সুবলং জলপ্রপাত| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

0
331

কৃতিক নিসর্গ আর মনোরম কাপ্তাই হ্রদ ঘেঁষে প্রবাহিত ঝরনাধারা রাঙ্গামাটির সুবলং জলপ্রপাত। সেটির আনন্দ উপভোগ করতে এ বর্ষায় ঘুরে আসতে পারেন জলপ্রপাতটি। এটি এখন দেশ ছাড়িয়ে দৃষ্টি কেড়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটক ও পর্যবেক্ষক মহলে। রাঙামাটি থেকে জলপথে সোজা মাইল আটেক গেলে সৌন্দর্যের ঝরনা শুভলং। রাঙামাটির প্রায় তিন দিকেই কাপ্তাই হ্রদ। এই জলপথ দিয়ে বরকল যাওয়ার আগে দুই পাহাড়ের মাঝে সরু পথটি হচ্ছে শুভলং। উত্তর-দক্ষিণের দিকে বিস্তৃত পাহাড় এখানে ভাগ করে কর্ণফুলী নদী ছিল আগে। শুভলং-এর পুবদিকে হেমন্ত বসন্ত পাহাড়।

প্রায় দুই দশক আগে ঝরনাটি আবিষ্কার করেছিলেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। এক সময় সেটি ছিল সবুজ পাহাড় আর ঘন অরণ্যে ঘেরা। পরে পর্যটকদের আকর্ষণ দেখে সেটিকে সংস্কার করে বরকল উপজেলা প্রশাসন। বর্তমানে সুবলং ঝরনাধারা ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি দর্শনীয় স্পট। নদী পথে আসা-যাওয়ার সময় সবার নজর কাড়ে স্পটটি। বরকল উপজেলা প্রশাসন জানায়, বর্তমানে সুবলং ঝরনা দেশে-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। সেখানে পূর্ণাঙ্গ একটি পর্যটন স্পট নির্মাণ করা হয়েছে। ঝরনাধারার ওপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি সেতু। এছাড়া পর্যটকদের সুবিধার জন্য সেখানে কয়েকটি অবকাঠামো নির্মাণ করে টিকিট কাউন্টার, বিপণিবিতান, বিশ্রামাগার, টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। স্পটে প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা। রাঙ্গামাটির সুবলং ঝরনা দেখতে প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে অসংখ্য পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে স্পটটি। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও ঝরনা ধারাটি জেগে থাকে সব ঋতুতে। বর্তমানে পর্যটকদের ভিড় জমছে প্রতিদিন। বিশেষ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ভিড় জমে বেশি।

কীভাবে যাবেনঃ

দুপাশে উঁচু পাহাড় তার মাঝ থেকে নিরবধি বয়ে চলা কাপ্তাই লেক। রাঙামাটি শহর থেকে ইঞ্জিন বোটে শুভলং যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘন্টা। রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার, পর্যটন ঘাট ও রাংগামাটি বিভিন্ন স্থান থেকে স্পীড বোট ও নৌ-যানে করে সহজেই সুবলং যাওয়া যায়। যার ভাড়ার পরিমাণ ঘন্টা প্রতি স্পীড বোট ঘন্টায় ১২০০-১৫০০/- এবং দেশীয় নৌযান যাওয়া আসার ভাড়া ৭০০-১৫০০ টাকা, যেতে পারবেন ১০ থেকে ২০ জন। সম্প্রতি চালু হয়েছে এই পথে আধুনিক জলযান কেয়ারী কর্ণফুলী। এছাড়া রিজার্ভ বাজার থেকে সকাল থেকে দুপুরের পর পর্যন্ত লোকাল লঞ্চ ছাড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে। সকালে উঠলে ফিরতি পথেও পেয়ে যাবেন কোনো লঞ্চ। ঘুরে আসতে পারেন সেসব কোনো লঞ্চেও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here