সিরাজগঞ্জ জেলার চলনবিল|

834

সিরাজগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। জেলাতি অন্য সকল পর্যটন দিক থেকে চলনবিলের জেলা নামে বেশি পরিচিত।  সিরাজগঞ্জ জেলা সহ রাজশাহী, নাটোর, এবং পাবনা জেলা মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে এই বিল প্রবাহমান। তবে এই চলনবিলের নৈসর্গিক সুন্দর রুপ সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলাতেই বেশি প্রতিয়মান হয়।

 

চলনবিলে বলতে চলমান (চলন্ত) বিলকে বোঝায়। অর্থাৎ যে বিল প্রবাহমান। বিল সাধারণত বদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল চলনবিলের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। এ বিলের চলমান পানির অংশের পরিধি সঙ্কোচিত হতে হতে এখন এটা বদ্ধ বিলে পরিণত হয়েছে। তবে বরশা কালে এই বিলে পানির পরিমান অনেক বেড়ে যায়। এই বিলের প্রকৃত সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া যায় বর্ষা কালে। চারিদিকে অথই জলরাশি, পরিস্কার জল, গভীর রাতে জেলেদের নৌকা নিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য। চলনবিলে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মজা আলাদা।

চলনবিল এলাকায় ২২টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নদীগুলো হলো আত্রাই, গুমানী, বড়াল, নন্দকুজা, ভদ্রাবতী, বানগঙ্গা, নারদ, চিকনাই, গোহালা, বারনই, নাগর, করতোয়া, কাটাগাং। আত্রাই নদী আত্রাইয়ে দু’টি ধারায় বিভক্ত হয়ে আত্রাই ও গুড় নাম ধারণ করে প্রবাহিত হয়ে সিংড়ায় আবার মিলিত হয়েছে। নদীটি গুরুদাসপুরে নন্দকুজার সাথে মিলিত হয়ে গুমানী নাম ধারণ করেছে। নদীগুলো বছরের প্রায় ৭ মাস সচল থাকে।

এলাকায় প্রায় ৯৩টি খাল ও বিলও রয়েছে। খালগুলোর মধ্যে কিনু সরকারের ধর, সাত্তার সাহেবের খাল, জানিগাছার জোলা, কুমার ভাঙ্গা খাল, গাড়াবাড়ি খাল, গোহালখাড়া, বাকইখাড়া, বেহুলার খাড়ি, কিশোরখালির খাল, দোবিলা খাল, সাঙ্গুয়া খাল, উলিপুর খাল, বেশানীর খাল, নিমাইচড়ার খাল উল্লেখযোগ্য। পূর্বে ধানকুনিয়া, কাটেঙ্গা, বাওন বাজার ও ছাইকোলায় পানি প্রবেশের চারটি নালা থাকলেও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিলগুলোর মধ্যে বড় বিল, খলিশাগাড়ি বিল, ধলাইর বিল, ছয়আনি বিল, বাঁইরার বিল, সাধুগাড়ি বিল, মহিষা হালট, চাকল বিল, বৃগড়িলা বিল, কৈগাড়ি, টেংরাগাড়ি বিল, বিল কুরুলিয়া, জিওলগাড়ি বিল, ডিকশীর বিলসহ আরো অনেক উল্লেখযোগ্য বিল রয়েছে। এসব নদী ও খালের কারণে চলনবিল এলাকায় প্রাণবৈচিত্র্য ভরপুর ছিলো।

বিলে ছিল মাছের প্রাচুর্য্যও। শৈল, বোয়াল, রুই, কাতলা, গজার, চিতল, কালবাউশ, কই, মাগুর, শিং, স্বরপুটি, পুটি, টেংড়া, ফাতাসী, টাকি, মেনি, কাকলা, মৌসি, চাঁদা, আইড়, রিটা, বৌমাছ, চাপিলা, রায়াক, চেলা, বাঁচা, চিংড়ি, গুজ্যা, বেলে, চ্যাং, পবা, শেলং, গুচি, বাইন, খলিশা, গরুকুয়া, খসল্লা, বাঁশপাতা, ডানকিনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। সে মাছ এ এলাকার মানুষের চাহিদা তো মেটাতোই পাশাপাশি চলে যেত দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে।

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা থেকে সরাসরি বাস কিংবা ট্রেইনে চেপে সরাসরি সিরাজগঞ্জ শহরে পৌঁছানো যায়। ঢাকার গাবতলি,সায়দাবাদ,মহাখালি বাস টার্মিনাল গুলো থেকে বাস পাওয়া যায়।কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেইন যাত্রা শুরু হয়। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে বাসে করে তাড়াশ উপজেলাতে পৌছাতে হয়। তাড়াশ উপজেলাতে পৌছালেই চোখে পরবে চলনবিল।