করতলব খান মসজিদ| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

502

ঢাকার ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে করতলব খান মসজিদ অন্যতম। এ-কারণেই ঢাকা এক সময় মসজিদের শহর নামে পরিচিতি পেয়েছিল। মোঘল সুলতানেরা মসিজদ নির্মাণের ক্ষেত্রে সীমাহীন আগ্রহ দেখিয়েছিলেন এবং তাদের নির্মিত একেকটি মসজিদও ছিল অনুপম শিল্পের প্রতিকৃতি। তেমনই করতলব খান মসজিদটিও সুপ্রাচীন এবং ঐতিহাসিক স্থান। করতলব খান মসজিদ বাংলাদেশের পুরনো ঢাকার বেগম বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। এটি নওয়াব দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খান কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল। এটি ঢাকা শহরের আধুনিক কারাগারের পাশে অবস্থিত।

১৭০০-১৭০৪ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন মুর্শিদকুলি খাঁ। মসজিদটি তার নামে প্রথমে মুর্শিদকুলি খাঁ নাম হয়। পরে সম্রাট আওরঙ্গজেব তরুণ মুর্শিদকুলী খাঁকে ১৭০০ সালে সম্মানসূচক করতলব খাঁ উপাধি দিয়ে দেওয়ান হিসেবে বাংলায় পাঠান। এরপর এই মসজিদের নাম হয়ে যায় করতলব খান মসজিদ। স্থানীয়রা মসজিদটিকে বেগমবাজার মসজিদ নামে চেনে।

চারপাশে সবুজ গাছগাছালিঘেরা পুরোনো স্থাপত্যশিল্পের একটি মসজিদ। পাশাপাশি একই রকমের পাঁচটি আকর্ষণীয় গম্বুজ। সংযোজিত দোচালা অংশসহ এই মসজিদ একটি উঁচু ভিটে বা প্ল্যাটফর্মের ওপর অবস্থিত। প্ল্যাটফর্মটির নিচে সারিবদ্ধভাবে একাধিক বর্গাকার ও আয়তাকার কক্ষ বিদ্যমান। এগুলো অবশ্য এখন দোকানঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই মসজিদের গম্বুজগুলো পদ্ম ও কলসচূড়ায় সুশোভিত। গম্বুজের ভার বহনে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে তা ঢাকার লালবাগ দুর্গ মসজিদ ও সাতগম্বুজ মসজিদে ব্যবহৃত কৌশলের অনুরূপ। মসজিদের উত্তর পাশের আয়তাকার সম্প্রসারিত অংশটি বাঙালি দোচালা কুঁড়েঘরের মতো ছাদ দিয়ে আচ্ছাদিত। মসজিদ ভবনটির অলংকরণে স্থাপত্যিক বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটি জ্বলন্ত নিদর্শন এই শাহি মসজিদ। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড ধরে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে দিয়ে বেগমবাজারের দিকে গেলেই মসজিদটি দেখতে পাবেন। তবে আগের সেই গাছপালা নেই। চারপাশে উঠে গেছে অনেক ভবন। তবু টিকে আছে মুর্শিদকুলী খাঁর মসজিদটি।

মসজিদ ভবনটির অলংকরণে এর স্থাপত্যিক বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, বিশেষ করে প্রবেশপথগুলির পার্শ্ববর্তী অলংকৃত ক্ষুদ্র মিনার, অভিক্ষিপ্ত মিহরাব,ছত্রী, ছোট গম্বুজ এবং পদ্ম ও কলস শোভিত ফিনিয়াল। প্রবেশপথ ও মিহরাবগুলি ফ্রেমের মধ্যে স্থাপিত এবং এদের শীর্ষ মেরলোন শোভিত। প্যারাপেট ও গম্বুজ ড্রামের গায়ে ও রয়েছে উন্নত মেরলন মোটিফ। গম্বুজগুলির ভেতরের দিক পত্র নকশাকৃত এবং এদের শীর্ষবিন্দু বিশাল মেডালিয়নের মাঝে একটি রোসেট দ্বারা অলংকৃত। কেন্দ্রীয় খিলানপথটির অর্ধ-গম্বুজ ভল্ট মুকারনা নকশায় স্টাকো করা, যা এখন নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলি ছাড়া সমস্ত ভবনটি সাধারণ প্লাস্টার করা যা কিনা বাংলায় মুগল স্থাপত্যের এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। মসজিদের বাওলি, যা একটি স্বতন্ত্র সৌধ হিসেবেই প্রতীয়মান, আলাদাভাবে উল্লেখ্যের দাবি রাখে। এটি বাংলায় একমাত্র ও স্বতন্ত্র নিদর্শন। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায় দাক্ষিণাত্যে, যেখানে এ মসজিদের নির্মাতা করতলব খান বাংলায় আসার পূর্বে দীর্ঘ দিন অতিবাহিত করেছিলেন।

কিভাবে যাবেন:-

দেশের সব স্থান থেকেই ঢাকা আসার জন্য বাস সার্ভিস রয়েছে। এছাড়াও ট্রেনে করে কিংবা কিছু কিছু জায়গা থেকে লঞ্চে অথবা বিমানে করেও আসা সম্ভব। গুলিস্তান বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে রিকশায় ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড ধরে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে দিয়ে বেগমবাজারের দিকে গেলেই রাস্তার মোড়ে মসজিদটি দেখা যাবে।