পাবনা জেলা| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

914

অবিভক্ত ভারত উপ-মহাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট ও ঐতিহ্যবাহী প্রদেশ বঙ্গদেশ। যার জেলার সংখ্যা ছিল সে সময়ে ২৮টি। তারই একটি জেলার নাম পাবনা। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তান ছিল বাংলাদেশ। তার উত্তারাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের আয়তনের দিক থেকে পাবনা জেলা ছিল বৃহৎ। পাবনা জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য অতি প্রাচীন। সুদীর্ঘ কালের চড়াই উৎরাই ভাংগা-গড়া জয় -পরাজয় ও আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এ জেলার জনপদ। ফলে এখানকার মানুয়ের চেহারায়, আকৃতিতে, রক্তে, ভাষায় ও আচার আচরণে ঐতিহ্যবাহীর ছাপই শুধু বিদ্যমান নয়। বরং অনেক বৈশিষ্ট আজও কালের সাক্ষী হিসেবে দেদীপ্যমান।

নামকরণ:-

এ জেলার ইতিহাস খুঁজতে হলে অবিভক্ত পাক-ভারত উপ-মহাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রদেশ “বঙ্গদেশ” এর দিকে দৃষ্টিপাত করতে হয়। এই বঙ্গদেশ নামীয় অঞ্চল বঙ্গ, রাঢ়, পুন্ড্র, গৌড়, সমতট, হরিকেল ইত্যাদি জনপদে বিভক্ত ছিল। বর্তমান পাবনা জেলা ছিল পুন্ড্র জনপদে বিভক্ত। আরও জানা যায়, পুন্ড্র জনপদে পৌদ জাতি বসবাস করতো। এ পৌদ জাতির বাসস্থান ‘‘ পুন্ড্র বর্ধন ভূমি হতে এবং পতিত পাবনী সঙ্গার পূর্বগামী ধারাত্রয়ের অন্যতম ‘পাবনী’ হতে বর্তমান পাবনা জেলার নামকরণ করা হয়েছে।

ভৌগোলিক সীমানা:-

বাংলাদেশে অবস্থিত পাবনা জেলা রাজশাহী বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ সৃষ্টি করেছে। এটি ২৩°৪৮′ হতে ২৪°৪৭′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০২′ হতে ৮৯°৫০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এর উত্তর দিক ঘিরে আছে সিরাজগঞ্জ জেলা আর দক্ষিণে পদ্মা নদী একে ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া জেলা হতে পৃথক করেছে। এর পূর্ব প্রান্তদিয়ে যমুনা নদী বয়ে গেছে এবং পশ্চিমে নাটোর জেলা। পাবনার আমিনপুর থানার কাজীরহাট নামক স্থানে পদ্মা ও যমুনা নদী পরস্পর মিলিত হয়েছে।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ:-

আটঘরিয়া উপজেলা,

ঈশ্বরদী উপজেলা,

চাটমোহর উপজেলা,

পাবনা সদর উপজেলা,

ফরিদপুর উপজেলা,

বেড়া উপজেলা,

ভাঙ্গুড়া উপজেলা,

সাঁথিয়া উপজেলা,

সুজানগর উপজেলা,

আমিনপুর থানা,

আতাইকুলা থানা

বিখ্যাত খাবার:-

ঘি

বিখ্যাত স্থান:-

ভাঁড়ারা শাহী মসজিদ

জোড়বাংলার মন্দির

তাড়াশ বিল্ডিং

পাবনা ক্যাডেট কলেজ

প্রশান্তি ভুবন বিনোদন পার্ক

অনুকূল ঠাকুর টেম্পল

পাবনা মানসিক হাসপাতাল

সমন্বিত লাগসই কৃষি প্রযুক্তি জাদুঘর

চাটমোহর শাহী মসজিদ

সমাজ শাহী মসজিদ

হান্ডিয়াল জগন্নাথ মন্দির

হরিপুর জমিদারবাড়ি পুকুর

মথুরাপুর মিশন

চলনবিলের সূর্যাস্ত

বড়াল ব্রিজ রেলসেতু

বৃদ্ধমরিচ শাহী মসজিদ

জমিদার রানীর পুকুরঘাট

শেখ শাহ্? ফরিদ (রহ.) মসজিদ

লর্ড হার্ডিঞ্জ রেল সেতু

লালন শাহ সেতু

ঈশ্বরদী রেলজংশন

ঈশ্বরদী ইপিজেড

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর

কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট

শহীদনগর স্মৃতিস্তম্ভ

বেঙ্গল মিট

সুজানগর আজিম চৌধুরীর জমিদারবাড়ি

গাজনার বিল

হজরত মাহতাব উদ্দিন শাহ আউলিয়ার মাজার

তাঁতীবন্দ জমিদারবাড়ি

বিখ্যাত বস্ত্র:-

লুঙ্গি

কিভাবে যাবেন:-

স্থল পথে

ঢাকা থেকে পাবনায় বাসে যাওয়া যায়। এসি বাসে খরচ পড়বে ৩০০৳ আর নন-এসি বাসে খরচ পড়বে ৪০০৳। উল্লেখযোগ্য বাস সেবাগুলি হল:-

সি লাইন

পাবনা এক্সপ্রেস

সিলভার লাইন

আকাশ পথে

ঈশ্বরদী উপজেলায় একটি বিমানবন্দর রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঈশ্বরদীতে সপ্তাহে দুইবার বিমান পরিচালনা করত। তবে, এই মুহূর্তে কোনও উড়োজাহাজ কোম্পানি ঈশ্বরদীতে কোন বিমান পরিচালনা করছে না।

রেলপথে

পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কাছাকাছি পাবনা রেলওয়ে স্টেশন অবস্থিত। কাছাকাছি রেল স্টেশনগুলি তেবুনিয়া, চাটমোহর উপজেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলায় অবস্থিত। ঈশ্বরদী উপজেলা উত্তর বাংলার এবং বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলওয়ে শাখা। এই জেলায় নয়টি রেলওয়ে স্টেশন আছে: ঈশ্বরদী, ঈশ্বরদী বাইপাস, পাকশি, মুলাদুলী, চাটমোহর, ভঙ্গুর, বরল সেতু, শারত নগর, দিলপশার এবং গুয়াকারা।

পাবনা শহরে কোন রেললাইন না থাকলেও কিছু ট্রেন ঈশ্বরদী মূল জংশনে থামে। চাটমোহর এবং ঈশ্বরদী রেল স্টেশন থেকে বাসে চড়ে সহজেই পাবনা শহরসহ পাবনার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব। যেসব ট্রেনে চড়ে চাটমোহর কিংবা ঈশ্বরদী যাওয়া যায়:

খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস

খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস

রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস

রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস

রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস

দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস