উয়ারী-বটেশ্বর

1190

বাংলাদেশে বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যেমন পাহাড়পুর বা সোমপুর বিহার, মহাস্থানগড়, লালবাগ কেল্লা, ষাটগম্বুজ মসজিদ ইত্যাদি সবই স্বাভাবিকভাবে মাটির উপরেই অবস্থিত। তবে মাটির নিচে অবস্থিত এমন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনও রয়েছে এদেশে। উয়ারী-বটেশ্বর হচ্ছে আমাদের মাটির নিচে অবস্থিত সেই অমূল্য নিদর্শন এবং হাজার বছরের পুরনো এক দুর্গ নগরী। বাংলাদেশের ইতিহাসের শেকড় প্রোথিত রয়েছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকা নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরে। এ অঞ্চলে মানব বসতি শুরু হয়েছিল নব্য প্রস্তর যুগের সূচনা কালে। বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় অবস্থিত উয়ারী-বটেশ্বর প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো দুর্গনগরী। উয়ারীর বসতিকে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।

ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ শতাব্দীতে মারুয়া রাজবংশের আমলে উয়ারী-বটেশ্বরের এই দুর্গ নগরীতে মানুষের প্রথম বসবাস শুরু হয়। প্রচুর ফসিল সহ এখান থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতত্ত্বগুলো, যেমন- কাঠের তৈরি বাটালি, হাতে ব্যবহার উপযোগী কুঠার ইত্যাদি যাচাই করে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, এই এলাকায় মানববসতি গড়ে উঠে ঠিক নব্যপ্রস্তর যুগের প্রথম দিকেই। পরবর্তীতে উয়ারী-বটেশ্বরে খনন কাজ চালানোর ফলে আরো কিছু প্রত্নতত্ত্ব পাওয়া গেছে। সেসব নিদর্শন, যেমন- কালো মাটির পাত্র, মাটিতে গর্ত করে বসবাস করার ঘর ইত্যাদি পর্যালোচনা করে ধারণা করা হয়, এখানে তাম্র-প্রস্তর যুগেও মানুষের বসবাস ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্মস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর। দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে। এ ছাড়াও দুর্গের চারদিকের রয়েছে পরিখা (যদিও কালের ব্যবধানে তাতে মাটি ভরাট হয়েছে)। ভরাট হলেও পূর্ব প্রান্তের পরিখার চিহ্ন এখনো দৃশ্যমান। দুর্গের পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ৫.৮ কি. মি. দীর্ঘ, ২০ মি. প্রশস্ত ও ১০ মি. উঁচু অসম রাজার গড় নামে একটি মাটির বাঁধ রয়েছে। সম্ভবত এটি দ্বিতীয় দুর্গ প্রাচীর হিসেবে উয়ারী দুর্গনগরের প্রতিরক্ষার কাজ করত।

উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাপ্ত অনেক প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন পরীক্ষা করে জানা যায়, এই নগরীর সাথে ৪,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীন সিল্ক রুটেরও সংযোগ ছিল। নদীবন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ায় ভারতীয় উপমহাদেশের তৎকালীন অনেক প্রাচীন নগরী, ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক পুরাতন অঞ্চলের সাথেও উয়ারী-বটেশ্বরের যোগাযোগ ছিল।

বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় উৎখনন কর্ম চলমান রেখেছে। সর্বশেষ ২ জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে উয়ারীতে উৎখনন কালে বেশ কিছু  প্রত্ননিদর্শন সংগৃহীত হয়েছে।

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা থেকে বাস যোগে (বিআরটিসি, অন্যন্যা সুপার, যাতায়াত, হাওর বিলাশ অথবা সিলেট কিশোরগঞ্জ ব্রাহ্মনবাড়িয়ার যে কোন বাসে) ঢাকা- সিলেট মহা সড়ক থেকে মরজাল অথবা বারৈচা সাস্ট্যন্ড নেমে সিএনজি যোগে বেলাব বাজার হয়ে রিক্সায় উয়ারী বটেশ্বর অথবা মরজাল/বারৈচা থেকে সরাসরি সিএনজি যোগে উয়ারী বটেশ্বর যাওয়া য়ায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here