ইউরোপে ভ্রমণের জন্য সেনজেন ভিসা পাওয়ার যে প্রক্রিয়া।

1325

ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি একীভূত অঞ্চল তৈরি করে দেশগুলোর মধ্যে মানুষের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৫ সালে লুক্সেমবার্গের সেনজেন শহরে একটি চুক্তি সাক্ষর করে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। বলা যায় সেই চুক্তির ধারাবাহিকতাতেই সৃষ্টি হয়েছে সেনজেন এলাকা এবং সেনজেন ভিসা। ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা এই সেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং কেবল সেনজেন ভিসা নিয়েই ৯০ দিনের জন্য বেড়ানো বা ব্যবসা সংক্রান্ত প্রয়োজনে ইউরোপ ঘুরে আসা যায়।

ইউরোপ কেমন?

আপনি যদি ইউরোপ আসেন, আপনার ভ্রমনের সব নেশে কেটে যাবে। এতই সুন্দর ইউরোপ এক একটা দেশ যা আপনি না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। ইউরোপ এর যেসব দেশ এ টুরিস্ট ভিসা দেয় , সেই সবগুলো দেশ থেকেই আপনি ভিসা পেতে পারেন। তবে আবেদন করার আগে আপনাকে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

প্রথমতঃ ইন্টারভিউ

ইউরোপের ভিসার ক্ষেত্রে এম্বাসিতে ইন্টারভিউটা আপনার ৫০% এগিয়ে দিবে। কেন যাবেন, কোথায় যাবেন এইরকম প্রশ্নগুলোর উত্তর খুব গ্রহণযোগ্য ভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যারা আগে ভিসা পেয়েছে , তাদের সাহায্য নিতে পারেন।

দ্বিতীয়ঃ ভাষা

ইউরোপ এ আপনি ঘুরতে হলে আপনাকে অব্যশই ভাষা জানতে হবে। প্রত্যেক দেশেরই নিজস্ব ভাষা আছে। তবে আপনি যদি ইংরেজী জানেন তাহলে কোন জায়গায়ই আটকাবেন না। এবার আসুন কতুটুকু জানতে হবে? মোটামুটি জানলে ই কি হবে? না, আপনাকে এক্সপাটই হতে হবে। কারন , অনেক দেশের ভিসার জন্য এম্বাসিতে আপনাকে ইন্টারভিউ দিতে হবে। আবার ইমিগ্রেশন এ ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। আর সেটা ইংরেজীতে । সুতরাং বুঝতে ই পারছেন। আপনি যত ফ্লুয়েন্টলি উত্তর দিতে পারলে ই কনসুলার বুঝতে পারবে যে, আপনি ইউরোপে চলতে পারবেন। এক্ষেত্রে কারও IELTS থাকলে শো করতে পারেন।

তৃতীয়তঃ ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট

এইটাও আপনার ভিসার ক্ষেত্রে অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ । কারণ ইউরোপের থাকাখাওয়া অনেকটাই ব্যায়বহুল। এইটাও কোন ব্যাপার না। ব্যাপার হল আপনি যত বেশি ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট দেখাতে পারবেন এইটা আপনার ক্রেডিট। আবার অনেক এম্বাসেডর টাকার উৎস সম্পর্কেও জানতে চায়। সুতরাং সেইজন্যও একটা ভাল উত্তর প্রস্তুত করে রাখতে হবে।অরজিনাল ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট রিস্ক মুক্ত।

চতুর্থঃ রেফারেন্স

যদিও এটা এত একটা জরুরী না, কিন্তু আপনি দেখাতে পারলে আপনারই লাভ। কারন ইউরোপে অনেকেরই ভাইবোন বা আত্মীয় সজ্বন আছে। আপনি ওদের রেফারেন্স দিতে পারেন।

পঞ্চমঃ টুরিস্ট

অনেকেই বলে আপনি যদি আপনাকে অরজিনাল টুরিস্ট বুঝাতে চান তাহলে আগে এশিয়ার ২/৩ দেশ ঘুরে তারপর ইউরোপে আবেদন করা ভাল। হা, এই কথাটাও সত্য, কিন্তু আপনি যদি কোনদেশ ভ্রমন না করেন তাহলেও কিন্তু আপনি আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপানাকে উপরের সবগুলো বিষয় পাকাপোক্ত ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

