রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর জেলা

630

রাজেন্দ্র কলেজ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার সবচেয়ে পুরাতন কলেজ। কলেজটি ১৯১৮ সালে প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা অম্বিকাচরণ মজুমদারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৫ সালে অম্বিকাচরণ মজুমদারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটি ফরিদপুর শহরে কলেজটি স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য ৮০ হাজার টাকার তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯১৮ সালে ফরিদপুরের জেলা কালেক্টরের মাধ্যমে ৫.৫০ একর জমি কলেজের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই বছরের এপ্রিল মাসে ফরিদপুর জেলা কালেক্টর মি. ডনলপ কলেজ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ফরিদপুরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় । কেননা এ সময় ফরিদপুর জেলায় ৩৫টি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে । ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করা শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করতে ফরিদপুর শহরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি উস্থাপিত হয় । কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হন । অতঃপর ফরিদপুরে কলেজ প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন জেলার বিখ্যাত আইনজীবি এবং প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা (অবিভক্ত কংগ্রেসের সভাপতি) অম্বিকাচরণ মজুমদার ।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে কলেজের গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৮ সালের সামরিক আইন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালের হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে কলেজের ছাত্ররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুক্তিযুদ্ধেও এই কলেজের ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অনেক ছাত্র  মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং কিছুসংখ্যক ছাত্র শহীদ হন। এই কলেজের কতিপয় ছাত্র জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন কবি জসীমউদ্দীন, লেখক নরেন্দ্রনাথ মিত্র ও নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, শিক্ষাবিদ এস.এন.কিউ জুলফিকার আলী ও বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেন।

কলেজে আবাসিক সুবিধার মধ্যে রয়েছে ৬টি ছাত্রাবাস (২টি মেয়েদের ও ৪টি ছেলেদের)। কলেজের রয়েছে ২টি ক্যাম্পাস: শহর ক্যাম্পাস এবং বায়তুল আমান ক্যাম্পাস। ১৯৭২ সালে প্রধান ক্যাম্পাস থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বায়তুল আমান ক্যাম্পাস স্থাপিত হয়। শহর ক্যাম্পাসে ইন্টারমিডিয়েট এবং ডিগ্রি পর্যায়ের ক্লাস হয়। প্রশাসনিক কার্যক্রমও শহর কাম্পাসে হয়। অনার্স এবং মাস্টার্সের ক্লাস হয় বায়তুল আমান ক্যাম্পাসে।

কিভাবে যাবেন:-

রাজধানী শহরের সংগে সরাসরি বাস যোগাযোগ আছে। আন্তঃজেলা বাস যোগাযোগব্যবস্থা আছে। ঢাকা থেকে ফরিদপুরে সাধারনত সড়ক পথেই যাতায়াত করা হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে ফরিদপুরে সড়ক পথে যাতায়েত করতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা, তবে ফেরী পারাপারের সময় যানজট থাকলে সময় বেশী লাগে।