নলডাঙ্গা মন্দির | ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

499

বাংলাদেশে বিভিন্ন সম্প্রদ্রায়ের মানুষ বসবাস করে। তাদের এক এক ভাষা এক এক সংস্কৃতি। এই বাংলায় যতগুলো মন্দির রয়েছে তাদের প্রায় সব গুলোই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে। ঝিনাইদহের ঐতিহাসিক নলডাঙ্গা মন্দির তাদের মধ্যে অন্যতম একটি মন্দির। ইতিহাস গত দিক থেকে এই নলডাঙ্গা মন্দির এর গুরুত্ব অনেক।

প্রকৃতপক্ষে এই নলডাঙ্গা রাজ প্রাসাদ আর রাজবংশের ইতিহাস কালের গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে পাকিস্থান আমলেই। প্রকৃতপক্ষে রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেবরায় ছিলেন বর্তমান ঝিনাইদহ জেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের গুরুগোবিন্দ ঘোষালের কনিষ্ট পুত্র। তিনি রাজ বংশের কেউ ছিলেন না। রাজা ইন্দু ভূষন মারা যাওয়ার দীর্ঘ নয় বছর পর ১৮৭৯ সালে পূর্ণ জমিদারী ভার গ্রহন করেন রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেবরায়। ১৯১৩ সালে তিনি রাজা বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত হন। সে সময় তিনি শিক্ষার প্রতি অনুরাগি হয়ে পিতা-মাতার নামে ইন্দুভূষণ ও মধূমত নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এরপর ১৮৭০ সালে রাজা ইন্দু ভূষন যক্ষা রোগে মারা গেলে তার নাবালক দত্তক পুত্র রাজা বাহাদুর প্রথম ভূষণ দেবরায় রাজ্যের দ্বায়িত্ব ভার গ্রহন করেন। এবং তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন আজকের এই বিলুপ্তপ্রায় কয়েকটি মন্দির যা কালের সাক্ষী হিসাবে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে বেগবতী নদীর তীরে।

এক সময় এ রাজ্যে ছিলে রাজা, রাজ্য ও রাজা রক্ষায় ছিল সৈন্যবাহিনী। রাজপ্রাসাদ রক্ষার জন্য চারপাশে খনন করা হয়েছিল পরিখা। কিন্তু সেই প্রাসাদে রাজা নেই, রাজ্যও নেই।রাজা বাঁচার জন্য নদীর সঙ্গে সংযোগ করে তৈরি করেছিলেন সুড়ঙ্গ। কিন্তু সেটিও মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এখন রাজার স্মৃতি হিসেবে এই মন্দিরগুলোই রয়েছে পাশাপাশি। জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ও কালীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে এই প্রাচীন রাজবাড়ির অবস্থান। পাকিস্তান আমলেই এ রাজবাড়ি কালের গর্ভে বিলীন হলেও বেগবতি নদীর ধারে বহুকাল ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কালীমাতা মন্দির, লক্ষী মন্দির, গণেশ মন্দির, দুর্গা মন্দির, তারামনি মন্দির, বিষ্ণু মন্দির, রাজেশ্বরী মন্দিরসহ সুদৃশ্য ৭টি মন্দির।

কিছু দিন আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে পাওয়া প্রায় দেড় কাটি টাকা ব্যয়ে রাজার ৪টি মন্দিরগুলো সংস্কার করা হয়। ১টি মন্দির সংস্কার অর্ধেক হয়েছে ২য় তলার কাজ পুরো বাকি। আর বাকি ২টি মন্দির এখনো সংস্কার করা যায়নি। প্রতিদিন অনেকেই দেশ-বিদেশ থেকে এ মন্দির গুলো দেখতে আসেন। স্থানীয় ভাবে এই মন্দির গুলো নলডঙ্গা রাজবাড়ি নামে পরিচিত।

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করে সড়কপথে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় ঝিনাইদহে যেতে পারবেন। এছাড়া, আকাশপথে যশোর পর্যন্ত পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে ঝিনাইদহে পৌছাতে পারবেন। ঝিনাইদহে পৌছাতে আপনার কোন ভ্রমনজনিত কষ্ট হবে না কারন ঢাকার সাথে ঝিনাইদহের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। ঝিনাইদহে পৌঁছে আপনি গলাকাটা মসজিদে খুব সহজেই পৌছাতে পারবেন। এছাড়া যশোর থেকে কালীগঞ্জে বাসে করে পৌঁছে সেখান থেকে রিকশায় করে নলডাঙ্গায় যেতে পারবেন। ঝিনাইদহ শহরে রিকশাই হল পরিবহনের প্রধান মধ্যম। এছাড়া আপনি সেখানে ভ্যানও পেয়ে যাবেন। রিকশা অথবা ভ্যানে করে অল্প খরচে আপনি শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে পারবেন।