ষষ্ঠঃ হেলথ এন্ড ট্যাভেল ইন্সুরেন্স

যদিও এটা বাধ্যবাধকতা নেই, তবে আপনার ফাইল ভারি করতে সাহায্য করবে।

সেনজেন ভিসার আওতাভুক্ত দেশগুলো

**অস্ট্রিয়া, আইসল্যান্ড, ইতালি, এস্তোনিয়া, গ্রিস, চেক রিপাবলিক, জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম, মাল্টা, লুক্সেমবার্গ, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, স্পেন, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, হাঙ্গেরি**।

এই সবগুলো দেশেই বেড়ানো বা ব্যবসা সংক্রান্ত প্রয়োজনে সেনজেন ভিসা নিয়ে যেতে পারেন বাংলাদেশিরা। সেনজেন ভিসা নিয়ে সর্বোচ্চ ৯০ দিন ইউরোপে অবস্থান করা যায় এবং ভিসার মেয়াদ ছয় মাস। ভিসার মেয়াদ থাকাকালীন সময়ে একই ভিসা ব্যবহার করে বারবার সেনজেন এলাকার দেশগুলোতে প্রবেশ করা যায় তবে সব মিলিয়ে ৯০ দিনের বেশি সেখানে অবস্থান করা যাবে না।
ভিসা নেয়ার সময় গন্তব্য উল্লেখ করতে হয়।

বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা ঢাকার যেসব কূটনৈতিক মিশন থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে পারেন

ফ্রান্স দূতাবাসঃ ফ্রান্সের ওভারসীজ টেরিটরি মনাকো এবং এন্ডোরা এবং বুরকিনা ফাসো, মধ্য আফ্রিকা, ডিজিবুতি, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, টগো এসব দেশে মূল গন্তব্য হলেও ফ্রান্স দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

চেক রিপাবলিকঃ চেক রিপাবলিকে ফ্যামিলি ও ভিজিট ভিসার জন্য দিল্লীতে চেক রিপাবলিকের হাই কমিশনে যোগাযোগ করতে হবে।

জার্মান দূতাবাসঃ জার্মানি ও এস্তোনিয়া ভ্রমণের জন্য জার্মান দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে।

ইতালি দূতাবাসঃ ইতালি, গ্রিস ও মাল্টা ভ্রমণের জন্য ইতালি দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে।

সুইডেন দূতাবাসঃ সুইডেন, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, পোল্যান্ড, লাতভিয়া, নেদারল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়া ভ্রমণের জন্য সুইডেন দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে।

সুইজারল্যান্ড দূতাবাসঃ সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের জন্য সুইজারল্যান্ড দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে।

স্পেন দূতাবাসঃ স্পেন ভ্রমণের জন্য স্পেন দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে।

ভিসা আবেদন যেভাবে করতে হবে

ভিসা আবেদন ফরমের দু’পাশে প্রতিটি ঘর পূরণ করতে হবে। কোন ঘর ফাঁকা থাকলে বা ভুল তথ্য থাকলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয় না। আবেদন ফরমের এক কপি জমা দিলেই চলবে আর তাতে অবশ্যই তারিখসহ সাক্ষর থাকতে হবে।

কিভাবে আবেদন করবেন

আসলে বাংলাদেশের বেশির ভাগ এজেন্সিই ভাল না। সেক্ষেত্রে যারা ইউরোপের টুরিস্ট ভিসা আবেদন করছেন এবং ভিসা পাইছেন এইরকম প্রমান আছে তাদের সহযোগীতা নিতে পারেন। আর প্রত্যেক দেশেরই এম্বাসির ওয়েবসাইটে তাদের ভিসা পাওয়ার সব তথ্য দেওয়া আছে। যারা বেশি এক্সর্পাট তারা নিজে নিজে আবেদন করতে পারেন।

যাক আশা করি উপরের বিষয়গুলো পড়লেই আপনি বুঝে যাবেন যে, আপনি আসলে ইউরোপে আসতে পারবেন কি না। সুতরাং ভাবুন। আর সবকিছুর পর যদি ইউরোপের ভিসা পেয়ে ই যান, তাহলে আমরা আছি ইউরোপে। কোথায় কোথায় ঘুরবেন , ইনশাল্লাহ সব বলে দিব। দয়া করে এমন কোন প্রশ্ন করবেন না ; যেই প্রশ্নগুলোর উত্তর এই পোষ্টে আছে, যদিও লিঙ্কটি পোলিশ ভিসা ও ভ্রমণ সংক্রান্ত, কিন্তু নিজে নিজে সেনজেন ভিসা প্রসেসিং এর ক্ষেত্রে ৯৯% মিল পাবেন অন্যান্য সেনজেন দেশের ভিসা প্রসেসিং এ।

