অতীশ দীপঙ্করের বাস্তুভিটা

692

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলেন একজন প্রখ্যাত পণ্ডিত; যিনি পাল সাম্রাজ্যের আমলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধধর্মপ্রচারক ছিলেন। তিনি ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে বিক্রমপুর পরগনার বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত। তার জন্মস্থানের বাস্তুভিটাকে এখনো স্থানীয় জনগণ ‘পণ্ডিতের ভিটা’ বলে অভিহিত করে।

পিতা কল্যাণশ্রী ছিলেন পাল রাজাদের অধীনস্ত সামন্ত রাজা। কেউ কেউ অবশ্য কল্যাণশ্রীকে চন্দ্রবংশীয় রাজা বলে অনুমান করেন। অতীশের মাতার নাম প্রভাবতী, তিনি অতীশের জন্মনাম রেখেছিলেন চন্দ্রগর্ভ। দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ছিল তাঁর উপাধি, যা তিনি পেয়েছিলেন ওদন্তপুরী বিহারে, আচার্য শীলরক্ষিতের কাছ থেকে। অতীশ তাঁর তিব্বতীয় আত্মকথায় বলেন, তাঁর পিতা তন্ত্রোপাসনা করতেন এবং ছিলেন একজন বোধিসত্ত। পিতার কাছ থেকেই তিনি তন্ত্রোপাসনায় দীক্ষা নিয়েছিলেন। এর পর তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু নালন্দায়। বিখ্যাত নৈয়ায়িক পণ্ডিত জেতারির নিকট তিনি গৌণ-বিজ্ঞান শিক্ষা শুরু করেন, যা পরবর্তীতে তাঁর জন্য ধর্ম ও দর্শন অধ্যয়নের পথ তৈরি করে দেয়। ১৯ বছর বয়সে তিনি পবিত্র ব্রত গ্রহণ করেন মহাসংঘিক আচার্য শীলরক্ষিতের কাছে। একুশ বছর বয়সেই তিনি দর্শন, সাহিত্য, ব্যাকরণ ও শিল্পকলায় ব্যুত্পত্তি অর্জন করেন। তির্থিকদের শাস্ত্রেও তিনি ব্যুত্পত্তি লাভ করেন এবং এক শিক্ষিত ব্রাহ্মণকে তর্কযুদ্ধে পরাজিত করেন।

তিব্বতীয় বৌদ্ধমত সংস্কারে প্রধান ভূমিকা পালন করে অতীশ‘ দীপঙ্করের একটি রচনা বোধি-পথ-প্রদীপ। এতে তিনি মাধ্যমিক মহাযান মতের সঙ্গে হীনযান ও বজ্র যানী মতকে সঙ্গতিপূর্ণ করে তোলেন। বোধি-পথ-প্রদীপে অতীশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান সাধকের জন্য একটি ক্রম-অগ্রসরমাণ পথ সৃষ্টি করে দেয়া। এতে বোধিচিত্ত অর্জন থেকে শুরু করে পারমিতা ধ্যান অর্জন পর্যন্ত সাধকের জন্য ক্রমোন্নতির একটি পথ তিনি প্রদর্শন করেন এবং এর সঙ্গে যুক্ত করেন বিভিন্ন কুশলধর্মকে। বোধি-পথ-প্রদীপ-এ অতীশ তত্ত্বের সঙ্গে ব্যবহারিক চর্চার সমন্বয় সাধন করেন এবং এমন একটি শিক্ষা-পদ্ধতির প্রবর্তন করেন, যার ভেতর দিয়ে ব্যক্তির মানসিক ও নৈতিক পরিবর্তন ঘটানো যেতে পারে।

যেভাবে যাবেন:

গুলিস্তান থেকে বাসে করে যেতে পারেন মুন্সিগঞ্জ। বাস আপনাকে নামিয়ে দেবে মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে। অতীশ দীপঙ্করের পণ্ডিত ভিটা ও অডিটরিয়াম দেখার জন্য আরো ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আসতে হবে।