ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ

539

মাথিনের কূপ এক ঐতিহাসিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন-স্পট। এক অমর প্রেমের স্মারক। প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ছাড়াও টেকনাফের এই পর্যটন-স্পটটি আজও মানুষের মন না কেড়ে পারে না। দেশ-বিদেশের যে-কোনো ভ্রমণার্থীদের একে ঘিরে কৌতূহল ও আগ্রহ যথেষ্ঠ। কূপটি ঘিরে আছে রাখাইন সম্প্রদায়ের মগ কন্যা মাথিন আর একসময়কার আলোচিত অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের এক অদ্ভুত প্রেম-কাহিনী। নাফ নদীর পাশে টেকনাফ থানার ভেতরে এই মাথিনের কূপ।

আঠারো শতকের শেষদিকে টেকনাফে সুপেয় পানির খুবই অভাব ছিল। থানা প্রাঙ্গনে একটিমাত্র মিষ্ট পানির কূপ ছিল যা সমগ্র টেকনাফের একমাত্র। প্রতিদিনই রাখাইন তরুণীরা পাতকূয়ায় জল নিতে আসতেন। ধীরাজ ভট্টাচার্য কলকাতা থেকে এখানে বদলী হয়ে আসেন। অন্যান্য রাখাইন তরুণীর সাথে রাখাইন জমিদার কন্যা মাথিন জল নিতে আসতেন। এভাবে ধীরাজের সাথে মাথিনের প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। দুজনে বিয়ে করারও সিন্ধান্ত নেন। কিন্তু হঠাৎ করে কলকাতা থেকে আসা চিঠিতে ধীরাজকে জানানো হয় যে বাবা গুরুতর অসুস্থ আছেন। ফলে, কলকাতায় ফিরে যাবার প্রস্তুতি নেন ধীরাজ। কিন্তু মাথিন এতে রাজি ছিলেন না। তাঁর ধারণা ছিল যে, পরদেশী বাবু চলে গেলে আর ফিরে আসবেন না। তাই মাথিনকে না জানিয়ে ধীরাজ কলকাতা চলে যান। মাথিন বেশ কষ্ট পান ও নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দেন। কোনভাবেই তাঁকে বোঝানো যায়নি। একসময় মাথিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

লোকমুখে ও পরবর্তীতে সাহিত্যে অমর হয়ে ওঠার কারণে কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ থানা কম্পাউন্ডে অবস্থিত এই কূপটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসেন মানুষ। কূপে জল নেই আর আগের মতো। কূপের চারপাশে ফলগাছ ও বৃক্ষরাজি দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সজ্জিত প্রাঙ্গণের মধ্যে ছাউনিতে ঢাকা কূপের নিথর জলের দিকে তাকালে এখনও মানুষের মনে খেলে যায় হিম শীতল অনুভূতি।

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা থেকে সরাসরি টেকনাফের বাস আছে। এসি বা ননএসি দুই ধরনের বাস পাওয়া যায়। (বাসভাড়া ৯০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত) বাস থেকে নেমে হেঁটে অথবা রিকশায় টেকনাফ থানা আর থানার ভেতরে এই মাথিনের কূপ। কক্সবাজার থেকে অনেক বাস সার্ভিস আছে, ভাড়ায় জিপ পাবেন।