আমানত শাহ (রহ.) এর মাজার

1340

বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রাম। ইসলামের বাণী প্রচারে অন্ধ ধর্ম থেকে পবিত্র আলোকময় জীবনদানের জন্য যুগে যুগে সৎ, মহৎ ও আদর্শ পবিত্র বাণী নিয়ে মানবতার কল্যাণে মহৎ আদর্শবাদীরা আলোকিত পথ দেখিয়েছেন মানুষকে। চট্টগ্রামের বার জন আউলিয়া সূফীতত্ত্ব বিকাশের ও মানব কল্যাণে কাজ করে চট্টগ্রামকে পবিত্র ধর্ম ইসলামের বাণী মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। সেই চট্টগ্রামের শহর কুতুব শাহ সূফী হযরত আমানত শাহ (রহ.)। এখনও চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ও দেশ-বিদেশি পুণ্যার্থী প্রতিদিন এ কামেল দরবেশের দরবারে হাজির হন। চট্টগ্রাম নগরীর প্রাচীন লালদিঘীর পূর্ব পাড়স্থ এলাকায় আমানত শাহ (রহ.) এর পবিত্র মাজারের অবস্থান।

ঐতিহাসিকদের মতে এ বিখ্যাত কামেল পীর ও দরবেশের জন্মস্থান বিহারে। ১০৯৫ আরবি হিজরী মোতাবেক ১৬৮৫ সালে। তাঁর পিতা নিয়ামত আলী শাহ (রহ.), পিতামহ শায়খ ছয়রুদ্দিন শাহ (রহ.)। হযরত আমানত শাহ (রহ.) এর পিতা ও পিতামহ দুজনেই পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচার প্রসারে বিহারে ভূমিকা রাখেন। শিশু আমানত শাহ বাল্যকালেই পিতার কাছ থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। সংসারের সমস্ত মায়ামমতা ত্যাগ করে তিনি আধ্যাত্নিক জ্ঞান অর্জনের জন্য বিহার থেকে কাশ্মির চলে যান। কাশ্মিরে গিয়ে তিনি প্রখ্যাত সাধক পীর হযরত শহীদ (রহ.) এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১২ বছর তিনি তাঁর পীরের কাছে অবস্থান করে আধ্যাত্নিক জ্ঞান অর্জন এবং সাধনা করে আধ্যাত্নিক জগতের শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছে যেতে পেরেছিলেন। তাঁর পীর তাঁকে বেলায়েতের সমস্ত ক্ষমতা প্রদান করেন এবং তাঁকে ইসলাম ধর্ম প্রচার এবং মানব কল্যাণের পথে নিজেকে নিয়োজিত করার উপদেশ দেন। হযরত শাহ্ আমানত (রহ.) চট্টগ্রামের বেলায়েত রক্ষা এবং ইসলাম প্রচারের জন্য সুদূর বিহার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তিনি চট্টগ্রামে এসে নিজের পরিচয় গোপন রেখে চট্টগ্রামের কোর্ট বিল্ডিং এ পাখা টানার চাকুরী গ্রহণ করেন। দিনের বেলায় তিনি চট্টগ্রামের কোর্ট বিল্ডিং এ চাকুরী করতেন আর রাতের বেলায় লালদীঘির পূর্ব পারস্থ নিজস্ব ছোট্ট কুঠিরে আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থকাতেন। তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান কালে ইসলাম প্রচারের কাজ করতেন এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উত্সর্গ করেছিলেন। চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন অবস্থান করে ইসলাম এবং মানবতার কল্যাণ করে ১১৮৭ হিজরীর ৩১ জেলক্বদ তারিখে ১২৫ বছর বয়সে ইন্তেকালের পর তাঁকে লালদীঘির পূর্বপারস্থ খানখাহ শরীফে দাফন করা হয়।

এখনও সাধারন মানুষ মামলা মোকাদ্দমা জেতার উদ্দেশ্যে লোকজন তাঁর মাজার জেয়ারত করে থাকে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কর্ণফুলী নদীতে নির্মিত শাহ আমানত সেতু এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হল তাঁর নামেই নামকরণ করা হয়।

যেভাবে যাবেন:-

দেশের যেকোন অঞ্চল থেকে সড়ক, নৌ বা রেলপথে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসুন। আমানত শাহ (রহ.) এর পবিত্র মাজার চট্টগ্রাম শহরতলীতে  অবস্থিত হওয়ায় যে কোন স্থান থেকে অটো কিংবা রিক্সা করে আমানত শাহ (রহ.) এর পবিত্র মাজারের যাওয়া যায়।