সেনজেন দেশগুলোর ভিসা প্রসেসিং নিয়ে অগনিত মেসেজ ( সকলের প্রশ্নের ধরণ ৯৯% একই) যারা দিয়েছেন  তাদের জন্যঃ

** যারা সেনজেন দেশগুলোতে বিভিন্ন কারণে যেতে চান।

** যারা সেনজেন দেশগুলোর দূতাবাসগুলোতে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন।

** সেইসব সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা যারা, সেনজেন দেশগুলোর দূতাবাসগুলোতে ভিসার জন্য আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।

প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারিদেরকে আমি সন্মান ও আন্তরিকতার সাথে সৌভাগ্যবান বলছি এই জন্য যেঃ

— প্রত্যাখ্যাতদের জন্যই পরবর্তী সফলতা অপেক্ষা করছে হাসিমুখে।
— প্রথম সুযোগেই সফল ব্যাক্তির পরবর্তী ব্যর্থতা আসে অত্যন্ত করুণভাবে, যা মোকাবিলা করতে প্রথম সুযোগেই সফল ব্যাক্তিরা ব্যর্থ হয় চরমভাবে।
— ব্যর্থ ও প্রত্যাখ্যাত ব্যাক্তির পরবর্তী সাফল্য আসে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এবং পরবর্তী ব্যর্থতাগুলো সে তার নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কারনে মোকাবিলা করতে পারে সফলভাবে, তার ভিত্তি হয় মজবুত, বেড়ে যায় দক্ষতা, সহিষ্ণুতা আর ধৈর্যসহ অভিজ্ঞতা। কমপক্ষে এরকম আরও ৯৭ টা পজিটিভ কারণ আছে আমাদের কাছে প্রত্যাখ্যাত ব্যাক্তিদের সৌভাগ্যবান বলার। আশা করি প্রশ্নের উত্তরগুলো পেয়ে যাবেন।

ভিসা ফিঃ (ফি অফেরতযোগ্য)

  • প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৫০০০ টাকা।
  • ৬ থেকে ১২ বছরের জন্য ২৯০০ টাকা।
  • ০ থেকে ৬ বছরের জন্য ভিসা প্রয়োজন নেই।
  • প্রতি আবেদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট সহ অতিরিক্ত ১৭ ইউরো পরিমাণের ১৪১৭ টাকা সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য।
  • ভিসা ফি ঢাকাতে অবস্থিত সুইডেন ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বুথে এমব্যাসি অফ সুইডেন এ নগদ প্রদান করতে পারবেন, পেমেন্ট প্রসেসিং ফি বাবদ নমিনাল ফি ২৩০ টাকা (ভ্যাটসহ) ।
  • সকল ভিসা ফি, ভিএফএস সার্ভিস চার্জ এবং সকল অতিরিক্ত সেবা সমুহের চার্জ নগদ বাংলাদেশী টাকায় ( ভ্যাটসহ) প্রদান করতে হবে।

আবেদন ফরমের সাথে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হবে

সাম্প্রতিক তোলা দুই কপি ছবি। সাদা পটভূমিতে ছবি তুলতে হবে, চোখে কালো চশমা বা মাথায় টুপি জাতীয় কিছু রাখা যাবে না আর ছবিতে অবশ্যই পুরো মুখমণ্ডল আসতে হবে।
ভ্রমণ শেষ হওয়ার পরও অন্তত ছয় মাস মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।
পাসপোর্টের ডাটা পেজগুলোর পরিষ্কার ফটোকপি যুক্ত করতে হবে।
সবগুলো সেনজেন দেশে প্রযোজ্য এবং অন্তত ৩০ হাজার ইউরো মূল্যমানের স্বাস্থ্য বীমা প্রয়োজন হবে।
জমা দেয়া প্রতিটি কাগজের মূলকপির সাথে একটি করে ফটোকপিও দিতে হবে।
কোন কাগজ বাংলায় থাকলে সেটার সাথে ইংরেজি বা জার্মান অনুবাদও যুক্ত করতে হবে।

