পতিসর কুঠিবাড়ি| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

904

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই নামটি শুনতেই মনে চলে আসে অসংখ্য গান, কবিতা, উপন্যাস ও ছোট গল্পের সমাহার। রবীন্দ্রনাথ মানেই বাঙালীর মনন ও সাহিত্যের আরেক নাম। আমাদের দেশের অনেক জায়গার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে কবির স্মৃতিচিহ্ন। তাই ছুটিতে শহুরে যান্ত্রিকতা ছেড়ে হৃদয় দোলাতে আপনজনদের নিয়ে ঘুরে আসুন রবীন্দ্র-স্মৃতিবিজড়িত এসব জায়গাগুলোতে। আর কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত অন্যতম একটি জায়গা হল নওগাঁর পতিসর কুঠিবাড়ি।

ক্রয়সূত্রে ১৮৩০ সালে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর কালিগ্রাম পরগনা জমিদারির অন্তর্ভূক্ত করেন। পতিসর কালিগ্রাম পরগনার সদর দপ্তর। নওগাঁ, বগুড়া ও নাটোর জেলার ৬ শ টি গ্রাম নিয়ে কালিগ্রাম পরগনা গঠিত। এর আয়তন ছিল ২৩০ বর্গমাইল। রাতোয়াল আর ভান্ডারগ্রাম আরো দুটি সাব কাচারী ছিল। রাতোয়াল পতিসর থেকে ১০ কিলোমিটার আর ভান্ডারগ্রাম ২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। কালিগ্রাম পরগনার সীমানা ছিল উত্তরে মালশন আদমদিঘী দক্ষিনে আত্রাই নদী, পূর্বে নাগর নদীর পশ্চিম তীর আর পশ্চিমে নাগর বিধৌত বাঁকা-কাশিয়াবাড়ি গ্রাম।  কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের বাংলাদেশে ছিল ৩ টি জমিদারী। পতিসরে কবির গুরুর আসা ইচ্ছাকৃত ভাবে নয়, অনেকটাই ভাগ্যক্রমে । এজমালি সম্পত্তির সবশেষ ভাগে বিরাহিমপুর ও কালিগ্রাম পরগনার মধ্যে সত্যেন্দ্র পুত্র সুরেন্দ্রনাথকে তাঁর পছন্দের অংশ বেছে নিতে বললে সে তখন বিরাহিমপুরকে পছন্দ করে তখন স্বভাবতই রবীন্দ্রনাথের অংশে এসে পরে কালিগ্রাম পরগনা যার সদর পতিসর।

এই কাচারী বাড়িতে রবি ঠাকুরের পরিবার কর্তৃক স্থাপন করা বেশ কিছু স্থাপনা রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইন্সটিটিউশন এবং দাতব্য হাসপাতাল ও একটি কৃষি ব্যাংক; যা ১৯০৫ সালে স্থাপিত হয়েছিল। এই কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমেই রবি ঠাকুর তার নোবেল পুরুস্কারের পাওয়া অর্থ পাঠিয়েছিলেন এখানকার মানুষের মাঝে বিতরনের জন্য। সবশেষে তিনি এই অঞ্চলে আসেন তার নোবেল পুরুস্কার পাওয়ার পর।

পতিসরের স্থাপনাগুলো দেখতে শিলাইদহ ও শাহজাদপুরের কাচারীর মতই। পতিসরে রয়েছে একটি দো-তলা কুঠিবাড়ি। তাছাড়া এই কুঠিবাড়ি ঘিরে বেশ কিছু ভবন রয়েছে, যেগুলো ধ্বংস প্রায়। মূল ভবনের পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। পূর্বে পুকুরটি বেশ বড় ছিল, তবে কালক্রমে এটি ভরাট হয়ে গিয়েছে। পতিসর কাচারী বাড়ির মূল ভবনের সামনেই তৈরি করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি মূর্তি।

যেভাবে যাবেন:

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস কিংবা ট্রেনে নওগাঁ/শান্তাহার বা নাটোর এসে পরে আত্রাই আসতে পারেন। নাটোর থেকে আত্রাই বাস, ট্রেন ও নদীপথে নৌকায় আত্রাই আসা যায়। ঢাকা থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, আল নাফি ইত্যাদি বাস নওগাঁর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আত্রাই থেকে পতিসর কাচারিবাড়ি যেতে হবে নসিমনে চড়ে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here