কার্জন হল 

864

রাজধানী ঢাকার অবস্থিত লাল রঙের দৃষ্টিনন্দন একটি স্থাপত্য যে কারও নজর কাড়বে যা সাধারন মানুষের কাছে কার্জন হল নামে পরিচিত। কার্জন হল বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ভবন, যা পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃত। এটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান অণুষদের কিছু শ্রেনীকক্ষ ও পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কার্জন হল ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের নামানুসারে এ ভবনটি টাউন হল হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। ১৯০৪ সালে  লর্ড কার্জন এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে এটি  ঢাকা কলেজ ভবন হিসেবে ব্যবহূত হতে থাকে। পরে ১৯২১ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এ ভবন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহূত হতে শুরু করে এবং এখনও এভাবেই চলছে। অত্যন্ত যত্নসহকারে গড়ে তোলা প্রশস্ত বাগানে নির্মিত ইটের এ দ্বিতল ভবনে রয়েছে একটি বিশাল কেন্দ্রীয় হল। ঢাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য হিসেবে বিবেচিত এ ভবনটিতে সংযোজিত হয়েছে ইউরোপ ও মুগল স্থাপত্য রীতির দৃষ্টিনন্দন সংমিশ্রণ

কার্জনের রঙ লাল কেনঃ-

কার্জনের রঙ লাল কেন এমন প্রশ্ন শুনতে অবান্তর মনে হলেও লাল কার্জন হওয়ার পেছনে প্রচ্ছন্ন একটি কারণ রয়েছে। এই স্থাপনায় ইউরোপীয় ও মুঘল স্থাপত্যরীতির সম্মীলন ঘটেছে। মুঘল সম্রাট আকবরের ফতেহপুর সিক্রির দিওয়ান-ই-খাসের অনুকরণে লাল বেলেপাথরের পরিবর্তে তৈরি এ স্থাপনার মাধ্যমে ব্রিটিশরা প্রমাণ করতে চেয়েছে উপমহাদেশে তাদের অবস্থান আকবরের মত। কেননা একমাত্র আকবরকেই তারা শ্রেষ্ঠ পরিশীলিত  মুঘল শাসক হিসেবে স্বীকার করত।

স্থাপত্যরীতিঃ-

পুরো ঢাকায় কার্জন হলের সমকক্ষ ঐতিহাসিক কোন স্থাপনা খুব সম্ভবত আর নেই। কার্জনই একমাত্র স্থাপনা যা তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনো তার রূপরস ধরে রেখে আছে। পাশ্চাত্য ও ইসলামিক স্থাপত্যরীতির সমন্বয়ে গঠিত এ ভবনের উত্তরদিকের সামনের অংশের অশ্বখুরাকৃতি এবং খাঁজকাটা খিলানের অংশ প্রত্যক্ষ করলে বুঝা যায় এখানে কিভাবে ইউরোপ ও মুঘল স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে কার্জন হল পৌঁছানো যায়। যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে গুলিস্তান কিংবা শাহাবাগ আসতে হবে। গুলিস্তান, শাহাবাগ হতে রিকশাযোগে যাওয়া যায়।