কলম্বো শাহীব সমাধি| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

524

কলম্বো শাহীব সমাধি ঢাকা জেলার সূত্রাপুরের ওয়ারীতে অবস্থিত একটি পুরাতন সমাধি ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। কলম্বো শাহীব সমাধি খ্রিস্টান সমাধিক্ষেত্রে অবস্থিত। খ্রিস্টান সমাধিক্ষেত্রে মূলত ছয় ধরণের সমাধির মধ্যে এর টাইপ হলো ‘এফ”।১৭২৪ সালে কলম্বো সাহেব নামক জনৈক একজনকে এখানে সমাহিত করা হয়। অস্পষ্ট ভাবে জানা যায়, সমাধিটি কলম্বো সাহিব নামক একজন ব্যক্তির, যিনি কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন। ১৮২৪ সালে বিশপ হেবার যখন খ্রিস্টান সমাধিক্ষেত্র, ঢাকা পরিদর্শন করেন, তখন তিনিও এই কলম্বো সাহিবের পরিচয় উদ্ঘাটন করতে পারেন নি।

টাইপ-এফ এই সমাধিক্ষেত্রের এই ধরনের সমাধিগুলো সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক ও বৈচিত্রপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এই সমাধিগুলো বৃত্তাকার নয় কিন্তু ডোরিক ও আয়ন কলামের দ্বারা অষ্টভুজ বা বর্গাকৃত হয়। এই ধরনের সমাধিগুলোর মধ্যে কলম্বো শাহীব সমাধিটি সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক। সময়ের সাথে এই সমাধিটির পরিবর্তন সাধন করা হয়। এই সমাধিটি তিনটি সমাধির সমন্বয়ে গঠিত, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কেন্দ্রীয়ভাবে এই সমাধির কোন শিলালিপি নেই। যদিও শিলালিপি পরবর্তীতে সংযোজন করা হয়, কারণ এই সমাধির আসল কাঠামো ঋতুগত পরিবর্তন বা অন্যান্য ভৌগোলিক কারণে ধ্বংস হয়ে যায়। এই সমাধির স্তম্ভটি মোঘল আমলে তৈরী মসজিদসমূহের নকশার গড় পরিকল্পনায় তৈরী। বর্গাকার একটি সমাধির চারপাশের প্রত্যেকদিকে চারটি করে দরজা বিদ্যমান। সামনের দিকে তিনদিকের বৃহৎ মধ্যভাগে একটি মুখমণ্ডলের ছবি ও এর শেষের দিক অষ্টাভুজাকৃতির একটি স্তম্ভ বিদ্যমান যাতে একটি স্বর্গের পরীর ছবি বিদ্যমান।

কলম্বো শাহীব সমাধিটি মোঘল স্থাপত্যরীতিতে বর্গাকারভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর চারদিকের প্রতিটি দেয়ালে ৪টি করে প্রবেশপথ রয়েছে। সমাধিক্ষেত্রটির সামনের অংশে নকশা অঙ্কিত পিলার রয়েছে। সামনে রয়েছে অষ্টাভুজাকৃতির একটি পিলার ও পিলারে একটি পরীর ছবি আঁকা রয়েছে। সমাধিক্ষেত্রটিতে বেশ কয়েকটি শিলালিপি দেখতে পাওয়া যায় যদিও সেগুলো কালের বিবর্তনে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পুরো সমাধিক্ষেত্রটি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সমাধির সমন্বয়ে তৈরি। যদি যখন সমাধিটি নির্মাণ করা হয়েছিল তখনকার কাঠামোর সাথে বর্তমান কাঠামোর অনেক পার্থক্য রয়েছে কারণ বিভিন্ন সময়ে সমাধিক্ষেত্রটির ক্ষতিসাধিত হয়েছিল।

কিভাবে যাবেন:-

দেশের সব স্থান থেকেই ঢাকা আসার জন্য বাস সার্ভিস রয়েছে। এছাড়াও ট্রেনে করে কিংবা কিছু কিছু জায়গা থেকে লঞ্চে অথবা বিমানে করেও আসা সম্ভব। গুলিস্তান বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে রিকশায়  ওয়ারীতে কলম্বো শাহীব সমাধিটি আসা সম্ভব।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here