আলুটিলা| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

898

অপরূপ বাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি পার্বত্য খাগড়াখড়ি জেলা। এ নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর পর্যটন সম্ভাবনাময় ও পাহাড়ের রাণী খ্যাত পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন স্পট আলুটিলা। পাহাড়বাসীর কাছে যেমনি পরিচিত তেমনি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে শতবছরের বটমূল ও আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, রহস্যময় গুহার কারণে‍ ‘আলুটিলা’ খুবই পরিচিতি।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে আট কিলোমিটার পশ্চিমে মাটিরাংগা উপজেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র- এ রয়েছে এক রহস্যময় গুহা বা সুড়ঙ্গ। মাতাই হাকর বা দেবগুহা নামে স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে যার পরিচিতি সেটি এক রহস্যময় পাহাড়ি সুড়ঙ্গ। আলুটিলা সুড়ঙ্গ। নাম টিলা হলেও আলুটিলা কিন্ত মোটেও টিলা নয়। বরং আলুটিলা খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে উঁচু পর্বত। আলুটিলার আগের নাম ছিল আরবারী পর্বত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, খাগড়াছড়িতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খাদ্যের অভাব প্রচণ্ডভাবে দেখা দিলে এলাকার মানুষজন খাদ্যের সন্ধানে এই পর্বত থেকে বুনোআলু সংগ্রহ করে তা খেয়ে বেঁচে ছিল। সেই থেকে পর্বতটির নাম হয়ে যায় আলুটিলা।

পাহাড়ের ভেতরে এই গুহা যেকোনো ভ্রমণপ্রেমীকে আনন্দ দিতে পারে।রহস্যময় গুহা বা সুড়ঙ্গে  যেতে হলে প্রথমেই দরকার হবে পর্যটন কেন্দ্রের নির্ধারিত মুল্যের টিকিট কাটা। টিকেটের মুল্য ১০ টাকা। এরপর নিতে হবে মশাল। মশালের মূল্য ১০ টাকা। গুহাটির চারপাশে রয়েছে ঘন সবুজের অরণ্য। গুহাটি ভেতরে ১০০ মিটার দীর্ঘ, ১ দশমিক ৮ মিটার উঁচু এবং শূন্য দশমিক ৯ মিটার প্রশস্ত। পুরো গুহাটি অন্ধকার। গুহাটির একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে অন্যপাশে দিয়ে বের হতে সময় লাগতে পারে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

যেভাবে যাবেনঃ

রাজধানী ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আরামদায়ক বাস ছাড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১৫টি। সাইদাবাদ, কমলাপুর, গাবতলী, ফকিরাপুল, কলাবাগান ও টিটি পাড়া থেকে টিকেট সংগ্রহ করে এস আলম, স্টার লাইন, শ্যামলী, সৌদিয়া, শানিত্ম স্পেশাল ও খাগড়াছড়ি এক্সপ্রেসযোগে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে ট্রেনে ফেনী এসেও হিলকিং অথবা হিল বার্ড বাসে চড়ে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকেও শানিত্ম স্পেশাল ও লোকাল বাসে উঠে যাওয়া যায় খাগড়াছড়িতে।