানীয় পুরোহিত কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ সদস্য এবং আজীবন সদস্য মিলে মোট একুশ জন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির দ্বারা সার্বক্ষনিক পূজা অর্চনা করার জন্য মাসিক বেতনে একজন পুরোহিত নিয়োগের ব্যবস্থা আছে। এ মন্দিরটির আয়ের উৎস হলো ভক্তবৃন্দের অনুদান ও সদস্যগণের চাঁদা। বর্তমানে রথের দিনগুলিতে মন্দির প্রাঙ্গনসহ শহরের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে মেলা বসছে এবং মঠ মন্দিরে মাঝে মাঝে ধর্মসভা, অষ্টপ্রহর, নামকীর্তন ও যাত্রাভিনয়াদি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

মানিকগঞ্জ ঢাকার অদূরে অবস্থিত একটি জেলা। এখানে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মত নানা উপকরণ রয়েছে। ইতিপূর্বে এ জেলায় পর্যটন শিল্পের উন্নতির জন্য সরকারি কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বালিয়াটি ও তেওতা জমিদার বাড়ী সংস্কারের অভাবে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে এ প্রাচীন স্থাপনাসমূহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে তৎকালীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হোটেল-মোটেলের ব্যবস্থা করা গেলে পর্যটকরা উল্লিখিত পর্যটন কেন্দ্রসমূহে আসতে আগ্রহী হবে।

যাতায়াত ব্যবস্থাঃ

মানিকগঞ্জ শহরে অবস্থিত। দূরত্ব ৩ কিঃমিঃ।  রিক্সাভাড়া ২০/২৫ টাকা। রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা নেই।