রামু উপজেলা

440

সারা দেশে বৌদ্ধ বিহারের জন্য বিখ্যাত সমুদ্র শহর কক্সবাজারের রামু উপজেলা। প্রায় দেড় হাজার বছরের প্রাচীন রাংকূট বনাশ্রম বৌদ্ধবিহারও রয়েছে এখানে। দেশে শুধুমাত্র রামুতেই রেঙ্গুনী কারুকাজে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধবিহার। রামুর প্রত্যন্ত অঞ্চলে রয়েছে ২৮টি প্রাচীন ক্যাং। এসব পুরাকীর্তির জন্য রামুকে বৌদ্ধবিহারের শহরও বলা হয়। বৌদ্ধবিহার বা ক্যাংয়ে রক্ষিত মূল্যবান বুদ্ধমূর্তি, পিতলের ঘণ্টাসহ কালের সাক্ষী বহু পুরাতন স্মৃতি-মালামাল। প্রায় দেড় হাজার বছরের প্রাচীন রাংকূট বনাশ্রম বৌদ্ধবিহার, লামারপাড়া ক্যাংসহ এখানকার বেশকিছু পুরাকীর্তি দেখতে প্রতি বছরই দেশী-বিদেশী পর্যটকের ভিড় থাকে রামুর বৌদ্ধবিহারগুলোতে।

আরাকানের রাম রাজবংশের নামে এই এলাকার নামকরণ হয় বলে জনশ্রুতি আছে। মুঘলদের চট্টগ্রাম বিজয়কালে (১৬৬৬) রামুতে বুদ্ধের ১৩ ফুট উঁচু একটি ব্রোঞ্জমূর্তি পাওয়া যায়। এটিই বাংলাদেশে উদ্ধারকৃত সর্ববৃহৎ বুদ্ধমূর্তি। কথিত আছে, রামকোটে অপহৃতা সীতার সঙ্গে রামচন্দ্রের মিলন ঘটে এবং সেখানে একসময় সীতার ব্যবহৃত শিলপাটা রক্ষিত ছিল।

ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে বৌদ্ধ মন্দির, বিহার ও চৈত্য-জাদি উল্লেখযোগ্য। রামুতে প্রায় ৩৫টি বৌদ্ধ মন্দির বা ক্যাং ও জাদি রয়েছে। বৌদ্ধ ঐতিহ্যের মধ্যে রামুর লামারপাড়া ক্যাং, কেন্দ্রীয় সীমা বিহার (১৭০৭), শ্রীকুলের মৈত্রী বিহার (১৯৮৪), অর্পন্নচরণ মন্দির, শাসন ধ্বজামহাজ্যোতিঃপাল সীমা (১২৮৯বাংলা), শ্রীকুল পুরাতন বৌদ্ধ বিহার, শ্রীকুলেরচেরেংঘাটা বড় ক্যাং, (রোয়াংগ্রী ক্যাং ১৮৮৫) সংলগ্ন মন্দিরসমূহ, দক্ষিণ শ্রীকুলের সাংগ্রীমার ক্যাং সংলগ্ন মন্দিরসমূহ, রামকৌট বনাশ্রম বিহার উল্লেখযোগ্য। পূর্ব রাজারকুল বৌদ্ধ বিহার, চাতোফা চৈত্য জাদি, উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞা বনবিহার সংলগ্ন মন্দিরও বেশ সুন্দর।

দর্শনীয় কিছু স্থানঃ-

১।হিমছড়ি
২।হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান
৩।শ্রী শ্রী রামকোট তীর্থ ধাম
৪।রাংকূট বৌদ্ধ বিহার
৫।লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহার
৬।রামু রাবার বাগান
৭।নারিকেল বাগান
৮।হিমছড়ি মারমেইড ইকো পার্ক
৯।হিমছড়ি শীতল পানির ঝর্না
১০।ইনানী বীচ

বলা যায়, বন-পাহাড়-সমতলের মিলনমেলা যেন পরিপূর্ণতা দিয়েছে রামু উপজেলাকে। প্রায় কোটি টাকা খরচে নির্মিত মূর্তিটি দেখতে শ্রীলঙ্কা, বার্মা, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ বৌদ্ধ ধর্ম‍াবলম্বী দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ পর্যটকরা নিয়মিত আসেন এখানে।

যেভাবে যাবেনঃ-

রামুর প্রাচীন সব বৌদ্ধ পুরাকীর্তি দর্শন করতে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। বাসভাড়া ঢাকার থেকে   ৮০০ থেকে ২২০০ টাকা । তাই দেশের যে প্রান্তেই থাকুন প্রথমেই চলে আসুন কক্সবাজার। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মিনিবাসযোগে চলে আসুন রামুতে।