বল্লাল সেনের দীঘি

931

বিক্রমপুরের রাজধানী রামপালের রাজা বল্লাল সেন জনগনের পানীয় কষ্ট নিবারনের জন্য এই বিশাল দীঘিটি খনন করেন। এই দীঘি খননের একটি কিংবদন্তি আছে। বল্লাল সেনের মা প্রজাসাধারণের পানীয় জলের কষ্ট নিবারনের জন্য তার সন্তান বল্লাল সেনকে একটি দীঘি খনন করার আদেশ দেন। বল্লাল সেন মাকে আশ্বাস দেন যে, মা যতটুকু হেঁটে যেতে পারবেন ততটুকু খনন করা হবে। মা পরের দিন সকালে দক্ষিণ দিক হাটতে শুরু করেন। বল্লাল সেন দেখলেন মা অনেক দূর চলে যাচ্ছেন। বল্লাল সেন অসুস্থতার সংবাদ মাকে পাঠালেন। পুত্রের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে মা ফিরে আসেন। রাজবাড়ীতে মা যতটুকু জায়গা অতিক্রম করেছিলেন ততটুকু দীর্ঘ দীঘি খনন করা হয়েছিল।

প্রায় ২২শ’ ফুট দৈর্ঘ ও ৮শ’ ফুট প্রস্থ বিশাল আকৃতির দীঘিটি বেদখলের কারণে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। বল্লাল সেনের দীঘি বলে এখন আর কিছু নাই। সামান্য একটা পুকুর আছে, আর বাকীটা বিল।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়েনে রাজা বলস্নাল সেনের দিঘী বা রামপালের দিঘীর অবস্থান। সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের দূরুত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। তবে এই দিঘীটি দেখার জন্য আরো ০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে আসতে হবে। ঢাকা হতে সকালে এসে দিঘীটি দর্শন করে বিকেলেই ঢাকায় ফিরে আসা যাবে। সড়কপথে যেতে কষ্ট হবে না। তবে নৌপথে গেলে সময়ও বাচঁবে এবং যানজট এড়িয়ে নদী পথের সৌন্দর্য অবগাহন করে সাচ্ছন্দের সাথে পৌছানো যাবে। সদর ঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জগামী লঞ্চে ২ ঘন্টার মধ্যেই পৌছে যাওয়া যাবে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে। এখান থেকে রিক্সায় রামপাল ইউনিয়নের রামপাল কলেজের পাশে রাজা বলস্নাল সেনের দিঘী বা রামপালের দিঘী দেখতে যাওয়া যায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here