বাবা সুরেশ্বরী মাজার

656

পদ্মা বিধৌত দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফ বৃহত্তর ফরিদপুরের বর্ত্তমান শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার সুরেশ্বর গ্রামে অবস্থিত। বর্ত্তমানে পদ্মা নদী সুরেশ্বর দরবার শরীফ সংলগ্ন অবস্থিত হলেও পূর্ব্বে পদ্মা তীর হতে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ছিল। আরও পূর্ব্বে সুরেশ্বর ঢাকা জেলার বিক্রমপুর অঞ্চলের খলিলাবাদ পরগনার অধীনে ছিল। তখন বিক্রমপুর নামেই সমধিক পরিচিত ছিল।

‘সুরেশ্বর’ নামের সন্ধি- সুর+ঈশ্বর = ‘সুরেশ্বর’। ভারতবর্ষ তথা উপমহাদেশের উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক অলিয়ে কামেল শামসুল ওলামা আল্লামা হযরত শাহ্ সূফী সৈয়্যেদ আহমদ আলী ওরফে হযরত শাহ্ সূফী সৈয়্যেদ জান শরীফ শাহ্ রাঃ ‘সুরেশ্বরী’ নামেও সমধিক পরিচিত। ভক্ত ও মুরিদগণ তাঁকে ‘বাবা সুরেশ্বরী’ বা ‘সুরেশ্বরী কেবলা কাবা’ বলে সম্বোধন করেন এবং তাজিম ভক্তি শ্রদ্ধা জানান। সাধারণের কাছে তিনি হযরত সুরেশ্বরী নামে সর্বাধিক পরিচিত।

রূপসী বাংলার পদ্মানদীর তীরে পাখিডাকা ছায়াঘেরা নির্জন এক গ্রাম। ফুলের সুবাস, পাখির কাকলি, নদীর কুলকুল ধ্বনীতে মুখরিত পবিত্রতম স্থান ‘সুরেশ্বর’। এ পবিত্র মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে মনের পাপতাপ কালিমা সবই যেন মুছে যায়। মনে হয় স্বপ্নের জগতে বিচরণ করছি, নয়তো স্বর্গীয় কোন ভূমিতে। আল্লাহ তায়ালার এক অপূর্ব সৃষ্টি সুরেশ্বর। সর্বজন বিদিত যে পদ্মা নদীর পানি ঘোলাটে আর মেঘনার পানি নীলচে। তবে লক্ষণীয় যে এ দুটি নদীর পানি কখনো এক সঙ্গে মেশে না। আরও লক্ষণীয় যে, এ নদী দুটির সঙ্গমস্থল সুরেশ্বরের কাছেই। সুরেশ্বর পেরিয়ে একটু সামনে গেলে দেখা যায় এ দুটি নদীর ধারা মিলিত হওয়া সত্ত্বেও নদী দুটির পানির অবস্থানও রঙের ভিন্নতা। এ ছাড়া প্রকৃতির অন্যতম দান মিষ্টি ডাটা ও পদ্মার সুস্বাদু ইলিশের জন্য সুরেশ্বর বিখ্যাত।

যেভাবে যাবেনঃ-

ঢাকা থেকে মাওয়া ফেরিঘাট দিয়ে পদ্মা পাড় হয়ে শরীয়তপুর জেলায় যেতে হয়। শরীয়তপুর থেকে বাস যোগে নড়িয়া, নাড়িয়া থেকে অটোবাইক বা অটোরিক্সা যোগে সুরেশ্বর যাওয়া যায়।