চান্দার বিল

1088

গোপালগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী চান্দার বিল আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে উচু বন ভূমি ছিল বলে জানা যায়। এখানে তখন জনবসতি ছিল না ছিল বন্য পশুর অবাধ বিচরন ক্ষেত্র। ভূমিকম্পের ফলে ওই সব বনভূমি দেবে গিয়ে বিশাল জলাভূমিতে পরিনত হয়। বিগত ৩শ’ বছর আগে চান্দার বিল এলাকা ঘিরে জনবসতি গড়ে উঠে। ০ হাজার ৮৯০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত চান্দার বিল জীব বৈচিত্রে ভরা এক বিশাল জলাভূমি। এর পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত মধূমতি বিলরুট ক্যানেল।

চান্দার বিলে সাড়ে ৫ হাজার কুয়া রয়েছে। বর্ষা চলে যাওয়ার সময় এ সব কুয়ায় মাছের জন্য আকর্ষনীয় বিভিন্ন গাছের ডাল কেটে ফেলে রাখা হয়। এই কুয়া থেকেই শুস্ক মৌসুমে পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি সেচের মাধ্যমে মাছ ধরা হয়। এ ভাবে মাছ ধরার ফলে ক্ষুদে পোনা এবং মাছের ডিম পর্যন্ত বিনাশ হয়ে যায়। প্রতি মাসে ২ হাজার টন শামুক নিধন হয় এই চান্দার বিলে। মাছের পাশপাশি রয়েছে বিপুল পরিমান শামুক। বিগত ৭/৮ বছর যাবত এ শামুক ব্যাপক ভাবে নিধন করা হচ্ছে। এখানকার শামুক চিংড়ির খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫০টি ট্রলার ও শতাধিক ডিঙ্গি নৌকা শামুক ধরায় ব্যস্ত থাকে। অসংখ্য দরিদ্র নারী-পুরুষ শামুক ধরাকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলে যেখানে চিংড়ি চাষ হচ্ছে সেখানে এগুলো নিয়ে যাওয়া হয়।

এক জরিপের তথ্যে জানা যায়, প্রতি মাসে চান্দার বিল থেকে গড়ে ২ হাজার টন শামুক ধরা হয়।চান্দার বিলের আরেক জলজ প্রানীর মধ্যে কুচিয়া অন্যতম। কুচিয়া দেখতে সর্পাকৃতি এক ধরনের মাছ বিশেষ। এ বিলে কি পরিমান কুচিয়া আছে তা নিরুপন করা সম্ভব নয়। কার্তিক মাস থেকে জৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কুচিয়া ধরার উপযুক্ত সময়। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও শেরপুর এলাকার খ্রীষ্টান উপজাতি এবং রংপুরের হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন চান্দার বিলে কুচিয়া ধরতে আসে। প্রতিদিন একজন শিকারী ৫ কেজি থেকে ১০কেজি পর্যন্ত কুচিয়া ধরে বলে জানা যায়। চান্দার বিলের খনিজ সম্পদ পিট কয়লা চান্দার বিলের আরেক সম্পদ হলো পিট কয়লা। চান্দার বিলের নদীর তীরে মাঠ-ঘাঠ কিংবা বিল অঞ্চলের ৩/৪ হাত মাটি খুড়লে বেরিয়ে আসে পিট কয়লা। অতিথি পাখির আগমন চান্দার বিলে এখনো অতিথি পাখি আসে। কিন্তু আগের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসে না।

যেভাবে যাবেনঃ-

গোপালগঞ্জ জেলার সদর, মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩৪টি মৌজা নিয়ে আজকের চান্দার বিল। তাই চান্দার বিল দেখতে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোন দিক নাই। যে সব অঞ্চলের উপর দিয়ে চান্দার বিল প্রবাহিত সেসব অঞ্চলের যে কোন একটি স্থান থেকে চান্দার বিলের প্রকৃত সুন্দর রুপ দেখা যায়।