হাজী খাজা শাহাবাজের মসজিদ।

651

ঢাকা চারশ’ বছরেরও অধিক প্রাচীন নগরী। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের রাজধানী। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ঢাকা এখন অনেক আধুনিক শহর। অনেক অধুনিক স্থাপনা ঢাকা শহরকে অনিন্দ্য সুন্দর করে তুলেছে। আধুনিক স্থাপত্যে ঝলমল করে উঠলেও এর আড়ালে এখনো মনোমুগ্ধকর প্রচুর প্রাচীন নিদর্শন টিকে আছে আপন মহিমায়। এমনই এক মসজিদ হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদ। মসজিদ আল্লাহর ঘর। মোগল শাসনামলে শাহজাদা মুহাম্মদ আজমের সময়কালে মসজিদটি নির্মিত হয়। এখনো কালের স্মৃতিচিহ্ন বহন করে টিকে আছে তিন গম্বুজের নিরব অলঙ্কার সুফি-সাধক হাজী খাজা শাহাবাজের মসজিদ।

ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুনের মতানুসারে হাজী শাহবাজ ছিলেন একজন অভিজাত ধনী ব্যবসায়ী, যিনি কাশ্মীর হতে সুবা বাংলায় এসে টঙ্গী এলাকায় বসতি স্থাপন করেন।১৬৭৯ সালে তিনি জীবিত থাকাকালেই এই মসজিদ ও নিজের মাজার নির্মাণ করেন। তৎকালে সুবাহদার ছিলেন শাহজাদা মুহম্মদ আজম।

তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি ৬৮ ফুট দীর্ঘ এবং ২৬ ফুট চওড়া। এর মিম্বর এবং চৌকাঠ কালো পাথরের তৈরি। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্ট কোনাকৃতির মিনার রয়েছে। পূর্ব দিকের দেয়ালে আছে তিনটি প্রবেশপথ।

দক্ষিণ ও উত্তর দেয়ালে একটি করে দরজা রয়েছে। এ অঞ্চলে জলবায়ুর আর্দ্রতার কারণে মসজিদের স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য দেয়ালে পাথরের আবরণ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি দরজার চৌকাঠ কালো পাথর দিয়ে তৈরি। ভেতরে পশ্চিম দেয়ালে তিনটি আকর্ষণীয় মেহরাব আছে। প্রধান মেহরাবের অলংকরণ বেশ সুন্দর। মসজিদের পাশেই রয়েছে হাজী খাজা শাহবাজের মাজার ইমারত। এটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। মসজিদের স্থাপত্য নকশা মুসা খাঁ মসজিদ বা লালবাগ কেল্লার মসজিদের মতোই।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে তিন নেতার মাজার অথবা হাইকোর্ট এরিয়া তে এসে আশে পাশের মানুষকে জিজ্ঞাসা করলেই দেখিয়ে দিবে। ঢাকার দোয়েল চত্বরের একটু সামনে হাতের ডাইনে বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে লাল মসজিদ।