সোহাগ পল্লী

1138

সোহাগ পল্লী গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত।
প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা এই পার্কটির চারদিকে শালবন এর ভিতরে বিশাল জায়গা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে। পার্কটি খুব নিরিবিলি পরিবেশ কোলাহল মুক্ত একটি আর্দশ জায়গা। পরিবার নিয়ে একটি সুন্দর দিন কাটানোর জন্য অনবধ্য জায়গা। সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থাকায় প্রচুর পর্যটক আসে। কর্মব্যস্ত জীবনে যারা অবসরে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যেতে চান তাদের জন্য সোহাগ পল্লী তেমনই এক নাম। সোহাগ পল্লী বাংলাদেশের অন্যতম পিকনিক স্পট ও রিসোর্টগুলোর মধ্যে একটি।

গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় থেকে মাত্র চার কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর গ্রামে অবস্থিত সোহাগ পল্লী। মোট ১১ একরের উঁচুনিচু জমির ওপর নির্মিত এই রিসোর্টের অন্যতম আকর্ষণ বিশাল এক জলাশয়ের ওপর নির্মিত অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত ঝুলন্ত সাঁকো। এখানে আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে মূলত এর পিলার ও ব্যালকনিতে খোঁদাই করা বিভিন্ন কারুকাজ। সারি সারি বৃক্ষের পাশাপাশি এখানে রয়েছে সুবিশাল জলাশয়, কৃত্রিম ঝরণা, গরুর গাড়ি ও মিনি চিড়িয়াখানা।

জলাশয়ের পূর্ব দিকে রয়েছে একটি দ্বিতল রেস্টুরেন্ট। যার নাম রাখা হয়েছে মেজবান। শুধু তাই নয়, এখানে কৃত্রিমভাবে একটি লেকও নির্মাণ করা হয়েছে। বর্ষাকাল কিংবা অন্য যেকোনো ঋতুতেই সেখানে পানি থাকে। আর তাতে ভেসে বেড়ায় নানা জাতের মাছ। লেকে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া রয়েছে উঁচু পাহাড়। পাহাড়ের সামনে দুইদিকে জিরাফ ও হরিণের প্রতিকৃতিসহ আরো অনেক প্রতিকৃতি রয়েছে।

আপনার অবসর সময় কাটানোর জন্য সোহাগ পল্লী রিসোর্টে রয়েছে উন্নতমানের কয়েকটি কটেজ। যেখানে আপনি চাইলে রাত্রি যাপন করতে পারবেন। কটেজগুলোর ঠিক সামনে দিয়ে বয়ে গেছে লেক। একটি সুইমিং পুল আর কনফারেন্সের জন্য হলরুমও আছে। সার্বক্ষণিক সেবা দেয়ার জন্য রয়েছে ৪০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। খাওয়া দাওয়ার জন্য রয়েছে জলের উপর নির্মিত উন্নতমানের রেষ্টুরেন্ট। সঙ্গ দিতে থাকছে লাইভ মিউজিকের ব্যবস্থা। জনপ্রতি ৫০ টাকার টিকিটেই পুরো পার্ক ভ্রমণ করতে পারবেন।

কীভাবে যাবেনঃ

রাজধানী শহর হতে ৪৯ কিলোমিটার দূরে সোহাগ পল্লী রিসোর্ট। ঢাকা থেকে দুইভাবে যাওয়া যায় সেখানে। জয়দেবপুর থেকে সফিপুর হয়ে কিংবা সাভার নবীনগর ইপিজেড হয়ে। আব্দুল্লাহপুর থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে করে যেতে পারেন আবার সাভার থেকে ধামরাইগামী বাসে করেও যেতে পারেন। তবে নিজস্ব পরিবহনে বা ভাড়া করা গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করাই সবচেয়ে ভালো।