বিজনেস ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হবে

ভ্রমণকারী যে দেশে যেতে চাইছেন সে দেশের কোম্পানির পাঠানো আমন্ত্রণপত্রের মূলকপি প্রয়োজন হবে। এই আমন্ত্রণপত্র অবশ্যই ইংরেজি বা জার্মান ভাষায় হতে হবে।
ভ্রমণকারী বাংলাদেশের যে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে ভ্রমণে যাচ্ছেন সে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের তরফে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে লেখা চিঠি জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মালিকের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
বিগত তিন মাসে কোম্পানির ব্যাংক হিসাব বিবরণী।
কোম্পানির সার্টিফিকেট অফ ইনকর্পোরেশন অথবা মেমোরেন্ডাম এন্ড আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
ট্রেড লাইসেন্স
বাংলাদেশে এবং বাইরে লেনদেনের তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
ম্যারেজ সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট এবং সন্তান সন্ততির তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

সেনজেন দেশগুলো আয়োজিত বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরও অতিরিক্ত কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হবে

হোটেলের ঠিকানাসহ হোটেল রিজার্ভেশন এবং
স্টল বরাদ্দ হয়ে থাকলে এক্সিবিটর পাস।

বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সদস্যের সাথে দেখা করতে যেতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হবে

যার সাথে দেখা করতে যাওয়া হচ্ছে তার সাক্ষরিত গ্যারান্টর ফরম,
ম্যারেজ সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট এবং সন্তান সন্ততির তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে),
হোটেল বুকিং (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)। হোটেল বুকিং কনফার্মেশনের ই-মেইল প্রিন্ট আউট গৃহীত হয় না।
অন্তত বিগত তিন মাস সময়কালে ব্যক্তিগত হিসাব বিবরণী,
ভ্রমণকারী যার সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন তার সাথে সম্পর্কর প্রমাণপত্র এবং
ফ্লাইট রিজার্ভেশন কপি।

সুইডেন ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারের অতিরিক্ত সেবা সমুহ

  • ফটোকপিঃ ৩ টাকা
  • এসএমএস সার্ভিসঃ ১৫০ টাকা
  • ফটো বুথ সার্ভিসঃ ৪ কপির জন্য ১৫০ টাকা

ফটো স্পেসিফিকেশন

  • পাসপোর্ট স্টাইল এবং ৩৫x ৪৫ এম এম
  • কালার
  • সাম্প্রতিক এবং সত্যিকারের সাদৃশ্য
  • পুরো মুখমণ্ডল
  • শিরস্ত্রাণ ছাড়া
  • হিজাব বা টুপি শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে গ্রহণযোগ্য, এবং এমনকি তারপরও আবেদনকারীর মুখের অংশ আবরণবিহীন থাকতে হবে।
  • প্লেইন, সমানভাবে আলো এবং হালকা ব্যাকগ্রাউন্ড

প্রসেসিং এর সময়

সাধারণত ৭-১০ কার্যদিবস, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এক মাস (বা তারও বেশি) পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশ হাই মাইগ্রেশন প্রেসার ভুক্ত একটি দেশ। দুর্ভাগ্যবশত, প্রায় ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা বিজনেস / ট্যুরিজ্‌ম / ভিজিট ট্রিপ এ গিয়ে সেনজেন দেশগুলোতে গিয়ে অননুমোদিতভাবে থেকে যায়।

সেনজেন দেশগুলোর দূতাবাসগুলো তাই প্রতিটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন খুবই প্রফেশনাল্ভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পরীক্ষা করে এবং আবেদনকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট নানা ধরনের অসংখ্য ডকুমেন্টস জমা দিতে বলে, যে ডকুমেন্টসগুলো আবেদনকারীর তার নিজ বসবাসরত দেশে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে পরিষ্কারভাবে আর তার ভিসা আবেদনের যৌক্তিকতাসহ আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট দেশে যাওয়ার কারণকে নিঃশর্তভাবে তুলে ধরে।

এই উদ্দেশ্যে, সেনজেন দেশগুলোর দূতাবাসগুলো আবেদনকারীর সাথে একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাত্কারের ও ব্যবস্থা করা হয়।

