ময়মনসিংহ জাদুঘর| ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ

0
31

প্রাচীনকাল থেকে এ জনপদ বিভিন্ন কারণে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। অনেক জমিদার ছিলেন এ অঞ্চলে। কালের পরিক্রমায় তাদের অনেক দুর্লভ ঐতিহাসিক নিদর্শন ইতিমধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তাই এ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের জন্য ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহ জাদুঘর।

জাদুঘরটি ১৯৬৯ সালে ময়মনসিংহের তৎকালীন ডেপুটি-কমিশনার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[৩] প্রথমদিকে ময়মনসিংহ পৌরসভা এটির তদারকি করলেও ১৯৮৯ সালে জাদুঘরটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীন নিয়ে আসা হয়[৪]। ১৯৯৫ সালের গ্যাজেটে জাদুঘরটি সরকারিভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখানের সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদের মধ্যে গৌরীপুর জমিদার বাড়ি থেকে সংগৃহীত জিনিসপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- কাঠের পার্টিশন, সোফাসেট, শ্বেত পাথরের তৈরি টেবিল, কালো পাথরের তৈরি টেবিল টপ, ফুলদানি রাখার স্ট্যান্ড, কাঠের তৈরি বাড়ির মডেল ইত্যাদি। মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি থেকে সংগৃহীত জিনিসপত্রগুলোর মধ্যে লোহার বল্লম, বলছিড়া, রামদা, খক্ষ, গণ্ডারের চামড়া, বন্য গরুর শিং ও চীন দেশের পাহাড়ি বাড়ির মডেল। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

সংরক্ষিত বস্তুর মধ্যে রয়েছে পাণ্ডুলিপি ও বিভিন্ন ধরণের মুদ্রা যদিও অধিকাংশ বস্তুই প্রদর্শনী বাক্সের অভাবে প্রর্দশন করা হয়নি। এছাড়াও রয়েছে ময়ূরের মমি যা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ কর্তৃক দান করা হয়েছিল। ১৯৯৯-২০০১ সালের সংস্কারের সময় সংরক্ষিত বাঁশ ও বেতের জিনিসপত্র, পাখির মমি, আলোকচিত্র ও স্থানীয় বিভিন্ন লোকগীতির ক্ষতি সাধিত হয়েছিল।

কিছু বস্তু জামিদার বাড়ি থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা হয়েছিল। মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি থেকে সংগৃহীত বস্তুর মধ্যে রয়েছে পাথর ফুলদানি, কম্পাস, প্রাচীন ঘড়ি, অলঙ্কার, মৃত্শিল্প, মেশিন বয়ন, ফুলদানি, মোমের ঘোড়া, লোহার তাক এবং ক্রীড়া সামগ্রী; খোদাই-করা ভাস্কর্য সরস্বতী, বিষ্ণু; প্রাকৃতিক ইতিহাস আইটেমের মধ্যে বাঘের মাথা, দুই হরিণের মাথা, এবং একটি বন্য ষাঁড়ের মাথা অন্তর্ভুক্ত। গৌরীপুর জমিদার প্রাসাদ থেকে সংগ্রহ করা বস্তুর মধ্যে রয়েছে হাতির মাথা, সোফা সেট, ইতালীয় মূর্তি ও শিকারে ব্যবহৃত যন্ত্রাদি। এছাড়াও জাদুঘরটিতে গ্রাম্য অনেক চিত্রকর্ম রয়েছে।

কিভাবে যাবেনঃ-

সড়ক পথে ঢাকা হতে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১২১ কিলোমিটার এবং রেলপথে ঢাকা হতে ময়মনসিংহ রেল স্টেশনের দূরত্ব ১২৩ কিলোমিটার। ঢাকার সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে ময়মনসিংহে আসার সরাসরি দুরপাল্লার এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস আছে; এগুলোতে সময় লাগে ২.৩০ হতে ৪.০০ ঘন্টা।

ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনে সরাসরি ময়মনসিংহে আসা যায়। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন ময়মনসিংহের পথে যাতায়ত করে। ময়মনসিংহ শহরের ব্রীজ মোড় থেকে অটোতে জাদুঘরে যাওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here