মধুপুর গড়

965

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমনের অনেক স্থান থাকলেও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর গড়ের শালবন তাদের মধ্যে অন্যতম। এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান এবং বাংলাদেশের প্রাচীনতম জাতীয় উদ্যান। ঢাকা মহানগরী থেকে ১২৫ কিলোমিটার উত্তরে টাঙ্গাইল জেলাস্থ ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে এই উদ্যান অবস্থিত। বর্তমানে উদ্যানটি টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতাভুক্ত। ২০ হাজার ৮৩৭ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই উদ্যানটি বিশেষ করে মে মাসে শালের জীর্ণ পাতারা ঝরে পড়ে নতুন পত্রপুষ্পে সুশোভিত হয়। চারিদিকে শুধু সবুজের সমারোহ ও বনের অভ্যন্তরে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রজাতির চারা ও লতা-গুল্ম মন ভরিয়ে দেয়। ঠিক এই সময়টাতেই উদ্যানের আসল সুন্দর রুপ দেখা যায়। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা দেয়া হয়।

বর্তমানে এ উদ্যানে ১৯০ প্রজাতির প্রাণি রয়েছে যার মধ্যে আছে ২১ প্রকার স্তন্যপায়ী প্রাণি, ১৪০ ধরনের পাখি ও ২৯ প্রজাতির সরিসৃপ। এ বনের বাসিন্দা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুখপোড়া হনুমান, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, লাল মুখ বানর, বন্য শুকর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বনে দেখতে পাওয়া পাখিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্ট্রুর্ক বিলড কিংফিশার বা মেঘ হু মাছরাঙ্গা, খয়রা গেছো পেঁচা, কাঠ ময়ূর, বন মোরগ, মুরগি। এ বনের মধ্যখানে লহরিয়া বন বিট কার্যালয়ের কাছে হরিণ প্রজনন কেন্দ্রে আছে। বর্তমানে সেখানে বেশ কিছু হরিণ। নানা গাছপালায় সমৃদ্ধ জাতীয় এ উদ্যান। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শাল, বহেড়া, আমলকি, হলুদ, আমড়া, জিগা, ভাদি, অশ্বত্থ, বট, সর্পগন্ধা, শতমূলী, জায়না, বিধা, হারগোজা, বেহুলা ইত্যাদি। এ ছাড়া নানান প্রজাতির লতাগুল্ম আছে এ বনে।

দোখলা বন বিশ্রামাগার ছাড়াও এখানে চুনিয়া আর বকুল নামে দুটি কটেজ আছে। এ ছাড়া আছে জুঁই আর চামেলি নামে বনবিভাগের দুটি পিকনিক স্পট। এখান থেকে কাছাকাছি দূরত্বে আছে আদিবাসীদের কয়েকটি গ্রাম।

কীভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে মধুপুর যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। ঢাকার মহাখালি বাস স্টেশন থেকে বিনিময় ও শুভেচ্ছা পরিবহনের বাস চলে এ পথে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ দুটি পরিবহন সংস্থার বাস চলাচল করে। ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা।