জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান

548

প্রাচীন ইতিহাস থেকে জানা যায় যে বাংলাদেশ ভূখন্ডে প্রাচীনতম উদ্যান ‘চৈতন্য নার্সারি’ ১৮৯৪ সালে জামালপুরে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ১৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যানে ছিল শ্যাকুয়া, অ্যাজালিয়া, ভিক্টোরিয়া রিজিয়া, আফ্রিকান ওয়েলপাম, গোমটি পাম, সুপার পাম, জাপানি তুঁত, মোমপ্রদ তালগাছ, গোলমরিচ, কর্পূর, দারুচিনি, ছোট এলাচ, পীচ, কফি, ডবল নারিকেল সহ পৃথিবীর বিভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলের বহু কৃষিজ, জলজ ও শোভাময় উদ্ভিদ। ১৯৩০ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের মৃত্যুর পর অর্থাভাব ও সংরক্ষণের অভাবে উদ্যানটি বিনষ্ট হয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে অদূরে মীরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানটি (National Botanical Garden) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বাগানের আয়তন প্রায় ৮৪ হেক্টর জুড়ে। এখানে প্রচুর সংখ্যক জলজ উদ্ভিদসহ গাছগাছালির প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ৫০,০০০। অনেক প্রজাতির বিদেশী গাছপালা এখানে রোপিত ও অভিযোজিত হয়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়ায় সেগুলি নিয়মিত বংশবৃদ্ধি করছে। বর্তমানে এটি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বনবিভাগ কর্তৃক পরিচালিত হয়। একটি সংস্থার জরিপ অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ লক্ষ্য দর্শনার্থী আসে এই জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে।

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা National Botanical Garden এ বর্তমানে ১১৭টি গোত্রভুক্ত ৯৫২ প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৬টি প্রজাতির ৩৫ হাজার বৃক্ষ, ৩১০ প্রজাতির ১০ হাজার গুল্ম , ৩৭৮ প্রজাতির ১২ হাজার বিরুৎ ও লতা জাতীয় উদ্ভিদ। ২০৮ একর উদ্যানটি মোট ৫৭টি সেকশনে বিভক্ত। এতে আছে বিভিন্ন আকারের মোট ৭টি জলাশয় একটি জলাশয়ের পাশে রয়েছে কৃত্রিম জলপ্রপাত ও ডেক। আরও রয়েছে শাপলা পুকুর ও গোলাকৃতির পদ্মপুকুর।
জাতীয় উদ্যানের ১.৫ একর জুড়ে রয়েছে মৌসুমি ফুলের বাগান। সালভিয়ামর্নিংগ্লোরিমেরিগোল্ডডালিয়াসহ প্রায় ৫২ জাতের বিদেশি মৌসুমি ফুলের চাষ করা হয় এ বাগানে। ১৯৮০ সালে প্রায় ৩.৫ একর জায়গার উপর নির্মিত হয় উদ্যানের গোলাপ বাগান। দু’টি পৃথক বাগানে প্রায় ২০০ প্রজাতির গোলাপ সংগ্রহে রয়েছে। একটি গোলাপ বাগানের মাঝে রয়েছে গোলাকৃতির একটি জলাশয়। এই জলাশয়ে সংরক্ষিত রয়েছে ব্রাজিলের বিখ্যাত আমাজন লিলি। ১৯৮০-৮১ সালে নির্মাণ করা হয় উদ্যানের দেবদারুইউক্যালিপটাস বাগান। ইউক্যালিপটাসগুলো অস্ট্রেলিয়া থেকে সংগ্রহ করা।উদ্যানের ক্যাকটাস গ্রিন হাউজে ৮০ প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট সংরক্ষিত রয়েছে অর্কিড গ্রিন হাউজে দেশি-বিদেশি প্রায় ৮৫ প্রজাতির অর্কিড সংরক্ষিত রয়েছে।

যেভাবে যাবেনঃ

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা National Botanical Garden মিরপুরের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। ঢাকার যেকোন প্রান্ত থেকে মিরপুরগামী বাসে করে মিরপুর ১ কিংবা ১০ এ পৌছাতে হবে। সেখান থেকে রিক্সা কিংবা বাসে করে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের সামনে চলে যাওয়া যায়।

এখানে দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্যও অনেক কম। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ১০ তাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৫ টাকা মুল্ল্যে টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।