বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ

751

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণেই বিশেষায়িত টুঙ্গিপাড়া। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ অবস্থিত। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ছুটে যান সেখানে। কবর জিয়ারতের পাশাপাশি মনোরম দৃশ্যও ভালো লাগে ভ্রমণপিপাসুদের।

গোপালগঞ্জ শহর থেকে ৩০-৩৫ মিনিটের পথ টুঙ্গিপাড়া। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান এই টুঙ্গিপাড়া গ্রামের শেখ বাড়ি। ১৯৭৫ সালে দেশদ্রোহী ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নিহত হওয়ার পর শুধু তাঁকে দাফন করা হয় এখানে। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর করব ঘিরেই গড়ে ওঠে সমাধিসৌধ। বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ঢুকতে কোনো প্রবেশমূল্য দিতে হয় না।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯৯ সালের ১৭ মার্চ সমাধিসৌধের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ৩৮.৩০ একর জমির ওপর ১৭ কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সহযোগিতায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এ সমাধিসৌধ নির্মাণ করে।

কমপ্লেক্সের সামনের দু’পাশের উদ্যান পেরোনোর পরই বঙ্গবন্ধুর কবর। পাশেই তার বাবা-মায়ের কবর। এই তিন কবরকে ঘিরেই নির্মাণ করা হয়েছে মূল স্থাপনা। সাদা পাথরে নির্মিত গোলাকার এক গম্বুজ বিশিষ্ট সমাধিসৌধের ওপর দেয়ালে জাফরি কাটা। এর মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো আসে। উপরে কারুকাজ করা কাচ ভেদ করেও আলো ছড়িয়ে পড়ে কবরে।

চারদিকে কালো টাইলস ও মাঝখানে শ্বেতশুভ্র টাইলসে বঙ্গবন্ধুর কবর বাঁধানো। উপরের অংশ ফাঁকা। কবর তিনটি ঘিরে রাখা হয়েছে সংক্ষিপ্ত রেলিং দিয়ে। ২০০১ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কন্যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সমাধিসৌধের উদ্বোধন করেন। কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে পাঠাগার, গবেষণাকেন্দ্র, প্রদর্শনীকেন্দ্র, মসজিদ, পাবলিক প্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, উন্মুক্ত মঞ্চ, বকুলতলা চত্বর, স্যুভেনির কর্নার, প্রশস্ত পথ, মনোরম ফুলের বাগান ও কৃত্রিম পাহাড়।

মাজার কমপ্লেক্সের পাঠাগারে দেড় হাজারেরও বেশি বই রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ‘আমার কিছু কথা’, শেখ হাসিনার লেখা ‘আমার পিতা শেখ মুজিব’, ‘ওরা টোকাই কেন’ প্রভৃতি গ্রন্থ। এক নম্বর ফটকের প্রবেশমুখ ও দুই নম্বর ফটকের সামনে দুটি সাইনবোর্ডে সুন্দর দুটি  কবিতা লিখে রাখা হয়েছে।

যেভাবে যাবেনঃ-

গোপালগঞ্জের লঞ্চ ঘাট থেকে বাসে করে টুঙ্গিপাড়ায় পৌছাতে পারবেন। আপনাকে টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী তে বাস থেকে নামতে হবে। টুঙ্গিপাড়ায় পৌছাতে বাসের ভাড়া পরবে প্রায় ২৫/- টাকা। পাটগাতী থেকে ব্যাটারিচালিত বাহনে করে ১০/- টাকা ভাড়ায় ৬ মিনিট থেকে ১০ মিনিটে সমাধিসৌধে পৌছাতে পারবেন।