শ্যামসিদ্ধির মঠ

844

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুর, যা বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ নামে পরিচিত। এখানকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে নানান প্রাচীন স্থাপনা। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন শ্যামসিদ্ধির মঠ। মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার শ্রীনগর বাজারের পশ্চিম দিকে শ্যামসিদ্ধি গ্রামে অবস্থিত এ মঠ। এর দক্ষিণ দিকের প্রবেশ পথের উপরে রয়েছে বাংলা শিলালিপি। সেটা থেকে জানা যায় ১৮৩৬ সালে বিক্রমপুরের জনৈক ধনাঢ্য ব্যক্তি শম্ভুনাথ মজুমদার এটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি আছে সম্ভুনাথ স্বপ্নে তার স্বর্গীয় পিতার চিতার উপরে মঠ নির্মাণের নির্দেশ পান। তারপর তিনি এই স্থাপনা তৈরি করেন। প্রাচীন স্থাপনাটি দেখতে এখনো প্রতিদিন অনেক মানুষ ভিড় করে শ্যামসিদ্ধিতে।

শ্যামসিদ্ধি মঠ সমন্ধে বিভিন্ন লেখকদের বই থেকে পাওয়া তর্থ্য অনুযায়ী মঠটির উচ্চতা প্রায় ২৪০-২৪২ ফুট, প্রত্যেক দিকের বর্গাকার ভূমির দৈর্ঘ্য ২১ ফুট, মঠের ভিতরে ক্ষেত্রফল ৩২৪ বর্গফুট এবং প্রবেশদ্বারের উচ্চতা ২৭ ফুট। মঠটির গায়ে সোনারং অঞ্চলের কিছু স্থাপত্য কর্মের নমুনা আছে যা দেখতে ঠিক ফনা বিশিষ্ট সর্পমূর্তি ও লতাপাতার অলংকরনের নকশা দিয়ে সজ্জিত।

অষ্টাভূজাকার দেয়ালের প্রত্যেকটিতেই জানালার মত প্যানেল আছে সেগুলো খোলা যায়না। বিক্রমপুরের হিন্ধু রাজা রায় বংশধররা তাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি রক্ষার্থে এ অঞ্চলে বহুমঠ ও মন্দির নির্মান করেন। যেমন তালতলার ফেগুনাসার মঠ, তাজপুরের সরকার বাড়ীর সরকারদের মঠ, সোনারংয়ের মন্দির, আউটশাহীর মঠ, তেহরিয়ার মঠ, মাইজপাড়ার জোড়া মঠ, ষোলঘরের পাকিয়াপাড়ার সাদা মঠ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

শ্যামসিদ্ধি গ্রামের মঠটির মধ্যে গৌরিপটে একটি শিব লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত ছিল। শিব লিঙ্গটির উচ্চতা ছিল প্রায় ৩ফুট। সনাতন ধর্মালম্বী মানুষ এই মঠটি শিব মন্দির বলে থাকে।আনুমানিক ২৪৭ বছরের পুরনো এই মঠটি ভারত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ মঠ এবং সর্বোচ্চ স্মৃতিস্তম্ভ বলে বিবেচিত।

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরত্বে মুন্সিগঞ্জ জেলাটি অবস্থিত। ঢাকার গুলিস্তান হতে কয়েকটি কোম্পানির মিনিবাস ছেড়ে যায় এই জেলার উদ্দেশ্যে। শ্রীনগর থেকে সহজেই রিকশায় করে শ্যামসিদ্ধি গ্রামে যাওয়া যায়। রাজধানীর গুলিস্তান থেকে শ্রীনগরের বাসে ছাড়ে।