কীর্তিপাশার জমিদারবাড়ি|

332

সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নে জেলার প্রাচীনতম জনপদের নিদর্শন কীর্তিপাশার জমিদারবাড়ি। কালের সাক্ষী এ পুরাকীর্তিটি এখন বিলীনের পথে। প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ, সংস্কার আর সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করালে কালের সাক্ষী এই বাড়িটি হতে পারে দেশের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র।

অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বিক্রমপুর পোরাগাছার রাজারাম সেনগুপ্ত কীর্তিপাশায় আসেন। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে তিনি জলাশয় ও বনভূমির তালুক দুই ছেলে কৃষ্ণ কুমার সেনগুপ্ত ও দেবীচরণ সেনগুপ্তের জন্য পূর্ব বাড়ি ও পশ্চিম বাড়ি পত্তন করেন, যা পরে ১০ আনা বড় হিস্যা ও ছয় আনা ছোট হিস্যা জামিদারবাড়িতে রূপান্তরিত হয়। কালের বিবর্তনে ছোট হিস্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তবে ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও সেখানে কমলীকান্দার নবীন চন্দ্র নামে বালিকা বিদ্যালয়ের কারণে কিছুটা ঐতিহ্য ধরে রেখেছে আজও। সংরক্ষণ আর সংস্কারের অভাবে বড় হিস্যার নাটমন্দির, হলঘর, ছোট-বড় মন্দির ও জমিদারদের শান বাঁধানো পুকুর ধ্বংসের পথে।

স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রায় দেড়শ’ বছর আগে কীর্তিপাশা জমিদারপুত্র রাজকুমারকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়। স্ত্রী নিজেকে সতী প্রমাণ করতে স্বামীর সঙ্গে জ্বলন্ত শ্মশানে সহমরণে যান। প্রাচীন সেই স্বামীভক্তির লোমহর্ষক ঐতিহ্যের সহমরণ সমাধিটিও ধ্বংসের পথে। রাজা কীর্তি নারায়ণের নামানুসারে কীর্তিপাশা। রামজীবন সেন কীর্তিপাশা জমিদারবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। এ বংশের সন্তান রোহিনী রায় চৌধুরী ও তপন রায় চৌধুরী দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। গাবখান নদীর তীরে স্টিমারঘাট রোহিনীগঞ্জ রোহিনী রায় চৌধুরীর অবদান। সেই সঙ্গে ইতিহাস গ্রন্থ বাকলা। কীর্তিপাশায় আছে হাসপাতাল যা ঝালকাঠি থানা সদরে (জেলা সদর) হাসপাতালের চেয়েও পুরনো। পুরনো বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্বমহিমায় উজ্জ্বল মূল জমিদারবাড়িটি এবং দুর্গামন্দির এখন পরিত্যক্ত হয়ে আগাছাপূর্ণ হয়ে আছে। নাট্যশালার চিহ্ন রয়েছে এখনও। মঞ্চের গ্রিনরুম এবং হলরুমে পুনর্বাসিত হয়েছে বালিকা বিদ্যালয়টি। সতীদাহ প্রথার চিহ্ন একটি সহমরণ সমাধির চিহ্ন আছে এখনও। রোহিনী রায় চৌধুরীর সমাধিটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। পারিবারিক শিবমন্দির এবং একটি শিবমূর্তি আছে এখনও।

দর্শনীয় স্থান হিসেবে কীর্তিপাশা জমিদারবাড়ি অনেক পরিচিত এবং আরও অনেক বিস্ময়কর দেখার মতো কীর্তি রয়েছে যেমন একটি সতীদাহ প্রথার সমাধি এবং জমিদার প্রসন্ন কুমার রায় চৌধুরীর সমাধি মন্দির একটি শিবমন্দির। এগুলো দেখতে এখানে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অনেক লোক আসেন এবং এই জমিদারবাড়ি ঘুরতে আসেন আর এখানে এসে তারা অনেক সময় পিকনিক করে থাকেন। কীর্তিপাশা জমিদারি এই পরিবারের দুর্গাদাস সেনের প্রপৌত্র কৃষ্ণরাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। কৃষ্ণরাম এবং তার অপর দুই ভাই রায়েরকাঠি জমিদারদের কর্মচারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। কোনো এক সময়ে জয় নারায়ণের জমিদারি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলেও কৃষ্ণরামের বুদ্ধিমত্তায় জমিদারি রক্ষা করা সম্ভব হয় এবং তিনি মজুমদার উপাধিতে ভূষিত হন।

কিভাবে যাবেনঃ-

নদ-নদী ও সমুদ্র বেষ্টিত এই জেলায় যাতায়াতের জন্য নৌ-পথই সবচেয়ে সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। এছাড়া সড়ক পথেও এই জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা সদরঘাট নদী বন্দর লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে ঝলকাঠির উদ্দেশ্যে যেসব গাড়ি ছেড়ে যায় গুলিস্তান থেকে। ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলী উভয় বাস টার্মিনাল থেকেই ঢাকা-পিরোজপুর রুটের ফেরি পারাপার গাড়ি রয়েছে। সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো মাওয়া সংলগ্ন পদ্মা নদী পার হয়ে পিরোজপুর যাতায়াত করে। আর গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো পাটুরিয়া সংলগ্ন পদ্মা নদী পার হয়ে পিরোজপুর রুটে চলাচল করে।