দুবলহাটি রাজবাড়ী| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

810

ঐতিহাসিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ নওগাঁর জনপদে অবস্থিত রাজপ্রাসাদগুলো ধ্বংসের মুখে পতিত হওয়া সত্ত্বেও আজো এগুলো আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি, নওগাঁ শহর হতে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে দুইশত বছরের পুরাতন স্থাপনা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দুবলহাটি জমিদার বাড়ী। অনেকে একে দুবলহাটি রাজবাড়ী নামেও অভিহিত করে থাকেন।

“রাজবাড়ী” শব্দটি ব্যাবহারের কোন ইতিহাস জানা যায় নাই। ধারণা করা হয়, আগেকার লোকেরা জমিদার তথা ধনীশ্রেণীর লোকদের রাজা-বাদশা বলে অভিহিত করে থাকত; আর সেখান হতেই হয়ত রাজবাড়ী হিসেবে এই জমিদার বাড়ী চিহ্নিত হয়েছে। সারা বাংলাদেশ জুড়ে যে সকল জমিদার বাড়ীগুলো দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোর তুলনায় দুবলহাটি জমিদার বাড়ী ব্যাতিক্রম। বিশাল অঞ্চলজুড়ে এর ব্যাপ্তি যা কিনা ময়মনসিংহের ভাওয়াল রাজবাড়ী’র কথা মনে করিয়ে দেয়।

১৭৯৩ সালে লর্ড কর্ণওয়ালিসের কাছ থেকে ১৪ লক্ষ ৪ শত ৯৫ টাকা দিয়ে দুবলাহাটি এলাকার পত্তন নিয়ে জমিদারী পরিচালনা শুরু করেন জমিদার কৃষ্ণনাথ। কৃষ্ণনাথ এর কোন পুত্র সন্তান না থাকায় তার কন্যার পুত্র (নাতি) হরনাথ রায় ১৮৫৩ সালের জমিদারীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই হরনাথ রায়ের সময়েই দুবলাহাটি রাজ্যের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এসময় তিনি দুবলহাটি রাজ প্রাসাদের সৈৗন্দর্য বৃদ্ধি, নাট্যশালা নির্মাণ ও প্রজা সাধারণের সুপেয় পানীয় জলের কষ্ট দূর করার জন্য রাজ প্রাসাদের পাশে অনেক পুকুর খনন করেন। হরনাথ রায় চৌধুরী ও তার পুত্র কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরীর সময় এর ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। প্রাসাদের বাইরে ছিল দীঘি, মন্দির, স্কুল, দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৬ চাকার রথসহ বিভিন্ন স্থাপনা। প্রাসাদের ভেতরে ও বাইরে ছিল নাটক এবং যাত্রামঞ্চ। সেখানে নিয়মিত নাটক ও যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হতো।জমিদারি প্রথা বিলুপ্তি হওয়ার পর হরনাথ রায় স্বপরিবারে চলে যান ভারতে। এই জমিদার বংশের স্মৃতি স্বরূপ থেকে যায় বিশাল সুরম্য অট্টালিকা যার নাম হয় দুবলাহাটি জমিদার বাড়ী তথা রাজবাড়ি। ইট-সুরকিতে নির্মিত এ বাড়িতে আছে সুরম্য প্রাসাদ, দুর্গা মন্দির, রঙ্গমঞ্চ। বাড়ির মূল ভবনটিতে কমপক্ষে একশটি কক্ষ আছে। এছাড়া কারুকাজময় বারান্দা, রঙিন কাচের অলংকরণ, নানা ধরনের ভাস্কর্য এ জমিদার বাড়ির প্রধান আকর্ষণ।

যেভাবে যাবেন:

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস কিংবা ট্রেনে নওগাঁ/শান্তাহার বা নাটোর এসে পরে আত্রাই আসতে পারেন। নাটোর থেকে আত্রাই বাস, ট্রেন ও নদীপথে নৌকায় আত্রাই আসা যায়। ঢাকা থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, আল নাফি ইত্যাদি বাস নওগাঁর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আত্রাই থেকে দুবলহাটি রাজবাড়ী যেতে হবে নসিমনে চড়ে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here