বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

577

বায়েজিদ বোস্তামী আমাদের দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অলৌকিক এক ব্যক্তিত্ব, ঈশ্বর ভক্তের প্রতীক, অনুকরণীয় এক ইসলামী আদর্শ বলে স্মরিত। ধর্মীয় বিশ্বাসের উত্তপ্ত হাওয়া সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের বিচার বুদ্ধি কতখানি দূরীভূত করে, ধর্মের রঙিন বর্ণনা কি ভাবে তাদের নেশা গ্রস্থ করে রাখে, তারা যে সত্য অসত্য বিচারে তথ্য প্রমাণের খোজ রাখে না, ধর্মের অলৌকিকত্বে সহজে মুগ্ধ হয়ে তারা ছাইপাসেও পূর্ণ বিশ্বাস আনে- তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বায়েজিদ বোস্তামী সম্পর্কে প্রচলিত গল্পকথা। বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার চট্টগ্রাম এর নাসিরাবাদের একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। ইরানের বিখ্যাত পার্সিয়ান সুফি বায়েজিদ বোস্তামীর নামে গড়ে উঠা এই মাজার চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি চট্টগ্রামে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্যও একটি অত্যন্ত আকর্ষনীয় স্থান।

বায়েজিদ বোস্তামী ৮০৪ খ্রীষ্টাব্দে ইরানের বোস্তাম শহরে জন্ম গ্রহণ করেন এক ধর্মাশ্রিত পরিবারে। আগেকার দিনে কিছু কিছু দেশে নামের শেষে জন্ম গ্রহণকারী অঞ্চলের নাম জুড়ে দেওয়ার রীতি বেশ প্রচলিত ছিল। তারি ধারাবাহিকতায় তাঁর নামের শেষে বসে যায় বোস্তামী শব্দটি। বোস্তামী মানে- বোস্তাম শহরের বাসিন্দা। পিতা মাতার দেওয়া তাঁর নাম ছিল আবু ইয়াজিদ বিস্তামী। তাঁর পিতার নাম ছিল তয়ফুর। বাবার নামানুসারে আবার কেউ কেউ তাঁকে ডাকেন তায়ফুর আবু ইয়াজিদ আল্ বোস্তামী নামে। তখন পৃথিবী জুড়েই ঝাঁকিয়ে বসেছিল ধর্মীয় উন্মাদনার গণজোয়ার। একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে মানত ধর্মীয় অনুশাসন। সবার মনের গহীনে কম বেশি উঁকি দিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হওয়ার স্বপ্ন।

মাজারটি। এর পাদদেশে রয়েছে একটি বিশালাকার পুকুর। আর ওই পুকুরের মূল আকর্ষণ বিস্ময়কর কচ্ছপ বা কাছিম বা মজার মাছ। স্থানীয়রা তাদের মাজারি ও গজারি বলেই আখ্যায়িত করে। এ কচ্ছপ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অত্যন্ত বিরল এবং বিপন্নপ্রায় প্রজাতি। বর্তমানে বায়েজিদ বোস্তামির মাজার ছাড়া তাদের বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য খুব আকর্ষনীয় এ কচ্ছপ। মাজারের কচ্ছপগুলো দেখলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। এই কচ্ছপগুলোর অনেকগুলোরই বয়স প্রায় ২০০-২৫০ বছর। কচ্ছপের আয়ু অনেক বেশি, সাধারণভাবেই তারা প্রায় ১০০ বছরের ওপরে বাঁচে। ফলে কচ্ছপগেুলোর বয়সজনিত ভক্তদের দাবি প্রায় কয়েকশত বছরের পুরাতন এই মাজার।

তবে মাজারের ভক্তরা ও আঞ্চলিক জনশ্রুতি অনুযায়ী মাজার প্রতিষ্ঠাকালে এ অঞ্চলে প্রচুর দুষ্ট জিন এবং পাপীষ্ঠ আত্মার পদচারণা ছিল। বায়েজিদ বোস্তামী তার এ অঞ্চলে ভ্রমণকালে এসব দুষ্ট আত্মাকে শাস্তিস্বরূপ কচ্ছপে পরিণত করেন এবং আজীবন পুকুরে বসবাসের দণ্ডাদেশ দেন।

যেভাবে যাবেন:-

দেশের যেকোন অঞ্চল থেকে সড়ক, নৌ বা রেলপথে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসুন। চট্টগ্রাম এর নাসিরাবাদের একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই মাজার।চট্টগ্রাম শহরতলীতে  বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার অবস্থিত হওয়ায় যে কোন স্থান থেকে অটো কিংবা রিক্সা করে বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারে যাওয়া যায়।