মটকা মসজিদ| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

634

মটকার মতো দেখতে এক বিশালাকার গম্বুজ মাথায় নিয়ে স্থাপিত হয়েছিল মটকা মসজিদ। বড় একটি গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে মটকা মসজিদ নামেই পরিচিত। বাংলা ১২০৬ সালে জনৈকা দুল্লুভ বাণুর দানকৃত অর্থে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শিলালিপিতে আজও তা স্পষ্ট লেখা আছে। সময়ের প্রয়োজনে মসজিদের পূর্বাংশ বর্ধিত করা হয়। মসজিদের প্রথমাংশ বর্গাকার। ভেতরে ২৫-৩০ জন একত্রে নামাজ পড়তে পারে। মসজিদের ভেতরের দেয়ালে লতাপাতার সুন্দর কারুকাজ তখনকার দিনের নির্মাতাদের শৈল্পিক দক্ষতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মসজিদের পাশে একটি দীঘি আছে। মটকা মসজিদ এবং দীঘি পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মাঝে মধ্যে অনেকে এ মসজিদে কেবল জুম্মার নামাজ আদায় করতে অনেক দূর-দূরান্ত হতে আসে। মটকা মসজিদের সাথেই নতুন একটা মসজিদ বানানো হয়েছে। লালচে ইট দিয়ে বানানো মসজিদটি বর্তমানে চুনকাম করে ফেলায় এটি নিজস্ব সৌন্দর্য হারিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি পুননির্মাণের উদ্দেশ্যে ভাঙা হচ্ছে।

প্রায় ২১৮ বছর আগে নির্মিত এ মসজিদটির জরাজীর্ণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই গম্বুজ চুইয়ে পানি পড়ে। মাঝে মাঝে দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ে এবং ঝুঁকি নিয়ে নামাজ আদায় করতে হয়। কয়েকবার মেরামত করার পরও ঝুঁকি কাটছে না। তাছাড়া মসজিদটি ছোট হওয়ায় নামাজ আদায়ের সময় মসজিদে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান হয় না। যে কারণে মসজিদের সামনের রাস্তা ও পাশের মাঠে নামাজ আদায় করতে হয়। তাই মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তে ৩য় তলা বিশিষ্ট নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে। যেখানে তৃতীয় তলার উপরে এ মসজিদের ন্যায় গম্বুজ বা মটকা তৈরি করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে এবার পুরনো আদলেই নতুন করে আধুনিক কারুকার্যে এ মসজিদটি নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মসজিদটি নির্মিত হবে। এ নিয়ে নির্মাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে স্থানীয় মুসল্লি ও বিত্তবানদের সহযোগিতায়।

কিভাবে যাওয়া যায়:

লক্ষ্মীপুর জেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক হল ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক। সব ধরণের যানবাহনে যোগাযোগ করা যায়। লক্ষ্মীপুর বাস ষ্টেন্ড থেকে সি এন জি অথবা রিক্স যোগে যাওয়া যায় তিতা খাঁ মসজিদ। ৪০ টাকা রিকশা ভাড়া।