কেরু এন্ড কোং| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

540

চুয়াডাঙ্গা জেলাধীন সীমান্তবর্তী জনপদ দর্শনায় অবস্থিত সুগার ফ্যাক্টরী, ডিষ্টিলারী ও বাণিজ্যিক খামার সমন্বয়ে এটি একটি বৃহৎ শিল্প-কমপ্লেক্স হলও কেরু এন্ড কোং লিমিটেড। ১৯৩৮ সালে পূর্ব-বাংলার আখ সমৃদ্ধ এলাকা দর্শনায় রবাট রাসেল কেরু দৈনিক ১০০০ টন আখ মাড়াই ও ৪০০০ এল.পি.জি স্পিরিট তৈরির ক্ষমতা সম্বলিত এই চিনিকল ও ডিস্টিলারিটি স্থাপন করেন। তখন শুধু যন্ত্রপাতি কিনতেই খরচ হয়েছিল ৩৪ লাখ টাকা । ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর এটি জাতীয়করণ করে কেরু এ্যান্ড কোং (বাংলাদেশ) লিঃ নামে অভিহিত করা হয় । বর্তমানে এটি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার একটি প্রতিষ্ঠান এবং এর অধীনে রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠান- চিনিকল, চোলাই (ডিস্ট্রিলারি), ঔষধ কারখানা ও একটি কৃষি খামার।

দর্শনায় অবস্থিত সুগার ফ্যাক্টরী, ডিষ্টিলারী ও বাণিজ্যিক খামার সমন্বয়ে একটি শিল্পকমপ্লেক্স। উদ্দেশ্য ১৮০৫ সালে মিঃ জন ম্যাকসওয়েল নামক এক ইংরেজ তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারতের কানপুরে জাগমু নামক স্হানে তখনকার একমাত্র মদের কারখানাটি চালু করেছিলেন । অতঃপর বিভিজ্ঞ সময়ে এর নাম, স্হান, মালিকানা, উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হতে থাকে । ১৮৪৭ সালে মিঃ রবার্ট রাসেল কেরু অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ঐ প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত হন এবং কালক্রমে তা ক্রয় করে নেন । উত্তর ভারতের ‘রোজা’তে অবস্হানকালীন ১৮৫৭ সনে সিপাহী বিপ্লবের সময় কারখানাটি ক্ষতিগ্রস্হ হয় । অতঃপর তা’ পুনঃনির্মাণ পূর্বক জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানী গঠন করে ‘কেরু এ্যান্ড কোং লিঃ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নতুন নামকরণ করা হয় । ‘রোজা’তে ব্যবসা উন্নতি লাভ করলে আসানসোল ও কাটনীতে এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হয় । ১৯৩৮ সনে প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১০০০ টন আখ মাড়াই ও ১৮ হাজার প্রুফ লিটার স্পিরিট তৈরীর লক্ষ্যে আরও একটি শাখা তদানিন্তন নদীয়া জেলার অন্তর্গত এই দর্শনায় সহাপন করা হয় । ১৯৬৫ সনের পাক-ভারত যুদ্ধের পর এটি শত্রু সম্পত্তিতে পরিণত হয় । ১৯৬৮ সনে কেরু এ্যান্ড কোং (পাকিস্তান) লিঃ এর সহলে এর ব্যবস্হপনার দায়িত্ব ইপিআইডিসি’র ওপর ন্যস্ত করার সরকারি প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অকার্যকর হয়ে যায় । বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয় এবং তখন থেকে অদ্যাবধি এটি কেরু অ্যান্ড কোং (বাংলাদেশ) লিঃ নামে বাংলাদেশ সুগার এ্যান্ড ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে । চিনি, রেকটিফাইড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট, দেশীমদ, বিলাতী মদ (জিন, হুইস্কি, রাম, ব্রান্ডি, ভদ্‌কা) ও ভিনেগার এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত মূল পণ্য এবং চিটাগুড়, ব্যাগাস ও প্রেসমাড অন্যতম উপজাত-দ্রব্য । জাতীয়করণের পর থেকে ২০১১-২০১২ অর্থ বছর পর্যন্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানী সম্মিলিতভাবে শুল্ক, ভ্যাট, সারচার্জ, আয়কর ও লভ্যাংশ হিসেবে ৯০৩.৪৭ কোটি টাকার ওপরে সরকারী কোষাগারে প্রদান করেছে । উক্ত সময়কালে প্রতিষ্ঠানটি ২৭ বছর লাভ করে কিন্ত্তু অবশিষ্ট ১৪ বছর লোকসান দেয় । বর্ণনা বাংলাদেশের শিল্প স্থাপনাগুলোর মধ্যে কেরু এ্যান্ড কোম্পানী (বাংলাদেশ) লিঃ একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান।

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা থেকে সরাসরি বাস কিংবা ট্রেইনে চেপে সরাসরি চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে পৌঁছানো যায়। ঢাকার গাবতলি,সায়দাবাদ,মহাখালি বাস টার্মিনাল গুলো থেকে বাস পাওয়া যায়।কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেইন যাত্রা শুরু হয়।