শ্রী শ্রী দয়াময়ী মন্দির| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

680

জামালপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীদের কারুকার্যপূর্ণ ধর্মীয় দর্শনীয় অন্যতম প্রতিষ্ঠান শ্রী শ্রী রীঁ দয়াময়ী মন্দির। আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের পুরাতন এ মন্দির। আনুমানিক ৩০০ বছর পূর্বে প্রাচীন রাজা শ্রী কৃষ্ণ ও তার পত্মি দয়াময়ি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। জামালপুর শহরের জিরো পয়েন্টের কাছে অবস্থিত প্রাচীন মন্দির। প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্য রীতির সংমিশ্রণে এ মন্দিরটি নির্মিত।

প্রতিবছর অষ্টমী পূজা উপলক্ষ্যে এখানে প্রচুর লোক সমাগম হয়।এখানে প্রাচীন সভ্যতা ও আধুনিক স্থাপত্যের কারকায্যের সংমিশ্রনে এর নির্মাণ কাজ করা হয়। এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক জন প্রতিদিনই বিভিন্ন পূজা আচর্জণা করে থাকে এবং প্রতি বছর অস্টমী মেলার সময় বিভিন্ন দেবতার নামে মান্নত করা হয়। মন্দিরটি দেখার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত অনুরাগীরা ও দর্শনার্থীগণ এখানে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন।

তত্কালীন নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ এর আমলে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিল ময়মনসিংহ জেলার তত্কালীন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অন্তর্গত বর্তমানে গৌরিপুর রামগোপালপুর জমিদারের জমিদারি জাফরশাহী পরগণার জায়গীরদার শ্রী কৃষ্ণ রায় চৌধুরী। মন্দিরটি ১৬৯৮ইং খ্রিস্টাব্দে ১১০৪বাংলা সনে আজ থেকে প্রায় ৩ শ ১৫বত্সর পূর্বে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মন্দিরটি পরবর্তীতে দেবতাদের নামে উত্সর্গ (দেবোত্তর) এস্টেট হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন তত্কালীন রানি শ্রীমতি নারায়ণী রায় চৌধুরী। জনশ্রুতি রয়েছে জায়গীরদার শ্রী কৃষ্ণ রায় চৌধুরী ঔরসজাত সন্তান রাজা যোগেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর সহধর্মিণী রাধারঙ্গিনী দেবী চৌধুরানি, তিনি স্বপ্নযোগে আদীষ্ট হয়ে স্বামীকে অনুরোধ করে পরবর্তী মন্দিরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন। পুরানো মন্দিরে রয়েছে শিবমন্দির, কালিমন্দির, নাটমন্দির, মনস দেবীর মন্দির একই স্থানে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব মন্দিরে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন কারুকার্যপূর্ণ চিত্রকর্ম রয়েছে।

যেভাবে যাবেনঃ-

জামালপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে খুবই ভাল। বৃটিশ আমল থেকেই ঢাকা থেকে বাহাদুরাবাদ এবং জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের সাথে ট্রেণ যোগাযোগ ছিল। রেলপথে মানুষ স্বাচ্ছন্দে কম খরচে যাতায়াত করতে পারতেন। বর্তমানে ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে জামালপুরে যাতায়াত করা যায়। ঢাকা থেকে রেলপথে জামালপুরের দূরত্ব ১৭৭ কিঃমিঃ এবং সড়ক পথের দূরত্ব ২০০ কিঃমিঃ। ৪টি আন্ত:নগর ট্রেনসহ- বেসরকারী ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করে। জামালপুর শহরের ০ পয়েন্টে দয়াময়ী মন্দির অবস্থিত। জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রিক্সা বা ইজিবাইকে যাওয়া যায়।