শান্তিপুর অরণ্য কুটির|ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

507

দেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির বলতে অনেকে বোঝেন রামুর বৌদ্ধ মন্দিরকে। আসলে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার উল্টোছড়ার বৌদ্ধ মন্দিরটিই বাংলাদেশের বৃহত্তম ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম।জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের এ বৌদ্ধ মন্দির ‘শান্তিপুর অরণ্য কুটির’ নামে পরিচিত

পাহাড়ি গাছ-গাছড়ায় ঘেরা পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বুদ্ধ মূর্তি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি তীর্থস্থান। ১৯৯৯ সালে নির্মিত ৫০ ফুট উচ্চতার এ বুদ্ধ মূর্তি তৈরিতে সময় লেগেছে ৩-৪ বছর। পর্যটকদের মূল আকর্ষণও এই গৌতম বুদ্ধের মূর্তি। সেটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে আরও বিভিন্ন ছোট ছোট কুটির। পাশে আছে সুজাতার মূর্তি, যে নারী পায়েশ খাইয়ে বুদ্ধের ধ্যান ভঙ্গ করেছিলেন।

শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে সাড়ে ৪৮ফুট উচ্চতার গৌতম বুদ্ধের মূর্তি, লাভীশ্রেষ্ঠ সিবলী মহাস্থবিরের মন্দিরসহ মূর্তি, মারবিজয়ী উপগুপ্ত মহাস্থবিরের মূর্তি, অধ্যক্ষ মহোদয়ের আবাসস্থল ‘‘মৈত্রী ভবন’’, ১০০ হাত দৈর্ঘ্যের ভিক্ষুশালা, ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের দেশনাঘর, ৮০ হাত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ভোজনশালা এবং বড় বুদ্ধ মূর্তির ছাদ। এখানে ২৫টিরও বেশী পর্ণ কুটির রয়েছে এবং উপ-কুটিরও রয়েছে। প্রত্যাকটি কুটিরে ও উপকুটিরে একজন করে ভিক্ষু ও শ্রামণ অবস্থান করে ভাবনা ও ধ্যানে মগ্ন থাকেন। বর্তমানে ভিক্ষু শ্রামণসহ ৪০জন অবস্থান করছেন।

কিভাবে যাবেনঃ

যারা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসতে চান তারা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি (Khagrachhari) পৌঁছে বাস, সিএনজি বা মোটর সাইকেল চড়ে পানছড়িতে যেতে পারেন। খাগড়াছড়ি জেলা শহর হতে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক দিয়ে ২৫ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে পানছড়ি বাজারে পৌঁছার পর দক্ষিণ দিকের পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই দেখা যাবে প্রকৃতির বুকে অপরূপ শোভা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শান্তিপুর অরণ্য কুটির। খাগড়াছড়ি সদর থেকে পানছড়ি যেতে আপনার সর্বোচ্চ সময় লাগবে ত্রিশ মিনিটের মতো। ঢাকা থেকে সরাসরি শান্তি পরিবহন যোগে পানছড়িতে যাওয়া যায়।