চৌদ্দার চর

1063

যান্ত্রিক শহরে, যেখানে যন্ত্র নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকাটাই জীবন, তখন সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে, ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফেরে, দু’মুঠো অন্ন মুখে দিয়ে উদরপূর্তি ঘটিয়ে, নরম তোষকের বিছানায় চোখ বুঝে একটা হতাশার দীর্ঘশ্বাস আমরা সবাই কমবেশী ফেলে বলি, হায় জীবন। যান্ত্রিকতা, ব্যস্ততা আমাদের কখনোই পিছু ছাড়বে না। তবে এসব কিছুর মাঝেও জীবনটাকে উপভোগ করা যায়। এর বাংলাদেশের প্রকৃতি প্রেমিদের জন্য ঢাকার খুব কাছেই নারায়ণগঞ্জে মেঘনা নদীর মাঝখানে জেগে উঠা ৩.৫ কিলোমিটার লম্বা “চৌদ্দার চর” এমনি একটি প্রশান্তির জায়গা। এই চরটি আড়াইহাজার উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মাঝখানে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রাকৃতিক শোভা সমৃদ্ধ আড়াইহাজার উপজেলার এই চরের সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। শীতকাল এর আসল সুন্দর রুপ দেখা যায়।

অনেকটাই কুয়াকাটার মত দেখতে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এরকম মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ সচরাচর দেখা যায় না ঢাকা শহরের আশেপাশে। এখানে দেখতে পাবেন নদীর চার পাশের বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত, ক্ষীরাই ক্ষেত, বাঙ্গি ক্ষেত। চৌদ্দার চরের অনাবিল সৌন্দর্য আর মেঘনার উচ্ছ্বলজলরাশি আপনাকে আন্দোলিত করে তুলবে। দারুণ স্বচ্ছ নীলাভ জল রয়েছে এখানে।মেঘনার এই জলে ইচ্ছেমতদাপাদাপি করতে পারবেন। পানি ঘোলা হবেনা। ভাটার সময় এখানে ১০-১৫ ফিটবালির চর থাকে। তারমধ্যে অর্ধেকের বেশিই কাশবন। এখানে বালি অনেক শক্ত তাই কোন চোরাবালির ভয় নেই। চরেরবুক জুড়ে ছুটে চলে হাঁসের দল,  উড়েচলে কাক, ঈগল ও গাঙচিল, সাদাবকের স্নিগ্ধতা আর রাজ হাঁসের রাজত্ব এই বালুর বুকে। হাঁটতে হাঁটতে দেখা মেলে শামুক ও ঝিনুকের। অবারিত কাশবন, খোলা আকাশে পাখির মেলা আর মাঝে মাঝে ট্রলার আর জাহাজের শব্দ এখানে সৃষ্টি করে অনাবিল সৌন্দর্যের এক দৃশ্য।

যেভাবে যাবেন:-

সায়েদাবাদ থেকে অভিলাস পরিবহন বাস ছাড়ে। ভাড়া ৬৫ টাকা। এটা মদনপুর দিয়ে যাবে। অথবা গুলিস্তান থেকে দোয়েল/সদেশ পরিবহন এ মদনপুর (৪৫ টাকা ভাড়া) নেমে আড়াইহাজার উপজেলায় এর সি এন জি ৫০ টাকা। রুট ২: কলাবাগান থেকে মেঘলা পরিবহন বাস ছাড়ে। ভুলতা/গাউসিয়া। ভাড়া ৬৫ টাকা। গাউসিয়া নেমে একটু সামনে যেয়ে লোকাল সি এন জি তে আড়াইহাজার বাজার । ভাড়া ৩০ টাকা।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here