টংকনাথ চৌধুরী বাড়ি| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

610

বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য আর অন্যতম একটি অংশ রাজবাড়ি। বাংলার প্রায় প্রতিটি জেলা শহরেই বিভিন্ন সময়কার রাজাদের নিদর্শন সম্বলিত রাজ বাড়ি গুলো এখন সগৌরবে দাড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে অন্যতম একটি হল ঠাকুরগাঁও জেলার রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি। ১৯১৫ সালে রাজা বুদ্ধিনাথ চৌধুরীর পুত্র টংকনাথ চৌধুরী এই বাড়ি নির্মাণ করেন।

রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নে কুলিক নদীর তীরে মালদুয়ার জমিদার রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি। টংকনাথের পিতার নাম বুদ্ধি নাথ চৌধূরী। বুদ্ধিনাথ চৌধূরী ছিলেন মৈথিলি ব্রাক্ষণ এবং কাতিহারে ঘোষ বা গোয়ালা বংশীয় জমিদারের শ্যামরাই মন্দিরের সেবায়েত। নিঃসন্তান বৃদ্ধ গোয়ালা জমিদার কাশিবাসে যাওয়ার সময় সমস্ত জমিদারি সেবায়েতের তত্ত্বাবধানে রেখে যান এবং তাম্রপাতে দলিল করে যান যে, তিনি কাশি থেকে ফিরে না এলে শ্যামরাই মন্দিরের সেবায়েত এই জমিদারির মালিক হবেন। পরে বৃদ্ধ জমিদার ফিরে না আসার কারণে বুদ্ধিনাথ চৌধুরী জমিদারী পেয়ে যান। তবে অনেকে মনে করেন এই ঘটনা বুদ্ধিনাথ চৌধুরীর দু-এক পুরুষ পূর্বের ও হতে পারে। রাজবাড়ি নির্মাণের কাজ বুদ্ধিনাথ চৌধূরী শুরু করেল ও সমাপ্ত করেন রাজা টংকনাথ। বৃটিশ সরকারের কাছে টংকনাথ রাজা উপাধী পান। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে রাজবাড়িটি নির্মিত হয়। রাজবাড়ির পশ্চিম দিকে সিংহদরজা। রাজবাড়ি সংলগ্ন উত্তর পূর্ব কোণে কাছারি বাড়ি। পূর্ব দিকে দুটি পুকুর। রাজবাড়ি থেকে প্রায় দু’শ মিটার দক্ষিণে কুলিক নদীর তীরে রাস্তার পূর্ব পার্শ্বে রামচন্দ্র (জয়কালী) মন্দির।

কথিত আছে, টংকনাথের আমন্ত্রণে তৎকালীন বড়লাট এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজনাথ রায় রাণীশংকৈলে এলে আমন্ত্রিত অতিথিদের টাকা নোট পুড়িয়ে রীতিমতো রাজকীয় অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করান এবং পর্যাপ্ত স্বর্ণালংকার উপহার দেন। এর ফলে তৎকালীন বৃটিশ সরকারের কাছ থেকে চৌধুরী উপাধি এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজনাথ রায়ের কাছ থেকে রাজা উপাধি পান। বর্তমানে রাজবাড়ি ও মন্দিরের অনেক অংশই নষ্ট হয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে পাক সেনারা মন্দিরটির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

যেভাবে যাবেন:

ঠাকুরগাঁও জেলা শহর হতে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রানীশংকৈল উপজেলা। উপজেলা শহর হতে ১ কিলোমিটার পূর্বে কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত এই রাজবাড়িটি। ঠাকুরগাঁও জেলা শহর অথবা উপজেলা শহর হতে যেকোনো লোকাল বাহনে করে যেতে পারবেন রাজা টংকনাথের রাজবাড়িতে।