মাদারীপুর জেলা

790

বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্তরগত একটি স্বতন্ত্র জেলা হলো মাদারীপুর। প্রধাণত পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদী, টর্কী নদী, পালং নদী, কুমার আপার নদী সহ মোট ১০টি নদীর অববাহিকায় এ অঞ্চলটি গড়ে উঠেছে। নদী প্রধান অঞ্চল হওয়ার এই জেলাতে বিপুল পরিমান কৃষিজাত পণ্য উৎপাদিত হয়।ধান,পাট,সরিষা এঅঞ্চলের প্রধান কৃষিজাত পন্য।তবে এ জেলা থেকে পাট এবং পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়। এই জেলার উওর অংশে ফরিদপুর, পূর্বে শরিয়তপুর, পশ্চিমে গোপালগজ্ঞ এবং দক্ষিণে বরিশাল জেলা রয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অবদান রাখা অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের জন্ম স্থান এই জেলাটি।

নামকরণের ইতিহাস:-

অতি প্রাচীন কালে মাদারীপুর জেলার নাম ছিলো “ইদ্রিলপুর”।পঞ্চাদশ শতাব্দীতে বিখ্যাত সুফি সাধক “জিন্দা শাহ মাদার (র:) এ অঞ্চলে আসেন। তিনি এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরূ করেন এবং একটা সময় সারা অঞ্চল জুরে তার হাজারো অনুসারী তৈরি হয়। পরবর্তীতে এ অঞ্চলটিকে জেলায় রূপান্ততর করার সময় সুফি সাধক জিন্দা শাহ মাদার এর কথা মাথায় রেখেই তার নাম অনুসারে জেলাটির নামকরণ করা হয় মাদারীপুর।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য:-

মাদারীপুর একটি ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ।পঞ্চাদশ শতাব্দীর সাধক জিন্দা শাহ মারাদির নাম অনুসারে এ জেলাটির নামকরণ করা হয়। প্রাচীন কালে এ অঞ্চলটি ইদ্রিলপুর চন্দ্রদীপ রাজ্যের একটি উন্নতত জনপদ ছিলো। তখন এ অঞ্চলের প্রশাসনিক নাম ছিলো “নাব্যমন্ডল”। নদী দ্বারা বেস্টিত হওয়ায় তখনকার সময়ে এই অঞ্চলটি মূলত ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সুপরিচিত ছিলো। পরবর্তীতে ৭৫০ থেকে ১২২৪ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চলটি পাল বংশের রাজারা শ্বাসন করেন। পাল বংশের রাজাদের পর ইংরেজ শ্বাসনের শুরূর দিকে কিছু আগ পর্যন্ত এ অঞ্চলটি বারভূইয়ার অধীনে পরিচালিত হতো। ১৭৫৭ সালে ইংরেজ শ্বাসন সুরূ হবার পর থেকে এ অঞ্চলটি ইংরেজদের ব্যবসা বিস্তারের জন্য গুরূত্ব পূর্ণ স্থানে পরিচণ হয়। তার ফলশ্রূতিতে ১৮৫৪ সালে মাদারীপুর প্রশাসনিক অঞ্চলের স্বীকৃতি পায়। ইংরেজ আমালে মাদারীপুর অনেক আন্দোলন ও সংগ্রামের তীর্থভূমি ছিলো। ইংরেজদের শ্বাসনকালে উপমাহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মাদারীপুরের বিপ্লবীরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। এ জেলার কৃতী সন্তান “চিওপ্রিয় রায় চৌধূরী” ১৯১৫ সালে বালেশ্বর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪৭ সালে দুই বাংলা বিভক্ত হবার পর এ অঞ্চলটি পূর্বপাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত হয়।

দর্শনীয় স্থান:-

১)ঐতিহ্যবাহী শকুনী দীঘি

২)সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি

৩)সেনাপতির দিঘি

৪)রাজা রামমোহন রায়ের বাড়ি

৫)গনেশ পাগলের সেবাশ্রম

৬)পর্বত বাগান

৭)হযরত শাহ মাদারের দরগাহ

৮)আলগী কাজি বাড়ি মসজিদ

৯)রাজা রাম মন্দির

১০)ঝাউদি গিরি

১১)আউলিয়াপুর নীলকুঠি

১২)মিঠাপুর জমিদার বাড়ি

১৩)প্রণব মঠ, বাজিতপুর

১৪)মঠের বাজার মঠ, খোয়াজপুর

১৫)খালিয়া শান্তিকেন্দ্র

১৬)মাদারীপুর স্পিনিং মিলস

১৭)চরমুগরিয়া(প্রাচীন বন্দর ও বানরের রাজ্য)

বিখ্যাত খাবার:-

খেজুর গুড় এবং রসগোল্লা