আফগান ভাষায় অনুবাদ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’

250

বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন চেতনা, দর্শন ও কর্মকা- বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দুটি আফগানিস্তানের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল কাইয়ুম মালিকজাদ। গতকাল সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি একথা জানান।

সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সাক্ষাৎকালে আফগানিস্তান দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব ওয়াইজ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. কামরুল হাসান ও সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

আফগান রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে আফগানিস্তান ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে তাদের দূতাবাস চালু করে এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ মার্চ ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিনি বলেন, দুই দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে উভয়দেশের জনগণের আন্তঃযোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায় এবং এর মাধ্যমে উভয়দেশই এর সুফল ভোগ করতে পারে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ ২০২০ উদযাপন উপলক্ষে দু’দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি করা হবে। সেক্ষেত্রে বিশ্বের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন চেতনা, দর্শন ও কর্মকা- বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার অংশ হিসেবে তার রচিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ পশতু ও দাঁড়িসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রতিমন্ত্রী আফগান রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান। আফগান রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান পুনর্গঠনে ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্র্যাকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের অবদানের কথা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন।

সুত্রঃ প্রথম আলো