যদি ইন্টারভিউয়ের ফলাফলগুলি জমাকৃত ডকুমেন্টসগুলোর ( প্রমাণীকরণ প্রমাণপত্রাদি প্রয়োজন) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবেই শুধুমাত্র যারা বিশ্বাসযোগ্য ভিসা আবেদনকারী ( সেনজেন দেশ থেকে নিজ দেশে ফেরত ইচ্ছুক) দূতাবাসগুলো তাদের ভিসা প্রদান বিবেচনা করে।
যাদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে, ভিসা দিতে অস্বীকৃতির ভিত্তিতে যে ব্যাখ্যা, আবেদনকারীরা দূতাবাস থেকে তার লিখিত বিজ্ঞপ্তি পাবেন। আবেদনকারী বা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি লিখিতভাবে এই নেতিবাচক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার / পুনঃনিরীক্ষণ এর আবেদন ( রিফিউজ এর ভিত্তিগুলো বিবেচনা করে ) করতে পারেন। এই উদ্দেশ্যে, আবেদনকারী বা তার প্রতিনিধির ব্যক্তিগত স্বাক্ষর সহ একটি পুনর্বিবেচনার / পুনঃনিরীক্ষণ এর চিঠি ( রিফিউজ এর ভিত্তিগুলো বিবেচনা করে ) দূতাবাসে জমা দিতে হবে। প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়ার অধীনে এখনো যে সাপোর্টিং নথিগুলো দেওয়া হয়নি। পুনর্বিবেচনার / পুনঃনিরীক্ষণ এর চিঠির সাথে সেগুলো সংযুক্ত করতে হবে।

ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

হোটেল বুকিং (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)। হোটেল বুকিং কনফার্মেশনের ই-মেইল প্রিন্ট আউট গৃহীত হয় না।
ভ্রমণকারী কোন কোন জায়গায় ভ্রমণ করতে চলেছেন তার বিস্তারিত।
ম্যারেজ সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট এবং সন্তান সন্ততির তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
অন্তত বিগত তিন মাস সময়কালে ব্যক্তিগত হিসাব বিবরণী।

শিশুদের ক্ষেত্রে

বাবা-মা বা বৈধ অভিভাবকের অনুমতিপত্র জমা দিতে হবে। এছাড়া শিশুদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা অভিভাবকে অবশ্যই দূতাবাসে উপস্থিত থাকতে হবে।

এয়ারপোর্ট ট্রানজিট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সেনজেন এলাকা ছাড়ার পর ভ্রমণকারী যে দেশে যাচ্ছেন সে দেশের ভিসা,
ফ্লাইট রিজার্ভেশন, প্রথমবার ভ্রমণের ক্ষেত্র বিজনেস ভিসা সংক্রান্ত সব ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হবে,
ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবীমা প্রয়োজন হয় না।

প্রয়োজনীয় তথ্য

ভ্রমণের নির্ধারিত তারিখের চার থেকে ছয় সপ্তাহ আগে ভিসা আবেদনপত্র জমা দেয়া উচিত।
সাধারণত ৭ কর্মদিবসের মধ্যেই সেনজেন ভিসা ইস্যু হয়ে যায়। তবে কাগজপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে।
ভিসা ইস্যু হওয়ার পর পাসপোর্ট সংগ্রহের সময়ই ভিসা কিভাবে দেয়া হয়েছে সেটা দেখে নেয়া উচিত। কোন সমস্যা থাকলে সাথে সাথেই ভিসা কাউন্টারে জানাতে হবে।
নকল বা জালিয়াতি করা পাসপোর্ট জমা দিলে সেগুলো জব্দ করে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
শুধু ভিসা আবেদনের সময়ই নয়, সেনজেন এলাকার দেশগুলোতে প্রবেশের সময়ও আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দেখাতে হয়। সেনজেন ভিসাই সেনজেন এলাকায় প্রবেশের একমাত্র নিশ্চয়তা নয়।
প্রতিটি ভিসার জন্য ৬০ ইউরো সমপরিমাণ টাকা এডমিনিস্ট্রেশন ফি হিসেবে জমা দিতে হয়। ভিসা সাক্ষাতকারের পরপরই এই ফি দিতে হয়।
দূতাবাসে ভ্রমণের আমন্ত্রণপত্র না পাঠিয়ে ভিসা আবেদনকারীর কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠাতে হবে এবং তিনি ভিসা আবেদনের সাথে আমন্ত্রণপত্র জমা দেবেন।

ঘুরে আসুনঃ বাজেট কম? তাতে কি! কম বাজেটে ভ্রমণ টিপসগুলো জেনে নিন

যেকোনো দেশের এয়ার টিকেট, হোটেল বুকিং, হেলিকপ্টার সার্ভিস, টুরিস্ট ভিসা প্রসেসিং এবং প্যাকেজ ট্যুর করে থাকি। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন নিচের ঠিকানায়।
এয়ারওয়েজ অফিস
হ্যাপি আর্কেড শপিংমল, ৩য় তলা, স্যুইট নং #৩৪, রোড#০৩, হোল্ডি নং:০৩,  ধানমন্ডি,ঢাকা-১২০৫
মোবাইল: 01880155574