লাউচাপড়া পাহাড়িকা অবকাশ কেন্দ্রে

1066

শহুরে মানুষদের প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ ঘটে বছরে খুব কম সময়ই। আর তাই ছুটির দিনগুলোকে একান্ত প্রকৃতির সাথে বিলিন করতে প্রকৃতি প্রেমিরা যেতে পারেন জামালপুরের লাউচাপড়া। ওয়াচ টাওয়ারের উপরে উঠে যত দূরে চোখ যায় শুধুই সবুজের বিস্তীর্ণ বিস্তার। থাকার জায়গাগুলো আটসাঁট হলেও মিলবে প্রকৃতির হিমেল ছোঁয়া। ছুটির দিনগুলো কেটে যাবে কাঠ ঠোকরা আর হলদে পাখির কলতানে। জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জের লাউচাপড়া পাহাড়িকা অবকাশ কেন্দ্রে বেড়াতে গেলে এমন কিছুর সন্ধান পেতে পারেন।

সীমান্তঘেঁষা বকশীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছবিরমতো গারো পাহাড়ের সারি আর বনভূমি। গারো আদিবাসীদের পাহাড়ি গ্রাম, বনভূমি, পাহাড়-টিলা। পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে অজ¯্র ছোট-বড় স্বচ্ছ ঝরনা ধারা, পাখির কলকাকলী আর দিগন্তবিস্তৃত সবুজ সব মিলিয়ে নিসর্গ সুন্দরের অপূর্ব এক বিশাল ক্যানভাস। প্রকৃতি, আলো-হাওয়া, সুন্দরের টানে যারা বেড়াতে ভালোবাসেন- তারা নির্দ্বধিায় চলে আসতে পারেন এখানে। ওপাশে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলা আর এ পাশে বাংলাদেশের জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলা। সেখানে আবার রয়েছে মস্তবড় এক ওয়াচ টাওয়ার। প্রায় ২৫০টি সিঁড়ি ধাপ অতিক্রম করে উপরে উঠলে চারিদিকে সবুজ ছাড়া কিছুই আর চোখে পড়েনা। দূরে দেখা যায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আকাশ ছোঁয়া সব পাহাড়। চারিদিকটা কেমন যেন ছবির মতো মনে হয়।

প্রকৃতির উজাড় করা সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ি গ্রামগুলো। বন, পাহাড়, পাথর, ঝরনা আর আদিবাসীদের নিজেদের মতো জীবনযাপন দেখতে আর নগর কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে ডুবে যেতে এবং সবুজ-সুন্দর আকণ্ঠ পান করতে এখানে আসতে পারেন। এই সুন্দরের টানে এখানে ছুটে আসতে পারেন একা, পরিবার নিয়ে অথবা দলবেঁধে পিকনিক করতে। আপাত নির্জন-নিভৃত এই অঞ্চলটিতে এসে ভুলে যেতে পারেন শহরের কোলাহল আর নগর-যন্ত্রণা।

এখানে হিংস্র কোনো প্রাণী নেই। তবে ধানী মৌসুমে সীমান্তের ওপারের গভীর পাহাড় থেকে নেমে আসতে পারে বন্য হাতির দল। এখানে আছে নানান জাতের অসংখ্য পাখ-পাখালি। জোছনা রাতে পাহাড়ে বসে অবগাহন করতে পারেন চরাচর ব্যাপী আলোকিত জ্যোৎস্না। পাহাড়ের খাঁজে-ভাঁজে অবস্থিত লাউচাপড়া, দিঘলাকোনা, বালুঝুড়ি, সাতানীপাড়া, পলাশতলা, মেঘাদল, শুকনাথপাড়া, গারোপাড়া, বালিজোড়া, সোমনাথপাড়া, বাবলাকোনা গ্রামের গারো, কোচ, হাজং আদিবাসী পরিবারের জীবন-যাপনে মুগ্ধ হতে পারেন।

যেভাবে যাবেনঃ-

জামালপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে খুবই ভাল। বৃটিশ আমল থেকেই ঢাকা থেকে বাহাদুরাবাদ এবং জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের সাথে ট্রেণ যোগাযোগ ছিল। রেলপথে মানুষ স্বাচ্ছন্দে কম খরচে যাতায়াত করতে পারতেন। বর্তমানে ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে জামালপুরে যাতায়াত করা যায়। ঢাকা থেকে রেলপথে জামালপুরের দূরত্ব ১৭৭ কিঃমিঃ এবং সড়ক পথের দূরত্ব ২০০ কিঃমিঃ। ৪টি আন্ত:নগর ট্রেনসহ- বেসরকারী ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করে। জামালপুর জেলা সদর থেকে ৩৮ কিলোমিটার উত্তরে বকশীগঞ্জ উপজেলা।

জায়গাটি জামালপুর জেলার অধীনে হলেও যাওয়ার সহজপথ হলো শেরপুর হয়ে। শেরপুর হতে অসাধারণ সুন্দর আরও একটি পথ রয়েছে। শেরপুর হতে গজনী হয়ে পাহাড়ী পথে সীমান্ত ঘেঁসে লাউচাপড়া পিকনিক স্পট পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মিত হয়েছে।