দুর্গাসাগর দিঘি | ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

759

আমদের এই বাংলাদেশে বৃহৎ দীঘি  আছে উল্লেখ করার মতো অনেক গুলোই। শুধু বড়ই নয়, আরো কিছু বৈষিষ্ট্যের কারণে চোখে পড়ে বিশেষ বিশেষ কিছু দীঘি। বাংলাদেশের অন্য সকল অঞ্চলের মতো বরিশালে দুর্গাসাগর দিঘি নামে তেমনি একটি দিঘি রয়েছে। এই দিঘিকে ঘিরে রয়েছে এক বর্ণাঢ্য ইতিহাস।

বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা গ্রাম। মাধবপাশা ছিল চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের সর্বশেষ রাজধানী। ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের তৎকালীন রাজা শিবনারায়ণ তার স্ত্রী দুর্গা রানীর নামে খনন করেন এক বিশাল জলাধার। নাম দেওয়া হয় ‘দুর্গাসাগর’। রাজধানী মাধবপাশায় রাজাদের তেমন কোনো স্মৃতিঘেরা স্থাপনা না থাকলেও দুর্গাসাগর দীঘিটি এখনও চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য এবং রাজাদের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপ পরগণার তৎকালীন রাজা শিব নারায়ণ উক্ত এলাকার পানির সংকট নিরসনের লক্ষ্যে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় করে দীঘিটি খনন করেন। জানা যায়, রাজার স্ত্রী রানী দুর্গাবতী একবারে যতদূর পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছিলেন ততদূর পর্যন্ত এই দীঘিটি খনন করা হয়। কথিত আছে রানী দুর্গাবতী দীঘি খননের উদ্দেশ্যে ৬১ কানি জমি পর্যন্ত হেঁটেছিলেন। দুর্গাসাগর দীঘির তিন দিকে তিনটি ঘাটলা রয়েছে এবং মাঝখানে ছোট্ট দ্বীপ।দীঘিটি স্থানীয় জনগণের কাছে দুর্গাসাগর মাধবপাশা দীঘি নামেও সুপরিচিত। নানা গাছগাছালিতে ঘেরা দুর্গাসাগর দীঘি অপূর্ব ও মনমাতানো রূপ যেকোনো মানুষকেই আকৃষ্ট করবে। এছাড়া দীঘির প্রতিটি বাঁক আপনাকে মোহিত করবে। এক হিসেব অনুযায়ী, ৪৫ একর ৪২ শতাংশ জমি নিয়ে দীঘির অবস্থান। ২৭ একর ৩৮ শতাংশ আয়তন নিয়ে জলাশয় এবং ১৮ একর ৪ শতাংশ জমি নিয়ে পাড় তৈরি করা হয়েছে। চারপাশে হাঁটার রাস্তা রয়েছে ১.৬ কিলোমিটার।

দুর্গাসাগর দীঘির বিভিন্ন স্থানে মাচা পাতা আছে। মাচায় বসে মাছ ধরা যায়। দীঘির মাঝে খানিক জায়গাজুড়ে রয়েছে একটি ছোট্ট দ্বীপ। বড় বড় গাছের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে মাটির তৈরি হরিণ, বাঘ ইত্যাদি। চারপাশে নারকেল, মেহগনি, সুপারিসহ অন্যান্য গাছ রয়েছে। বছরের যেকোনো সময় দুর্গাসাগর দীঘি ভ্রমণে যেতে পারবেন তবে শীতকালে গেলে অন্যরকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি অর্জন করতে পারবেন।

কিভাবে যাবেন:

দেশের যেকোনো স্থ্না থেকে দুর্গাসাগর দীঘি দেখতে যেতে হলে জলপথে বা স্থলপথে বরিশাল শহরে যেতে হবে। বরিশাল থেকে যেতে হবে বানাড়িপাড়া নেছারাবাদে। এছাড়া বরিশাল থেকে সিএনজি, অটোরিকশা ভাড়া করে দুর্গাসাগর দীঘির সামনে পর্যন্ত যাওয়া যায়। বরিশাল থেকে বাসে চড়েও যাওয়া যায়।