মহেরা জমিদার বাড়ি

1108

বাংলাদেশে যে কয়টি জমিদার বাড়ী সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাথে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে তাদের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় বেশ কয়েকটি জমিদার বাড়ী রয়েছে। যার মধ্যে মহেরা জমিদার বাড়ি অন্যতম। ঢাকা – টাংগাইল মহাসড়কে নাটিয়াপাড়া বাজার হতে আনুমানিক ৪ কিলোমিটার পূর্বে মহেড়া জমিদার বাড়ি অবস্থিত । ১৮৯০ দশকের পূর্বে স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে টাঙ্গাইলের মহেড়া জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১ হাজার ১৭৪ শতাংশ জমির ওপর এই মহেড়া জমিদার বাড়ি অবস্থিত। এটি তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি। তিনটি স্থাপনার প্রতিটাতে অসাধারণ কারুকার্য করা। এসব কারুকার্য দেখলেই মন ভরে যাবে। ১৯৭২ সালে এ জমিদার বাড়িটি পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং ১৯৯০ সালে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত করা হয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায় যে তৎকালীন সময়ে কালীচরণ সাহা ও আনন্দ সাহা নামে দুজন জমিদের ছিলেন। কালীচরণ সাহা ও আনন্দ সাহা, দুই ভাই কলকাতায় লবণ ও ডালের ব্যবসা করে প্রচুর টাকা-পয়সা রোজগার করে চলে আসেন মহেড়া গ্রামে। মহেড়া গ্রামে এসেই তারা এ সুবিশাল বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়ি নির্মাণ করার পর মহেড়া গ্রামের গরিব মানুষের কাছে টাকা দাদন খাটাতে থাকেন এবং প্রচুর উন্নতি করেন।

বাড়িটিত্র অনেক গুলো লজ কিংবা ভবন রয়েছে। কালীচরণ ভবন, চৌধুরী লজ, আনন্দ লজ এবং মহারাজা লজ তাদের মধ্যে অন্যতম। কালীচরণ লজ আর চৌধুরী লজের সামনে রয়েছে দুটি সিংহ দরজা। কালীচরণ ভবন ছাড়া বাকি সবগুলো প্রাসাদই দ্বিতল, যাদের সামনের দিকে রয়েছে কোরান্থিয়ান স্তম্ভের সারি। চুন সুরকি আর ইটের সমন্বয়ে তৈরি ভবনগুলোর কার্নিশ, প্যানেলের কারুকাজ চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। আনন্দ লজ এবং মহারাজা লজের দু’পাশে একতলা কাচারি ভবন আর সামনে বড় লনে ফুলের বাগান। বাড়ির সামনেই আছে বিশাল এক দীঘি, নাম বিশাখা সাগর। ভবনগুলোর পিছনে আছে পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর নামে দুটি পুকুর।

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা থেকে মহেরা যেতে সময় লাগে ৩-৪ ঘণ্টা। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে “ঝটিকা সার্ভিস” নামে বাস সার্ভিস রয়েছে। এছাড়া অন্য সার্ভিসও রয়েছে। নামতে হবে “নাটিয়া পাড়া” বাস স্ট্যান্ডে। এরপর অটোরিক্সা অথবা রিক্সায় সরাসরি মহেরা জমিদার বাড়ি। গেটে টিকিট কেটে জমিদার বাড়িতে প্রবেশ করতে হবে। প্রতি টিকিটের মূল্য ২০টাকা।